শনিবার, এপ্রিল ২১, ২০১৮

আমাদের কণ্ঠস্বর

প্রধান ম্যেনু

তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম

ক্ষমতাসীন জোটে অস্বস্তি ইনুর বক্তব্যে

শরিকদের ছাড়া আওয়ামী লীগ হাজার বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না, ফ্যা, ফ্যা করে ঘুরতে হবে- জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর এমন বক্তব্যে ক্ষমতাসীন জোট ১৪ দলে তোলপাড় চলছে এখনো। কিছুটা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে জোটে। নির্বাচনের এক বছরের মতো বাকি থাকতে এই ধরনের বক্তব্য কেন এলো, সেটাও জানা-বোঝার চেষ্টা করছেন নেতারা।

ইনু কেবল একদিন জনসভায় এই বক্তব্য বলেই থামেননি। তবে অতি সংবেদনশীল বলে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে সতর্ক আওয়ামী লীগ নেতারা। দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় তারা।

জোটের মধ্যে বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদের সম্পর্কে যে কিছুটা টানাপড়েন চলছে, সেটা বুধবার কুষ্টিয়ায় জাসদের সমাবেশে ইনুর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। পরদিন সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জোটের শরিকদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করতে আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রতি যে ইঙ্গিত করেছেন, তাতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলেই মনে করছেন শরিক দলের নেতারা।

শরিক দলের একাধিক নেতা ইনুর বক্তব্যের প্রতি কিছুটা সমর্থন জানিয়েছেন। তবে এই বক্তব্য সময়োপযোগী হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সন্দিহান তারা। তবে এমন বক্তব্যে জোটে প্রভাব পড়বে না বলেই বিশ্বাস নেতাদের।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত সরকারের মাঝামাঝি সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে বামপন্থি বিভিন্ন দলগুলোর সঙ্গে জোট করে আওয়ামী লীগ, যা ১৪ দল নামে পরিচিত। এই জোটে স্বাধীনতা উত্তর আওয়ামী লীগের কট্টর বিরোধী জাসদও যোগ দেয়। পরে মহাজোট সরকার গঠন করলে ইনুকে মন্ত্রী বানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যদিও জাসদ থেকে মন্ত্রী নেয়ায় সে সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিলেন, এর জন্য মাশুল দিতে হবে।

গত দুটি নির্বাচনে একসঙ্গে থাকা জোটে মনোমালিন্য আগামী নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, প্রতিদ্বন্দ্বী ২০ দলীয় জোট তার সুযোগ নেয় কি না-সে বিষয়টিও চিন্তা করছেন নেতারা। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে শরিক দলগুলোর মধ্যে মনোমালিন্য আর দ্বন্দ্ব-অবিশ্বাস ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে যে প্রভাব ফেলেছে, সেই বিষয়টিও ভুলে যাচ্ছেন না কেউ।

বুধবার কুষ্টিয়ায় সমাবেশে আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে ইনু বলেন, ‘আপনার ৮০ পয়সা থাকতে পারেন। আপনি এক টাকার মালিক না। যতক্ষণ এক টাকা হবেন না ততক্ষণ ক্ষমতা পাবেন না। আপনি ৮০ পয়সা আর এরশাদ, দিলীপ বড়ুয়া, মেনন আর ইনু মিললে তবেই এক টাকা হবে। আমরা যদি না থাকি তাহলে ৮০ পয়সা নিয়ে আপনারা (আ. লীগ) রাস্তায় ফ্যা ফ্যা করে ঘুরবেন। এক হাজার বছরেও ক্ষমতার মুখ দেখবেন না।’

পরদিন সচিবালয়ের করা সংবাদ সম্মেলনে এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন ইনু। বলেন, কুষ্টিয়ার জনসভায় তিনি যা বলেছেন, সেটা হলো ঐক্যের বিষয়ে আওয়ামী লীগকে সতর্ক করে দেয়া।

এই সংবাদ সম্মেলনে ইনু আরও বলেন, ‘কতিপয় নেতা ঐক্যকে খাটো করে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে থাকেন। ঐক্যের শরিকদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন এবং তাদের প্রতি তীর্যক মন্তব্য করেন। এটা ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।’

একই দিন কুষ্টিয়ার সমাবেশে দেয়া ইনুর বক্তব্যের তীর্যক জবাব দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তিনি (ইনু) নিজেও জানেন আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন করলে ফলাফলটা কী হবে।’

ইনু কেন এমন বক্তব্য দিলেন সেটি খতিয়ে দেখতে ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিমকে দায়িত্ব দেয়ার কথাও জানান ওবায়দুল কাদের।

ইনুর সঙ্গে কথা বলতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নাসিমও এমন বক্তব্যে বিব্রত। তিনি বলেন, ‘আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো কথা বলা ঠিক না। তবে ইনু সাহেবের এ বক্তব্যের কারণে আমাদের জোটের কোনো ক্ষতি হবে না। জোট আছে, থাকবে।’

১৪ দলের আরেক শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘উনি (ইনু) আচমকা একটি বক্তব্য ছুঁড়ে দিলেন। সেখানে আমাদেরকে দিলেন ২০ আবার সেখানে সংযুক্ত করলেন এরশাদকে। ১৪ দলীয় জোটে এরশাদ কখনোই ছিল না। এরশাদকে নিয়ে আমাদের মতপার্থক্য ছিল। এরশাদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন ইনু ভাই ও মেনন ভাই। ভোটের রাজনীতির কারণেই এরশাদকে প্রধানমন্ত্রী জোটে নিয়েছেন কিন্তু সেই এরশাদকে ২০ পয়সার মধ্যে নিয়ে এসে কতটা শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন সেটা আমি বুঝছে পারছি না।’

