মঙ্গলবার, জুন ১৮, ২০২৪

আমাদের কণ্ঠস্বর

প্রধান ম্যেনু

তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম

দলীয়তে আপত্তি থাকলেও মাঠ ছাড়বে না বিএনপি

মাহমুদ আজহার : দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আপত্তি থাকলেও মাঠ ছেড়ে দেবে না বিএনপি। দলটি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘অসৎ পরিকল্পনা’ মনে করলেও বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেবে না। বছরের গোড়ায় সরকারবিরোধী ‘ব্যর্থ’ আন্দোলনের সুবাদে সরকারের চাপের মধ্যে থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ভিতরে ভিতরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। অবশ্য বিএনপির হাইকমান্ড থেকেই ‘সবুজ সংকেত’ রয়েছে। লন্ডন যাওয়ার আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বলেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল হয়। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতার পরিবর্তন হয় না। তাই এ নির্বাচনে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের যে কেউ অংশ নিতেই পারেন।

বিএনপি প্রধানের এমন বক্তব্য পাওয়ার পর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আসন্ন পৌরসভা-ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জনগণের কাছেও যাচ্ছেন তারা। তবে বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফিরলেই বিষয়টি নিয়ে নীতিগত অবস্থান জানানো হবে। অবশ্য গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরপর তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি ও বিরোধী জোটকে নির্বাচন এবং রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই দলীয় সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এভাবে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার বিদেশিদের বুঝাতে চায় যে, তাদের প্রতি জনসমর্থন রয়েছে।’

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গতকাল বিকালে প্রতিবেদককে বলেন, ‘চেয়ারপারসন দেশে ফিরলেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করা হবে। এ নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে সলাপরামর্শ করেই চেয়ারপারসন সিদ্ধান্ত নেবেন।

জানা যায়, ‘ভোট ছিনতাইয়ের শঙ্কা’ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়ভাবে এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলটির। এ ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে ইতিমধ্যেই মৌখিক নির্দেশনাও পাঠানো হয়েছে তৃণমূলে। সেই নির্দেশনা পেয়েই স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

সোমবার দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপকালে তারা সবাই বলেন, ‘এ ব্যাপারে বিএনপির হাইকমান্ডও ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।’ নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা যায়, আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ২৪৫টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এ ছাড়া সারা দেশের সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করারও চিন্তা করছে ইসি। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত নির্বাচন কমিশন। নভেম্বরের শেষ দিকে এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায় সূত্রে জানা যায়, আগামীতেও স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনেই অংশ নেবে বিএনপি। সেটা দলীয়ভাবে হোক আর নির্দলীয় হোক। কারচুপি কিংবা ভোটকেন্দ্র দখলের নির্বাচন হলেও ক্ষমতাসীন দলকে মাঠ ছেড়ে দেবে না সাবেক এই শাসক দল। আগামীতে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির সর্বশেষ অবস্থা জানান দিতে চায় দেশবাসীকে। সেইসঙ্গে যাচাই করবে নিজেদের জনপ্রিয়তা।

নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের নানা অনিয়ম ও ভোট কারচুপির চিত্রও জাতির সামনে তুলে ধরতে চায় বিএনপি। এটা আন্দোলনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে দলের বেশিরভাগ নেতা-কর্মী মনে করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো মোটামুটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে অধিকাংশ পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিএনপির প্রার্র্থীরা বিজয়ী হবেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র এক নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, জাতীয় নির্বাচন আর স্থানীয় সরকারের নির্বাচন এক নয়। তাই যত ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিই থাকুক না কেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাবে বিএনপি। ভোটের দিন পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনের লড়াইয়ে থাকবে। আমরা আশা করছি, সরকারের বোধোদয় হবে। অতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে ধরনের ভোট ডাকাতি করেছে, তা আর ভবিষ্যতে হবে না। এটা হলে দেশে-বিদেশে সরকারের ভোটারবিহীন নির্বাচনের ইমেজ সেই আগের মতোই থাকবে।

