শনিবার, জুন ২২, ২০২৪

আমাদের কণ্ঠস্বর

প্রধান ম্যেনু

তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম

৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা

৫ বছরে বদলে যাবে দেশ

বিশেষজ্ঞদের প্রায় দুই বছরের গবেষণা, মাঠকর্ম, মতবিনিময়সহ নানা দিক বিশ্লেষণ করে আগামী ৫ বছরে উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে অন্য এক উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের চেহারাই বদলে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবকিছু বিশ্লেষণ করে আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে চূড়ান্ত পরিকল্পনাটি। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

এর আগে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীর নিকট পরিকল্পনাটি পেশ করা হয়। সর্বশেষ একটি একনেক মিটিং পরিকল্পনার খসড়া দেখে প্রধানমন্ত্রী কৃষির ওপর গুরুত্ব আরোপের নির্দেশ দেন। চূড়ান্ত পরিকল্পনা পেশ করার আগে খসড়ায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দিকনির্দেশনা নিয়ে মিটিং করেছে স্টিয়ারিং কমিটি।

জানা গেছে, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা দলিলের খাতভিত্তিক কৌশল কর্মসূচি এবং নীতিসমূহ ১৩ সেক্টরের আওতায় প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এগুলো হলো : সাধারণ নাগরিক সেবা, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবাসমূহ, কৃষি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পরিবহন ও যোগাযোগ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, পরিবেশগত সুরক্ষা, গৃহায়ণ ও কমিউনিটি সুবিধাসমূহ, স্বাস্থ্য, বিনোদন সংস্কৃতি ও ধর্ম, শিক্ষা ও প্রযুক্তি এবং সামাজিক সুরক্ষা।

সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) সূত্রে জানা যায়, ছয়টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টেকসই উন্নয়নের রূপকল্প বলা হচ্ছে প্রণীত সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাকে।

এদিকে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম বাংলামেইলকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিকল্পনাটির খসড়া তৈরি করেছি। এখন শুধু অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পরিকল্পনা। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল মনে করেন দেশের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানেই এ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এডিপির আকার যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে পরিকল্পনা মোতাবেক সঠিক বাস্তবায়ন হলে দেশের চেহারা বদলে যাবে। প্রণীত রূপকল্পে কোনো বিষয়ই অসঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাই বাস্তবায়নও অসম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সারাদেশে সমান উন্নয়ন করা হবে। অর্থনীতির সুষম বণ্টনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এডিপির আকার বেড়েছে, অনেক বড়বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। সরকার একদিকে শিক্ষার বিস্তার ও দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য বহু প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। সবদিক থেকে দেশের উন্নয়ন হলে ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়ন সম্ভব।

এর আগে একনেক মিটিং খসড়ার প্রাথমিক পর্যালোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুড প্রসেসিং, কৃষি যান্ত্রিককরণ, কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশের জন্য করণীয় বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় আনতে বলেছেন।

কৃষিখাতকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা বাড়াতে আমাদের কৃষিতে নজর দিতে হবে। খাদ্যঘাটতি থাকা যাবে না। সামাজিক নিরাপত্তাকে আরো গুরুত্ব দিতে বলেছেন তিনি।

জিইডি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৫ বছরে দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৮ শতাংশ। অর্থবছরভিত্তিক ২০১৫ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০১৬ অর্থবছরে ৭ শতাংশ, ২০১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ, ২০১৮ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, ২০১৯ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পরিকল্পনার শেষ অর্থবছরে (২০২০ সালে) প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৮ শতাংশে।

এ ছাড়া ৫ বছরে দেশের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থবছরভিত্তিক এ লক্ষ্য হচ্ছে ২০১৫ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০১৬ অর্থবছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশ, ২০১৭ অর্থবছরে ৬ শতাংশ, ২০১৮ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০১৯ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২০ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পুরোটা বাস্তবায়নের জন্য (২০১৬-২০২১) ব্যয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩১ লাখ ৯০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ ব্যয়ের লক্ষ্য। মোট ব্যয়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আয় ধরা হয়েছে ২৮ লাখ ৪৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ৩ লাখ ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আগামী ৫ বছরে মোট যে ব্যয়ের (বিনিয়োগ) লক্ষ্য ধরা হয়েছে তার মধ্যে সরকারি ব্যয় ৭ লাখ ২৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং বেসরকারি খাত (বৈদেশিকসহ) থেকে ২৪ লাখ ৬৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে শেষ হতে যাওয়া ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গত পাঁচবছরে ব্যয়ের যা লক্ষ্য ছিল তার চেয়ে আগামী পাঁচবছরে ব্যয় হবে দ্বিগুণেরও বেশি।

