বুধবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৪

আমাদের কণ্ঠস্বর

প্রধান ম্যেনু

তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম

বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে ‘লড়াই’ করছে

দুই দফায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে ‘বিফল’, দল পুনর্গঠনে চ্যালেঞ্জ, শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত অসংখ্য নেতা-কর্মীর নামে মামলার খড়্গ, সর্বোপরি দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিভেদ আর মতৈক্য- ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসে এমন সব সংকটের মুখোমুখি দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি।

এসব সমস্যা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ‘লড়াই’ করছে দলটি।

দলের বিভিন্ন সূত্র, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত এবং দলীয় কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এমন সংকটের মুখে আর কখনো পড়েনি বিএনপি। যদিও এরশাদ সরকারের শাসনামলে এবং ১/১১ এর প্রেক্ষাপটে বৈরী সময় পার করেছে দলটি। অনেকেই মনে করেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে অনেকটা ব্যাকফুটে চলে গেছে বিএনপি।

এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, নির্বাচনে না গিয়ে সংসদের প্রতিনিধিত্ব হারিয়েছে তারা। যদিও বিএনপির নীতিনির্ধারকরা সব সময় দাবি করে আসছেন, নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। আর ৫ জানুুয়ারির নির্বাচনের ভোটাররা ভোট দিতে না যাওয়ায় সেটি আরো বেশি প্রমাণিত হয়েছে বলেও মনে করেন তারা। তবে দলের মধ্যে ক্ষুদ্র একটি অংশ এখনো মনে করে, সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনে যাওয়া উচিত ছিল।

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মনে করেন, তার দল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছে। আগামী নির্বাচনের আগে দল গুছিয়ে বিএনপি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে বলে রাইজিংবিডির কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের এক পটভূমিতে ৭ নভেম্বর ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন জিয়াউর রহমান। প্রথমে তিনি ১৯ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করেন, যা পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপিতে রূপান্তরিত হয়।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন জিয়াউর রহমান। তবে প্রতিষ্ঠার ৩৭ বছরের মধ্যে প্রায় ৩২ বছর ধরেই সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন দলটির বর্তমান চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে লন্ডনে বসবাসকারী দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবদান রাখছেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হলে দলটি প্রথমবারের মতো সংকটে পড়ে। তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার সাময়িক সময়ের জন্য সরকার ও দলের হাল ধরলেও ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদের সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। বিচারপতি সাত্তারের ক্ষমতাচ্যুতির পর বিএনপি প্রকৃত অর্থেই অস্তিত্ব-সংকটের মুখে পড়ে। মওদুদ আহমদসহ বিএনপির অনেক নেতাই জেনারেল এরশাদের সরকারে যোগ দেন। দলের সেই সংকটকালে ১৯৮৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিএনপির হাল ধরেন খালেদা জিয়া।

জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ ভূমিকা দলটিকে ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আনে বলে মনে করা হয়। এরপর ২০০১ সালে আবারও ক্ষমতায় আসে দলটি। রাজনীতিতে আসার পর খালেদা জিয়া মোট চারবার গ্রেফতার হলেও ১/১১ এর মতো সংকটে পড়েনি বিএনপি। সর্বশেষ ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগে পুত্রসহ গ্রেফতার হন তিনি। তবে সেই সময়ের চাপের মুখেও সংকট সামাল দিতে পেরেছে দলটি।

তবে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জনের পর এবং দুই দফায় সরকারবিরোধী আন্দোলন কার্যত ব্যর্থ হওয়ার পর পুরোনো রূপে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপির সামনে। স্বাধীনতার ৪৪ বছরে বেশিবার নির্বাচনে জিতে সবচেয়ে বেশি সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা এ দলটি এখন টানা প্রায় ৯ বছর ক্ষমতার বাইরে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ তৎকালীন ১৮-দলীয় জোট নির্বাচন প্রতিহতের আন্দোলনে নামে, যা এখন ২০ দলীয় জোটে রূপ নিয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, টানা ক্ষমতার বাইরে থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন দলটির নেতা-কর্মী। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া শত শত মামলার খড়্গ। সব মিলিয়ে দলের ভবিষ্যৎ প্রশ্নে নেতা-কর্মীরা ছন্নছাড়া হয়ে পড়েছেন। এদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দল পুনর্গঠনে হাত দিলে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মামলা। মামলার কারণে দলটির গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতা এখনো কারাগারে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামিন নিয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর হয়ে আমেরিকা গেছেন। কারাগারে আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভীসহ আরো অনেক কেন্দ্রীয় নেতা। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ধারণা ছিল, ঈদের আগে বা পরপরই অন্তত গ্রেফতার হওয়া ও হয়রানিমূলক বিভিন্ন মামলায় আসামি হয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়া শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা আগাম জামিন পাবেন। কিন্তু এখন আর সে রকম মনে হচ্ছে না। যারা গ্রেফতারের ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন তারা শিগগিরই জামিন পাচ্ছেন না। আদালতে হাজির হলে উল্টো কারাগারে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্প্রতি জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে দলটির বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা এম কে আনোয়ারকে।

