মঙ্গলবার, মে ২৮, ২০২৪

আমাদের কণ্ঠস্বর

প্রধান ম্যেনু

তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম

মিরপুরে সিরিজ জয়ের চ্যালেঞ্জ

টানা ১০ দিনের বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে! যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক আছে কি-না তা দেখে নেওয়ার জন্য গতকাল বুধবার মিরপুরের জায়ান্ট স্ক্রিনে ছেড়ে দেওয়া হয় বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে সিরিজের ভিডিও হাইলাইটস! মূল মাঠ থেকে ইনডোরের দিকে যেতে যেতে সেদিকে চোখ চলে গিয়েছিল ডেল স্টেইনের। হয়তো ভাবছিলেন, এই মিরপুরের বাইশ গজেই কীভাবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ইতিহাস গড়েছে বদলে যাওয়া নতুন এক বাংলাদেশ দল।

আজ সেই একই মঞ্চে আরেকটি ইতিহাসের সামনে মুশফিকরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের সুযোগ! চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র হওয়ার পর ঢাকা টেস্টই এখন দুই দলের কাছে ফাইনাল ম্যাচ। আইসিসি র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর দলটির সঙ্গে নয় নম্বর দলের খেলা।

যারা শুধু সংখ্যা নিয়ে ক্রিকেটের অঙ্ক কষতে ভালোবাসেন, তারা হয়তো এই র‌্যাংকিংয়ের কথা শুনেই প্রোটিয়াদের লেটারসহ পাসমার্ক দিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু হাশিম আমলার মতো পোড়খাওয়া অধিনায়ক নিশ্চয়ই তা দেবেন না, ‘এই ম্যাচটি আমাদের দুই দলের জন্যই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ যেভাবে ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, তার পর তাদের নিয়ে প্রতিপক্ষ নিশ্চিন্ত থাকতে পারে না।’ হাশিম আমলার শান্ত মুখের মিষ্টি হাসির মধ্যে ‘দুশ্চিন্তা’ খুঁজে পাওয়া হয়তো মুশকিল, কিন্তু নেটে স্টেইন-মরকেলরা যেভাবে বাউন্সার দিচ্ছিলেন তা দেখে এটা স্পষ্ট, ঢাকা টেস্ট জিততে কতটা মরিয়া প্রোটিয়ারা। প্রতিপক্ষ যে স্নায়ুচাপে আছে, সেটা পড়ে নিয়েছেন মুশফিকরা।

তাই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গত নয় টেস্টে যা কখনও হয়নি, তা আজ থেকে শুরু হওয়া দশম টেস্টে এসে মুঠোবন্দি করতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘প্রথম টেস্ট ড্র হওয়ায় ওরা নিশ্চয় এই টেস্ট জেতার জন্য প্রচণ্ড চাপে রয়েছে। অন্যদিকে আমরাও চট্টগ্রাম টেস্টে প্রমাণ পেয়েছি যে, ওদের ২০ উইকেট শিকার করার মতো বোলার আমাদের হাতে রয়েছে। এ আত্মবিশ্বাসটা রেখেই আমাদের এই টেস্ট থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করতে হবে।

পাঁচ দিনের টেস্টের জন্য আমরা শারীরিকভাবে প্রস্তুত রয়েছি। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সেশনের পর সেশন ছন্দ ধরে রাখার জন্য মানসিক শক্তিরও দরকার পড়ে। আমার বিশ্বাস, সেটা আমাদের দলের রয়েছে, যা আমরা ওয়ানডেতেই দেখেছি- তিন ম্যাচ হারার পর সিরিজ জিতেছি।’ গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে ম্যাচ-পূর্ব কথোপকথনে এভাবেই ভেতরের আত্মবিশ্বাস তুলে ধরেন মুশফিক। জানিয়ে দেন, মৌসুমের শেষ টেস্টটা তারা স্মরণীয় করে রাখতে চান।

গত ডিসেম্বর থেকে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের যে সুবর্ণ সময় যাচ্ছে সেটাই মনে করিয়ে দিলেন মুশফিক, ‘আমরা কখনও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিততে পারিনি। অথচ কাল এমন একটা ম্যাচে নামতে যাচ্ছি, যেটা জিততে পারলে সিরিজটাও জেতা হবে। এমন সুযোগ খুব বেশি আসে না, যখন আসে তখন সেটা অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে।’ জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ৩-০-তে সিরিজ জয়, পাকিস্তানের সঙ্গে ১-০-তে হারলেও খুলনার সেই ঐতিহাসিক ড্র এবং ভারতের সঙ্গে ড্র- উন্নতিটা ওয়ানডের মতো দৃশ্যমান না হলেও প্রাপ্তিটা কম নয়। তবে এই টেস্টে দলের ব্যাটসম্যানদের কাছে বড় স্কোর আশা করছেন কোচ হাথুরুসিংহে। তামিম, ইমরুল, মুমিনুল, মুশফিকদের বলে দেওয়া হয়েছে, উইকেটে সেট হয়ে গেলে যেন স্কোরটা লম্বা করতে সচেষ্ট হন তারা।

