শনিবার, জুলাই ২০, ২০২৪

আমাদের কণ্ঠস্বর

প্রধান ম্যেনু

তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম

অন্ধ মায়ের বুকে ২৪ বছর পর এলো ফজলু!

কাঁদতে কাঁদতে যে আদরের সন্তানের খোঁজে অন্ধ হয়ে গেছেন বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ মা, সেই ফজলু মিয়াকে ২৪ বছরের বেশি সময় পর কাছে পেয়েছেন তিনি। অন্ধ মা আদরের ছেলের চোখে-মুখে হাত বুলিয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন। অস্ফুট স্বরে বলতে থাকেন, বা বা, মা মা করে। সঙ্গে ছিলেন ফজলুর বোন, মামাসহ অন্য আত্মীয়স্বজন। তাঁরাও দীর্ঘদিন পর ফজলুকে দেখতে পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী ইউনিয়ন পরিষদ রেস্টহাউসে ফজলুর পরিবারের এই মিলন হয়। এ সময় উপস্থিত ফজলুর বন্ধু, জামালপুর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

১৯৯৩ সালের ১১ জুলাই সিলেটের আদালতপাড়া থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় আটক করা হয়েছিল ফজলু মিয়াকে। এরপর পাগল আইনে তাঁর নামে মামলা করা হয়। ২০০২ সালে ফজলুকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। এই আদেশের পরও কেটে যায় ১৩টি বছর। তবু কারাফটক পার হতে পারেননি ফজলু। এরপর বিনা বিচারে কারাগারে থাকা ফজলু মিয়াকে ছাড়িয়ে আনতে ২০০৫ সালে হাইকোর্টে একটি রিট করে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র। তারপরও কারাগারেই থাকতে হয় ফজলুকে।

আদালতের চোখে কোনো অপরাধ না করেও এ পর্যন্ত অন্তত ১৯৭ বার আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছিল ফজলু মিয়াকে। গত ১৪ অক্টোবর তাঁর ১৯৮তম হাজিরার দিন বেলা ১১টায় সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম জহুরুল হক চৌধুরী দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য ও ফজলুর সহপাঠী কামাল উদ্দিন রাসেলের জিম্মায় জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পরদিন ১৫ অক্টোবর রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের নেতা ও ফজলুর গ্রামবাসী তাঁকে জেলগেটে সংবর্ধনা দেন। এরপর পাগল আইনে করা মামলা থেকে ২০ অক্টোবর খালাস পান ফজলু মিয়া।

জামালপুরের সদর উপজেলার ছাউনিয়া কামালখানপুর গ্রামে বিষু মিয়া ও মজিরুন বেওয়ার ছেলে ফজলু। ফজলুর বড় মামা আবদুল হালিম জানান, ১৯৭৭-৭৮ সাল থেকে ফজলু হঠাৎ করে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান। অনেক সন্ধান করেও তাঁর সন্ধান পাননি। ১৯৮৩ সালের দিকে তিনি ঢাকায় যান। পথে হঠাৎ কেউ মামা বলে ডাক দেন। তাকিয়ে দেখেন ফজলু। তিনি এখানে কেন জানতে চাইলে বলেন, তিনি এখানে সিলেটের গোলাম মাওলার মনিহারি দোকানে কাজ করেন।

ফজলুকে বলা হয়, তাঁর সন্ধানে তাঁর মা কাঁদতে কাঁদতে অস্থির। কবে বাড়ি যাবেন জানতে চাইলে বলেন, কিছুদিন পর যাবেন। ১৯৮৭ সালের দিকে ফজলু তাঁর দোকান মালিক গোলাম মাওলাকে নিয়ে বাড়ি যান। এরপর ১৯৯১ সালে ফজলু একা বাড়ি যান। চার-পাঁচদিন থাকার পর কাউকে কিছু না বলে ফজলু আবার চলে যান। তারপর আর ফজলুর সন্ধান পাননি। ভেবেছিলেন ফজলু হয়তো মারা গেছেন।

ফজলুর ছোট বোন হামিদা বানু জানান, ভাই নিখোঁজের পর তাঁর মা শোকে কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে গেছেন। তাঁরা পাগলপ্রায় হয়ে বিভিন্ন স্থানে খুঁজেছেন। কিন্তু ভাই ফজলুকে পাননি। হামিদা বানু বলেন, ‘আজ আমার অনেক শান্তি লাগছে। পরান জুড়িয়ে গেছে। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।’

এদিকে পরিবারের কাছে ফজলুকে ফিরিয়ে দিতে পেরে নিজের সন্তুষ্টির কথা আবেগজড়িত কণ্ঠে জানান আদালত থেকে ফজলুর জিম্মাদার কামাল উদ্দিন রাসেল। তিনি জানান, ফজলুর মা চোখে দেখতে পারেন না। কিন্তু মা তাঁর অন্তর্চোখ দিয়ে তাঁর ছেলেকে দেখেছেন। ফজলুকে পাওয়ায় তিনি সাংবাদিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।

এদিকে জামালপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) জ্যোতিশ্বর পালকে ফজলুর মায়ের সঙ্গে তেতলী ইউনিয়ন পরিষদ রেস্টহাউসে পাঠানো হয়। তিনি জানান, ফজলুর দীর্ঘ এ পরিবার বিচ্ছেদের পর পুনর্মিলনে থাকতে পেরে তিনিও অনেক খুশি।

এনডিসি বলেন, জামালপুরের জেলা প্রশাসক মো. শাহাবুদ্দিন খান সাংবাদিকদের মাধ্যমে ফজলুর ঘটনা জানতে পারেন। তিনি ফজলু মিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি সিলেটে ফজলু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করেন। ফজলু মিয়াকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক ও আইনগতসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন এনডিসি।

এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

সিলেটে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

দ্বিতীয় দফার বন্যায় সিলেট অঞ্চলে সাত লক্ষাধিক মানুষ এখনও পানিবন্দি।বিস্তারিত পড়ুন

সিলেটে ৯ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ফেঞ্চুগঞ্জে  দুটি বগি লাইনচ্যুতবিস্তারিত পড়ুন

সিলেট বিভাগের বন্যা ভয়ঙ্কর রুপ নিচ্ছে

গত কয়েকদিনের অবিরত হালকা ও ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি এবং ভারতবিস্তারিত পড়ুন

  • অনাবৃষ্টি, তীব্র রোদে সংকটে সিলেটের চা-বাগানগুলো
  • বানিয়াচং উপজেলায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে, ৩ জনে মৃত্যু
  • হবিগঞ্জে ট্রাক-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে ৫ জন নিহত
  • মৌলভীবাজারে ২৯০ বস্তা ভারতীয় অবৈধ চিনি জব্দ
  • বাঁধ নির্মাণ শুরু হয়নি হাওরে, নীতিমালা বদলালেও
  • নিহতদের পাঁচজনই মাদ্রাসাছাত্র: পাথর তুলতে গিয়ে
  • সিলেটে বন্যার উন্নতি হলেও পিছু ছাড়ছে না দুর্ভোগ
  • সিলেটে দোকানে দোকানে পানি, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত
  • সিলেটে মৃদু ভূমিকম্প
  • সিলেটে ঢলের পানিতে শিশুসহ চার ও বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু
  • ১০ ঘণ্টা পর সিলেটের পথে রেল চলাচল শুরু
  • সিরাজগঞ্জে ‘খাদ্যে বিষক্রিয়ায়’ মা-ছেলের মৃত্যু