এদিকে প্রতিনিয়তই বিএনপি তার আন্দোলনের শক্তি হারিয়ে ফেলছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলের অবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, একসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির মূল শক্তি ছাত্রদল ও যুবদল। যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে বিএনপির ‘ভ্যানগার্ড’ খ্যাত সেই ছাত্রদল এখন নির্জীব। অন্যদিকে যুবদল কার্যকারিতা হারিয়েছে অনেক আগেই। নেতৃত্ব কোন্দলে ত্রাহি অবস্থা সংগঠনটির। আন্দোলন সংগ্রামে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখা ঢাকা মহানগর। ব্যর্থতার অভিযোগে সাদেক হোসেন খোকাকে সরিয়ে মির্জা আব্বাস ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নেতৃত্বে কমিটি আনা হলেও তারা কার্যকর কিছু দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

দলের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনে সফলতা পেতে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে দলের ঐক্যবদ্ধ রূপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তেমনি চলমান আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে এই সরকারকে উৎখাত করতে হবে। ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সামনে দাঁড়িয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বিএনপি বাংলাদেশে মানুষের কাছে এখনো অনুকরণীয়। এই দল জ্বালাও-পোড়াও বিশ্বাস করে না। জাতীয়তাবাদের চেতনায় বাংলাদেশকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাজ জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় স্থাপন করে গেছেন। খালেদা জিয়া তা অনুসরণ করে যাচ্ছেন। আমরা যারা স্থায়ী কমিটির সদস্য আমরাও খালেদাকে পরামর্শ এবং তার নির্দেশ পালন করে যাচ্ছি। কাজেই কনস্টিটিউশনাল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ক্ষমতায় গেলেও জনগণ ও প্রশাসনের জন্য কাজ করে। বিএনপি জনগণের পার্টি। হত্যা, গুমের রাজনীতি বিশ্বাস করে না।’

বিএনপি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যম ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাসী জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা হয়নি বলেই বিএনপি গত নির্বাচনে যায়নি। এটার জন্যই আমরা সংগ্রাম করে যাচ্ছি। দেশে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল কোনো সরকার নেই। ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত হয়েছে। দেশে কোনো বিরোধী দল নেই। উন্নয়নের যে কাজগুলো হচ্ছে তাও সুচারুরূপে হচ্ছে না। কারণ, এ বিষয়ে বিরোধী দল সমালোচনা করতে পারে না। কাজেই একতরফাভাবে সরকার যা ইচ্ছে তাই করছে। আমরা সাংবিধানিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। এর মাধ্যমেই বিএনপি ঘুরে দাঁড়াবে।’

এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

শ্রমিক অধিকার নিয়ে নালিশের নিষ্পত্তি নভেম্বরে: আইনমন্ত্রী 

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরেবিস্তারিত পড়ুন

বিএনপির কেন্দ্রীয় ৩ নেতার পদোন্নতি

বিএনপিতে কেন্দ্রীয় কমিটির ৩ নেতার পদে রদবদল করা হয়েছে। মঙ্গলবারবিস্তারিত পড়ুন

বিএনপি মানে খাইখাই, আ.লীগ মানেই দেই-দেই: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি গণতন্ত্রের ভাষা বোঝে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগবিস্তারিত পড়ুন

  • ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, তাড়াহুড়োয় ভুল হয়ে গেছে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী
  • হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া
  • গুরুতর আহত মমতা, হাসপাতালে ভর্তি
  • সুপ্রিম কোর্টে মারামারি ঘটনায় ৩ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বরখাস্ত
  • কোস্ট গার্ডকে ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী
  • সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন: হট্টগোল-মারামারিতে ভোট গণনা বন্ধ
  • সত্যকে কখনও মিথ্যা দিয়ে ঢাকা যায় না: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘নিরাপত্তা নিশ্চিতে অন্যদের নিষেধাজ্ঞা গ্রহণযোগ্য নয়’
  • ঐক্যফ্রন্টের লিয়াজোঁ ও স্টিয়ারিং কমিটিতে আছেন যারা
  • লুটেপুটে খায় এমন প্রার্থীদের বর্জন করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
  • ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’
  • ডায়াবেটিস ও ব্যথায় ভুগছেন খালেদা জিয়া