তবে ইনু যে অভিযোগ এনেছেন, তার সঙ্গে দ্বিমত করছেন না মল্লিক। তিনি বলেন, ‘অনেকেই আমাদের শরিকদের নিয়ে টিটকারি করেন। কিন্তু সেই সময় জোট না হলে আন্দোলন সংগ্রামের সাহস হতো না। সেই সময় আমরা রাস্তায় না নামলে কেউ রাস্তায় নামেনি।’

‘তবে এ সময় এমন বক্তব্য সময়োচিত হয়নি। তিনি (ইনু) আচমকা একটি বক্তব্য দিলেন। এর সাথে আমাদের জোটের কোনো সম্পর্ক নেই।’ বলেন তিনি।

জোটের আরেক শরিক গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার বলেন, ‘এ বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতির আওয়ামী লীগ ও জাসদের দ্বন্দ্বের কারণেই তিনি (ইনু) দিয়েছেন বলে আমি মনে করি, এর সাথে জাতীয় রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।’

এই বক্তব্য জোটের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নে এই নেতা বলেন, ‘তাদের (জাসদ) ভেতরে ভিন্ন কথা বা চিন্তা চেতনা আছে কি না তা আর কয়েক দিন না গেলে বুঝতে পারব না। এ বক্তব্যের সারমর্ম বুঝতে আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।’

কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, ‘বক্তব্য আংশিক সত্য কিন্তু এ সময়ে এ ধরনের বক্তব্য সমীচীন বলে আমি মনে করি না। সরকারে (হাসানুল হক ইনু) থেকে এমন বক্তব্য না দেয়াটাই শ্রেয় ছিল। বিষয়টা নিয়ে জোটের বৈঠকে আলোচনা হবে বলে আমি মনে করি।’

জোটের আকের শরিক তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু কন্যারও কোনো বিকল্প নেই। জোটের প্রতিটি দলেই একে অন্যের পরিপূরক। আমরা শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল। কিন্তু ব্যক্তি বিশেষের কোনো কারণে মনোমালিন্য থাকতেই পারে, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য থাকলে জোটের ফোরামেই বলা যায়।’

মাইজভাণ্ডারি বলেন, ‘ইনু ভাই ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই বলতে পারেন। কিন্তু ৮০ পয়সা, ২০ পয়সা কিংবা আমরা না থাকলে হাজার বছর ক্ষমতায় আসতে পারবে না- এ ধরনের কথাবার্তায় বিএনপি-জামায়াত লাভবান হবে বলে আমার বিশ্বাস। তবে এ বক্তব্য নিয়ে জোটে প্রভাব পড়বে না বলে আমি মনে করি।’

জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘যারা এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন, তারাই বলতে পারেন কেন তারা এ কথা বলেছেন। জোট করা হয়েছে একটি ন্যূনতম কর্মসূচির জন্য। জোটবদ্ধ হলে এ ধরনের মন্তব্য না করাই সমীচীন। তবে আমরা সব দলের সাথে সমঝোতা পূর্ণ রাজনীতিকেই বিশ্বাস করি এবং কোনো ব্যক্তির বক্তব্যে ১৪ দলীয় জোটের ঐক্য বিনষ্ট হবে না।’

জাসদের (একাংশ) সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘প্রথম কথা হলো এটা ওনার (ইনু) ব্যক্তিগত বক্তব্য, যার সাথে ১৪ দলের কোনো সম্পর্ক নেই। দ্বিতীয় কথা হলো, এ বক্তব্য দেখে আমার মনে হচ্ছে এক চাটুকারের ভারসাম্যহীন বক্তব্য এটা।’

জাসদের (ইনু) অংশের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার বলেন, ‘ইনু ভাই নিজের বক্তব্য নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন, তাই এ বিষয়ে আমি কী কথা বলব? এটা নিয়ে কম কথা বলা জোটের জন্যই ভালো।’

এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা: খালেদার জামিন বাতিল চেয়ে দুদকের আপিলের আবেদন

এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা পেয়ে কারাগারে থাকাবিস্তারিত পড়ুন

খালেদা জিয়া যাচ্ছেন আদালতে

আজ জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরাবিস্তারিত পড়ুন

বুধবার দুই মামলায় হাজিরা দেবেন খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বুধবার (১০বিস্তারিত পড়ুন

  • আবার আদালতে যাবেন খালেদা আজ
  • রাজনৈতিক আলাপনঃ সকালে নির্বাচন ডিক্লেয়ার করলে বিকেলে ‘উই আর রেডি’
  • যে কারনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সম্মেলন স্থগিত
  • মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন খালেদা
  • জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন খালেদা
  • ‘নির্বাচনে এলে বিএনপির এই দশা হতো না’
  • সুযোগ দিয়েই বিএনপির লাগাম টেনে ধরতে চায় আ.লীগ
  • সোহরাওয়ার্দীতে চলছে মঞ্চ তৈরিসহ আনুসঙ্গিক কাজ
  • স্থায়ী জামিন পাননি খালেদা জিয়া, শুনানি ১৬ নভেম্বর
  • অসমাপ্ত বক্তব্য দিতে আজ আদালতে যাবেন খালেদা
  • আদালত পরিবর্তন চেয়ে খালেদার আবেদন খারিজ