শুক্রবার, জুলাই ২৮, ২০১৭

আমাদের কণ্ঠস্বর

প্রধান ম্যেনু

তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম

এবার সিমেন্ট ছাড়া ঢালাই, ধসে পড়ল স্কুল ভবনের সিঁড়ি !!

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের নবীনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের ২য় তলার সিঁড়ি ধসে পড়েছে। এ ঘটনায় মোক্তার আলী নামের এক রাজমিস্ত্রি শ্রমিক আহত হয়েছেন।

আহত মোক্তার আলী কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে। আজ শনিবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই ভবন নির্মাণের ঠিকাদার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ও অভিভাবকরা। গত ২২ ডিসেম্বর ২য় তলার ওই সিঁড়ি ঢালাই করা হয়েছিল।

স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, পিইডিপি-৩ প্রকপ্লের আওতায় ৬৩ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্ধে গত বছরের মে মাসে কাজ শুরু করে তামান্না এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে এই ভবনের নির্মাণ কাজ ভাগ করে নেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার মোনায়ামে হোসেন মুলাক। কাজের প্রথম থেকে সিমেন্ট কম দেওয়া, দুর্বল ইট ব্যবহার করাসহ নানা অনিয়ম করলেও ঠিকাদার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা কথা বলার সাহস পায় না।

স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক ও শিক্ষকরা এ অনিয়মের প্রতিবাদ করলে কয়েকজন শ্রমিককে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এমনকি তাদের কয়েকদিন পারিশ্রমিকও পরিশোধ করা হয়নি। শিক্ষকরাও প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের সাথে ঠিকাদার পক্ষের লোকজনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

তারা আরো জানান, এ ঘটনার সময় নির্মানাধীন ২য় তলা ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের জন্য সাটারিংয়ের কাজ শেষে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে ঢালাই করা সিড়ি ধসে নিচে পড়ে যায়। এ সময় বিদ্যালয়ের পুরাতন টিনশেডে ক্লাস চলছিল। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে এদিক ওদিক পালাতে থাকে।

এদিকে খবর পেয়ে গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুল হক ঘটনাস্থলে গেলে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন। তখন তিনি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে স্থানীয়রা শান্ত হন।

জাহিদুর রহমান নামের এক অভিভাবক জানান, দুর্নীতি করে টাকা-পয়সা খেয়ে ইঞ্জিনিয়াররা না দেখে এই বিল্ডিং বানাচ্ছে। নিস্পাপ শিশুরা কোন পাপ করেনি তাই বিল্ডিং চালু হওয়ার আগেই হয়তো এটা ভেঙ্গে গেল। এই স্কুলের বিল্ডিং নতুন করে ভালো ভাবে তৈরি করা না হলে আমাদের ছেলে-মেয়েদের আর স্কুলে পাঠাব না।

এ প্রসঙ্গে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নুরুন নাহার শেলী বলেন, ঠিকাদার ঠিকমত সিমেন্ট, রড ও ভালো ইট না দেওয়ায় ঢালাইয়ের দু’সপ্তাহ পরেই সিঁড়িটি ভেঙে গেল। এ সকল অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে ঠিকাদার এম এ খালেকের লোকজন শিক্ষকদের নানা রকম হুমকি দিত। গত ২২ ডিসেম্বর ২য় তলার সিঁড়ি ঢালাইয়ের কাজ করা হয়।

বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি জাবের আলী বলেন, তিনি এই স্কুলকে জমি দান করেছিলেন। স্কুলের ভবন তৈরি করার সময় দরপত্রের সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করায় আমি প্রতিবাদ করেছিলাম এবং কাজ ঠিকমত দেখে নেওয়ার জন্য ব্যক্তিগত খরচে দুজন শ্রমিক রেখেছিলাম। তারপরও আমার কথা না মেনে তারা উল্টো নানা রকম ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের চাপে পড়ে আমি সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি।

বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি সুমন আলী বলেন, অনিয়ম করে বিল্ডিং করা হয়েছে। এই ভবন নতুন করে পুনরায় করার দাবি করেন তিনি। তা না করা হলে স্থানীয় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এখানে লেখাপড়া করতে পাঠাবে না।

এ ব্যাপারে এলজিইডির গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুল হক বলেন, সিডিউল অনুযায়ী যে পরিমাণ সিমেন্ট দেওয়ার কথা ছিল তার থেকে অনেক কম দেওয়া হয়েছে। যে কারণে বালু, সিমেন্ট ও খোয়া কংকিটটা জমাট বাধতে পারেনি। এ কারণে ধসে পড়েছে।

তিনি আরো জানান, ২য় তলার এই সিঁড়িটি ঢালাইয়ের সময় তাদের কাউকে না ডেকেই ঢালাই করা হয়েছে। ফলে ওই কাজে সিমেন্টে যথেষ্ট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের ফলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ওই ভবন নির্মাণ কাজের ঠিকাদার ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক ওই ভবনের কাজ তিনি করেননি বলে জানান। তিনি বলেন, তামান্না এন্টার প্রাইজের চারটি কাজের মধ্যে নবিনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনসহ দুটি কাজ ঠিকাদার মোনায়েম হোসেন মুলাক করছেন।

এম এ খালেকের অভিযোগ অস্বীকার প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুমন আলী বলেন, ঠিকাদার মোনায়েম হোসেন মুলাক তার ব্যবসায়িক পার্টনার । এম এ খালেক এটা অস্বীকার করতে পারেন না।

অপরদিকে এ বিষয়ে ঠিকাদার মোনায়েম হোসেন মুলাক বলেন, রাজমিস্ত্রিদের (শ্রমিকদের) ভুলে সিঁড়ি ভেঙ্গে গেছে। সিমেন্ট কম দিয়েছেন কেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শ্রমিকরা সিমেন্ট বিক্রি করে খেয়েছেন। প্রকৌশলী ছাড়া ঢালাই করার কথা বললে তিনি বলেন, প্রকৌশলীসহ তিনি ওই দিন অন্য কাজে ছিলেন।

এ ব্যাপারে মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) পরিমল সিংহ বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত জানতে পারেননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

ঘুষের টাকাসহ নৌ পরিবহন অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী গ্রেফতার

ঘুষের ৫ লাখ টাকাসহ নৌ পরিবহন অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী ওবিস্তারিত পড়ুন

সৎমেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের বিষয়ে আরমানের স্বীকারোক্তি শুনে বিস্মিত সবাই

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৎ মেয়েকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেনবিস্তারিত পড়ুন

মায়ের সহযোগিতায় মেয়েকে ধর্ষণ করতো আরমান, এখন দিচ্ছে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি

মায়ের সহযোগিতা নিয়ে সৎমেয়েকে ধর্ষণ করতেন বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজবিস্তারিত পড়ুন

  • নিজের মেয়েকে ৮ বছর ধরে ধর্ষণ করে গর্ভপাত নিউজ২৪ চ্যানেলের প্রকৌশলী সুমনের
  • রাজধানীতে আট বছর ধরে মেয়েকে ধর্ষণ করছে বাবা, অবশেষে আটক
  • যশোরে ৬ শিক্ষার্থীকে নগ্ন করলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক!
  • কিশোরগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের হাতে ধর্ষণের শিকার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী
  • নাটোরে বিয়ের ঘটকালী করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার নারী
  • ধর্ষিতাকে পেটানো হচ্ছে, চলছে উল্লাস!
  • ৬০ বছরের বৃদ্ধের ধর্ষণে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী
  • যুবলীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
  • হলি আর্টিজান হামলাঃ ‘পরিকল্পনাকারী’ মাহফুজ গ্রেপ্তার
  • পশুর মত আচরনঃ তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী, খেলছিল উঠানে, প্রতিবেশী ডেকে নিয়ে হাত-মুখ বেঁধে ধর্ষণ করেন !
  • যে কারনে ইভান চার দিনের রিমান্ডে
  • শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে ভগ্নিপতি গ্রেফতার