‘স্বীকার না করলেও বেগম জিয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন শেখ হাসিনা’
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও বেগম জিয়ার প্রস্তাবনা যতোটুকু সম্ভব বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন বলে মন্তব্য করছেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় ঐক্যজোটের অন্যতম শরীক দল বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক।
তিনি মনে করছেন: যেহেতু আওয়ামী লীগের সভাপতি ঘোষণা দিয়ে রেখেছে তার দল প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চায়না। তাই দলটির সামনে স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনে বিকল্প নেই। যদিও নির্বাচন কমিশন গঠনের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি তো সরকারের অনুমতি ছাড়া কবর জিয়ারত ছাড়া আর কিছুই করতে পারেন না। সরকার-ই শেষ কথা!
শেখ হাসিনা দলীয় কাউন্সিলে বলেছেন আওয়ামী লীগ প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চাই না। যে নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগকে কেউ প্রশ্ন করতে পারে। যেহেতু তিনি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চাইছেন না তাই তারা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন কমিশনও চাইতে পারেন না।
বেগম খালেদা জিয়া একটি রূপরেখা সামনে এনে দিয়েছেন। এখন সরকারকে একটি স্বাধীন শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে ভূমি রাখতে হবে।’
গতকাল রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একটি রূপরেখা তুলে ধরেন। ছিলো কিছু প্রস্তাবনা। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে খালেদার এই প্রস্তাবনাকে ‘অন্তঃসারশূন্য’ বলে নাকচ করে দেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন: আমাদের দেশের রাজনীতিতে কি দেখে?- বাক্যবাণের রাজনীতি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তার বাইরে যেতে পারেননি। আমি মনে করি বেগম জিয়ার প্রস্তাবনা গুলো বুঝে ওঠার আগেই তিনি মন্তব্য করেছেন। প্রস্তাবনা গুলো শুধু বিএনপির পক্ষ থেকে থাকলেও- এটাকে গ্রহণযোগ্য মনে করে আমাদের দল এটাকে পূর্ণ সমর্থন দেবে।
সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন চাইছেন বেগম খালেদা জিয়া। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন এতে সময়ক্ষেপণ ছাড়া আর কিছুই হবে। তবে তাদের সঙ্গে একমন হতে পারছেন না সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক। তিনি বলছেন: একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন চাইলে সকল দলের সঙ্গে আলোচনার বিকল্প নেই। হাতে তিন মাস সময় আছে। নির্বাচন কমিশন সকাল-বিকাল-রাতে দলগুলোর সঙ্গে বসুক। সর্বোচ্চ একমাস সময় লাগবে। এর বিকল্প নেই।
বেগম জিয়ার নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাবনা উত্থাপন শেষে এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের অনেকেই মন্তব্য করেন: বিএনপি এখন চাইছে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন। এটা তাদের জোর দাবি। একটা সময় তারা বলছিলো তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে না আনলে তারা নির্বাচনে আসবে না। পরবর্তীতে সে দাবি থেকে সরে এসে তারা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার দাবি তো। কিন্তু আজকের বক্তব্যের পর মনে হচ্ছে- একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন পেলে বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি থেকেও সরে দাঁড়াবে।
এ প্রসঙ্গে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন: এখনই ভবিষ্যতের কথা বলা যাবে না। বেগম জিয়া সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন-সঠিক সময়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা তুলে ধরা হবে। আর রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন আর রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মন্তব্য করেন। সেটাকে সামনে নিয়ে এগোলে তো আর চলবে না।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ক কোনো আইন নেই। শুধুমাত্র সংবিধানে বলা আছে, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। এরআগে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের উদ্যোগে একটি কমিটির মাধ্যমে বর্তমান কমিশন গঠন করা হয়েছিল। মেয়াদের শেষ হওয়ার কারণে এখন আবার নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ
ফের ২ দিন রিমান্ডে আনিসুল হক
রাজধানীর বাড্ডা থানার স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা আল-আমিন হত্যা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রীবিস্তারিত পড়ুন
আমির খসরু: নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “গণতন্ত্রেরবিস্তারিত পড়ুন
জামিন পেলেন সাবেক বিচারপতি মানিক
অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের সময় সিলেটের কানাইঘাটের ডোনা সীমান্ত এলাকা থেকেবিস্তারিত পড়ুন