ব্যাটিংয়ে দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের ওপরই বেশি ভরসা রাখছেন কোচ। ক্রিকেটীয় দক্ষতার চূড়ান্ত প্রমাণ মেলে টেস্ট ক্রিকেটে, তাই এখানে টপ অর্ডারের প্রত্যেক ব্যাটসম্যানকে আন-অর্থডক্স শট খেলা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তবে একাদশে একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান নেওয়ার পক্ষে টিম মিটিংয়ে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেছেন হাথুরুসিংহে। তাই আজ স্পিনার তাইজুলের বদলে অলরাউন্ডার নাসির হোসেনকে দেখা যেতে পারে কিংবা তাইজুলের পরিবর্তে পেসার রুবেল হোসেন। কী হবে তা অবশ্য আজ মিরপুরের ৪ নম্বর পিচ দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন মুশফিক। চট্টগ্রাম টেস্টে চার ব্যাটসম্যান, দুই অলরাউন্ডার, এক উইকেটরক্ষক আর চার বোলার নিয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ দল। চট্টগ্রামের পিচ স্পিন-সহায়ক থাকায় সাকিব আর তাইজুলের মতো দু’জন বাঁহাতি স্পিনার নেওয়া হয়েছিল।

মিরপুরে সে তুলনায় পিচ কিছুটা বাউন্সি। এখানে বল বুকসমান উঠতে পারে, সে আশায় তাইজুলের বদলে রুবেলকে ভাবনায় রাখা হয়েছে। অলরাউন্ডার বাড়ানোর ভাবনায় নাসিরও রয়েছেন। চট্টগ্রাম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকাকে যে ২৪৮ রানে অলআউট করা গিয়েছিল, তার পেছনে মুস্তাফিজের দারুণ একটি ওভারের ভূমিকা ছিল। বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুম মনে করে, অমন ওভার প্রতি ম্যাচে আসবে না। উইকেট শিকারে সাকিব, জুবায়েরকে বড় একটা ভূমিকা রাখতেই হবে। তাই কিউরেটর গামিনি ডি সিলভাকে অনুরোধ করা হয়েছিল, পিচ যেন কিছুটা স্পিন-সহায়ক হয়। হাতে মাত্র দু’দিন সময় থাকায় কিউরেটর খুব বেশি কাজ করতে পারেননি।

তাই ডেল স্টেইন আর মরনে মরকেলকে নিয়ে বাড়তি ভাবনা থাকছে কোচ হাথুরুসিংহের। এদের হাতে নতুন বলের ধারটা খর্ব করে দিতে পারলেই বড় একটা স্কোর সম্ভব বলে মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। স্টেইন আর একটি উইকেট পেলেই চারশ’ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করবেন। সাকিবও আর তিনটি উইকেট পেলে টেস্টে মোট ১৫০ উইকেট স্পর্শ করবেন। তাই এ দুই বোলারের জন্যই মিরপুর হতে পারে স্মরণীয় এক টেস্ট।

বাংলাদেশের মাটিতে কখনও টেস্ট হারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। এমনকি ২০০৬ সাল থেকে দেশের বাইরে কোনো টেস্ট সিরিজই হারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। গত নয় বছরে ১৪টি সিরিজ ধরে এ রেকর্ড নিয়ে বড় একটা অহঙ্কারবোধ রয়েছে প্রোটিয়াদের। সেখানে মিরপুরে তেমন কিছু হয়ে গেলে বিশ্বক্রিকেটে হৈহৈ পড়ে যাবে। এ অবস্থায় শুধু প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ নয়, প্রোটিয়ারা চিন্তিত মিরপুরের আকাশ নিয়েও। ওয়েদার বুলেটিন বলছে, নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে উপকূলে। তাই অঝোর বারিধারা এই টেস্টেও বিঘ্ন ঘটাবে। তাতে হয়তো দিনে কিছু ওভার কমে আসবে, তবে চট্টগ্রামের মতো গোটা দু’দিন বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়ার কোনো পূর্বাভাস নেই ঢাকা টেস্টে। এটুকু জেনেই যেন খুশি মুশফিক, ‘হার-জিত থাকবেই, তবে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা চাই। দেখিয়ে দিতে চাই, আমরা টেস্টেও উন্নতি করছি।’ ম্যাচ শুরুর আগে এমন কথা শুনে কেবল বলা হবে, খেলাটি হতে যাচ্ছে র‌্যাংকিংয়ের এক বনাম নয়ের মধ্যে!

এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

সানরাইজার্স-নাইট রাইডার্স আইপিএল ফাইনাল রোববার

প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েবিস্তারিত পড়ুন

আরও এক হারে সিরিজ খোয়ালো বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সিরিজ শুরু করেছিল  হার দিয়ে । এরপর শঙ্কা ছিলবিস্তারিত পড়ুন

বাংলাদেশ  এআই অলিম্পিয়াড এর জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত

আগামী বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কৃত্রিমবিস্তারিত পড়ুন

  • ৪০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন সাকিব
  • নিরাপদে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালো বাংলাদেশ দল
  • আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা
  • তাসকিন যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র
  • দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক নারী আম্পায়ার
  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪ : আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের নাম ঘোষণা
  • মুস্তাফিজের আইপিএল খেলার ছুটি বাড়িয়েছে বিসিবি
  • মুস্তাফিজকে স্বাগত জানাল চেন্নাই সুপার কিংস
  • তানজিদ-রিশাদের তাণ্ডবে সিরিজ জয় বাংলাদেশের
  • দুই নারী আম্পায়ারকে নিয়োগ দিচ্ছে বিসিবি
  • মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার ফাইনালে বাংলাদেশের নীলা
  • সিরিজ বাঁচার লক্ষ্যে