পরিকল্পনাতে অন্যতম প্রধান লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য প্রায় ৬.২ শতাংশ কমিয়ে ২৪.৮ শতাংশ থেকে ১৮.৬ শতাংশে আনা। প্রাথমিক শিক্ষার হার শতভাগ এবং দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার হার ৬০ শতাংশে উন্নীত করা; ৫ বছরের নিচে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৫০ জনে নামিয়ে আনা, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২ শতাংশে নামিয়ে আনা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ২৩ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা, গবেষণা ও উন্নয়নে সরকারি ব্যয় জিডিপির ১ শতাংশে উন্নীত করা এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় তথ্য-প্রযুক্তি (আইসিটি) বাধ্যতামূলক করা।

এদিকে ৫ বছরে ১ কোটি ২৯ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য র্নিধারণ করা হয়েছে। অশিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিতদের জন্য আলাদাভাবে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এর মধ্যে শ্রম অধিদপ্তরের আওতায় একটি প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছে সরকার। একই সাথে শ্রমঘন শিল্প-কারখানাকে আরো প্রসারিত করার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা হবে।

দেশের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, সম্ভাবনা ও সমস্যা চিহ্নিত করে আগামী দিনের করণীয় ঠিক হয়েছে পরিকল্পনায়। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ে পৌঁছানোর জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে কিছু মানদণ্ডও স্থির করা হয়েছে। সে মোতাবেক তৈরি করা হয়েছে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল এবং ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত করণীয় বাস্তবায়নে নির্দেশনা আছে এতে।

জানা গেছে, মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছানোর জন্য মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী দুই ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিস্থিতি বিশেষ করে এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক নির্দেশকের যে অগ্রগতি দরকার, তাই করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রায় দেড় বছর ধরে অর্থনীতিবিদ, গবেষক, উন্নয়নকর্মী এবং বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অথনীতি বিভাগ। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে সমন্বয় করেন কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম। খসড়া প্রণয়নে ১৫টি অধ্যায়ভিত্তিক ও পরামর্শসভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

ঢাকা মেডিকেলে আটক ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা

ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল (ঢামেক) থেকে আটককৃত ভুয়া চিকিৎসক রিপা আক্তারেরবিস্তারিত পড়ুন

সিরাজদিখানে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আগামী ২৩ জুন বাংলাদেশবিস্তারিত পড়ুন

ছুটি শেষে স্বস্তিতে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ, বেড়েছে ঢাকাগামী যানবাহনের চাপ

স্বজনদের সঙ্গে ঈদুল আজহার ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেবিস্তারিত পড়ুন

  • পাঁচ দিনেও অপসারণ হয়নি কোরবানির বর্জ্য, অস্বস্তিতে বনশ্রীবাসী
  • আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপিকে দাওয়াত
  • সিলেটে বন্যার পানি কমলেও পানিবন্দি রয়েছে ১০ লাখ মানুষ
  • রাসেলস ভাইপার নিয়ে আতঙ্ক না ছড়িয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
  • চাঁদপুরে যৌথ অভিযানে ১১ মণ জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ
  • সুইস ব্যাংকে কমছে বাংলাদেশিদের আমানত, কী কারণ?
  • নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে নয়া দিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
  • উসকানি দিলে যুদ্ধে জড়াবো না: ওবায়দুল কাদের
  • রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা
  • ১৪ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৬৪ কোটি ডলার
  • আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তেমন অভিযোগ আসেনি, হলে বিচার হবে: ওবায়দুল কাদেরের
  • সিলেট বিভাগের বন্যা ভয়ঙ্কর রুপ নিচ্ছে