জানা যায়, পৌরসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও ইতিমধ্যে জেলাপর্যায়ে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামের প্রাথমিক তালিকা তৈরির কাজ চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও গণসংযোগসহ অন্যান্য প্রস্তুতির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সমর্থন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। দলীয় ও স্থানীয় সভা-সমাবেশ, ধর্মীয় এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত শরিক হচ্ছেন তারা।

এলাকায় দলীয় সমর্থন পেতে আগভাগেই দলের সিনিয়র কিংবা প্রভাবশালী নেতাদের আস্থাভাজন হওয়ারও চেষ্টা করছেন। যারা মামলার কারণে এলাকায় যেতে পারছেন না, দলীয় নেতা-কর্মী ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। কঙ্বাজার পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ। তিনি বর্তমানে কঙ্বাজারের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরও। প্রতিবেদককে তিনি জানান, ‘নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। দল যদি সমর্থন দেয় তাহলে অবশ্যই আমি নির্বাচন করব। এখানে জনগণও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য অধীর অপেক্ষায় আছে।’

পঞ্চগড়ের ৩ নম্বর তেঁতুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী শাহাদাত হোসেন রঞ্জু এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। জনগণের সঙ্গে কথা বলছি। আশা করি, দলও আমাকে সমর্থন দেবে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে বিএনপি বিজয়ী হবে ইনশাল্লাহ।’ একই অবস্থা পঞ্চগড় সদরেও। পঞ্চগড় সদর পৌরসভা চেয়ারম্যান পদে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি সমর্থিত বর্তমান চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম। তিনি দল ও জনগণের কাছে এ ব্যাপারে সহযোগিতা চাচ্ছেন। বগুড়া জেলা বিএনপি সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি। দল যদি নির্বাচনে অংশ নেয় তখন পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব। এখানে দলের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত।-বিডিপ্রতিদিন

এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে রদবদল

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে, জাতীয় কাউন্সিলবিস্তারিত পড়ুন

বিএনপির টপ টু বটম দুর্নীতিতে জড়িত: কাদের

‘বিএনপি টপ টু বটম সবাই দুর্নীতিবাজ বলেছেন,  আওয়ামী লীগ সাধারণবিস্তারিত পড়ুন

চার্জ গঠন বাতিল চেয়ে রিট করবেন ড. ইউনূস

 শ্রমিক-কর্মচারীদের লভ্যাংশ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড.বিস্তারিত পড়ুন

  • চার্জ গঠন বাতিল চেয়ে রিট করবেন ড. ইউনূস
  • আদালতে লোহার খাঁচায় থাকা অপমানজনক: ড. ইউনূস
  • বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশাকে মর্যাদা দেবে ভারতের নতুন সরকার : ফখরুল 
  • ৫৩ বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ ১০৬ জনকে সম্মাননা দিল ‘আমরা একাত্তর’
  • আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন বেনজীর : মির্জা ফখরুল
  • সফলতা না আসা পর্যন্ত বিএনপির লড়াই চলবে: ফখরুল
  • সফলতা না আসা পর্যন্ত বিএনপির লড়াই চলবে: ফখরুল
  • বিএনপির কর্মসূচি দমনে বেনজীর-আজিজ পুরস্কৃত হন: রিজভী
  • শেখ হাসিনার সরকার টেকসই উন্নয়নে বিশ্বাস করে
  • এমপি আনারের মূল হত্যাকারী আমানুল্লাই চরমপন্থি শিমুল ভূঁইয়া
  • ড. ইউনূসের জামিনের ৪ জুলাই পর্যন্ত মেয়াদ বাড়লো
  • সংসদ সদস্য নয়নের বিরুদ্ধে বক্তব্য ছিল কুরুচিপূর্ণ: বাক্কি বিল্লাহ