শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫

আমাদের কণ্ঠস্বর

প্রধান ম্যেনু

ন্যাশনাল ক্রাইম নিউজ পোর্টাল

ইসিকে কঠোর হতে বলছে আওয়ামী লীগ

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মাঝপথে এসে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) কঠোর হওয়ার আহবান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে এই আহবান জানান। প্রতিনিধি দল দাবি করেছেন, তারা প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দিতেই গিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেছেন, ভোটে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দেখতে চান না প্রধানমন্ত্রী। প্রতিনিধি দল এই নিয়ে ইসির সঙ্গে বৈঠকও করেন। বৈঠকে তাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের সামলাতে বলেছেন ইসির দায়িত্বশীলরা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বার্তা সরকারি চ্যানেলে পুলিশ ও প্রশাসনকে পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে। সুত্র- ইত্তেফাক

জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘আমরা আমাদের নেতা-কর্মীদের বাড়াবাড়ি না করতে নির্দেশনা দিব। আপনারা পুলিশ ও প্রশাসনকে কঠোর হতে বলুন। প্রধানমন্ত্রী কোনো অনিয়ম ও ত্রুটি বিচ্যুতি দেখতে চান না।’

এদিকে নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন-অর রশিদসহ দুই থানার ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন থেকে অসহযোগিতার অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩৬৪টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামীকাল আরো ৬২০টি ইউপিতে নির্বাচন হবে। গত ১১ ফেকব্রুয়ারি শুরু হওয়া ছয় ধাপের ইউপি নির্বাচন আগামী ৪ জুন শেষ হবে। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি হয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। শতকরা ৮০ ভাগ ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৪৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সহিংসতার রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৫৭ জন ব্যক্তি ইউপি নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করছে। নির্বাচন নিয়ে সব শ্রেণির মানুষের মধ্যেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মাহবুব উল আলম হানিফের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ চারজন নির্বাচন কমিশনার ও সচিবের সঙ্গে গতকাল বৈঠকে বসেন। আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোহবান গোলাপ।

২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ইসিতে এলে সাধারণত সিইসি তাদের সঙ্গে একা সাক্ষাত্ করেন। কিন্তু গতকালের বৈঠকে সিইসি চারজন নির্বাচন কমিশনার ও সচিবকে উপস্থিত থাকতে বলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের উদ্দেশে বলেছেন, সরকারি দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অনেক স্থানেই বাড়াবাড়ি করেছে। তাদের বাড়াবাড়ির কারণেই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের বাড়াবাড়ি বন্ধ করতে পারলে আগামী নির্বাচন আরো অনেক ভালো হবে।

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়াবাড়ি বন্ধ করতে বলেছি: শাহ নেওয়াজ

বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়াবাড়ি বন্ধ করতে বলেছি। আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে দলটির সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, তারা সুন্দর নির্বাচন চান। প্রধানমন্ত্রীর সুন্দর নির্বাচন চাওয়াকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরাও বলেছি, তাদের যে নেতা-কর্মী রয়েছে তারা যেন বাড়াবাড়ি না করে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে।’ তিনি বলেন, ‘এবার কোনো সন্ত্রাসী ও বেআইনি কর্মকাণ্ডে ছাড় দেয়া হবে না। আইন শৃঙ্খলা-বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছি দ্বিতীয়বার, তারাও আশ্বস্ত করেছে আরো শক্ত হবে। আগের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাদের সতর্ক থাকতে বলেছি।’ তিনি বলেন, ‘দল-মত নির্বিশেষে আমরা বলতে চাই, সন্ত্রাসী যে দলেরই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না। অনিয়মকারী প্রশ্রয় পাবে না। আইন শৃঙ্খলাবাহিনী ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারাও অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিএনপি বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টা করছে: হানিফ

বৈঠক শেষে মাহবুব-উল-আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপি ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দিতে না পেরে বিশৃঙ্খলা করার অপচেষ্টা করছে। তারা নির্বাচনকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য ইসিকে পরামর্শ দিয়েছি। যেখানেই অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা, সেখানেই ইসিকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলেছি। আমাদের সহায়তাও থাকবে।’

হানিফও স্বীকার করেন সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়াবাড়ি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় নেতা-কর্মীদের এ বিষয়ে সতর্ক করে দেয়া হবে। আমরা মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরও নির্দেশনা দিয়ে রাখব। কোথাও কোনো অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গাজীপুরের এসপিসহ দুই ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ ইসির

পুলিশের প্রভাবশালী কর্মকর্তা, পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান এবং কাপাসিয়ার মীর রকিবুল হককে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসি সচিবালয়ের উপ-সচিব মো ঃ সামসুল আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) এ নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। ইতিমধ্যে নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে ৮ জন ওসিকে প্রত্যাহার করা হলেও এই প্রথম কোনো এসপির প্রত্যাহারের নির্দেশ দিল ইসি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে পুলিশ সুপারসহ দুই ওসিকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।’

পুলিশ সুপার প্রত্যাহারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে পাঠানো নির্দেশনা চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সুষ্ঠুভাবে ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন পরিচালনার জন্য পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদকে প্রত্যাহার করে সেখানে উপযুক্ত কর্মকর্তা পদায়নের জন্য নির্বাচন কমিশন নির্দেশ প্রদান করেছে।

ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রভাবশালী ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনানুষ্ঠানিক কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় গাজীপুরের পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়। প্রত্যাহারের কারণ হিসাবে ইসি সূত্র বলছে, ওই পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এসেছে। তিনি প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে নিজের মতো নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন বলে তথ্য আসে কমিশনে। এছাড়াও প্রার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে ডেকে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে পুলিশ সুপার আশ্বস্ত করেন। শ্রীপুরের একটি ইউপি’র সদস্য প্রার্থীকে গত বুধবার কুপিয়ে হত্যার পর পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিশন সংশ্লিষ্টরা। এরপরই ওই পুলিশ সুপার এবং দুই থানার ওসিকে প্রত্যাহারের জন্য ইসি সচিবালয় থেকে ফাইল উপস্থাপন করা হয়। এর আগে গাজীপুরের কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহের মহেশপুর, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার ওসিসহ ৮জনকে প্রত্যাহার করা হয়।

এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

মিরপুরে ঝগড়ার জেরে ‘সাততলা থেকে ফেলে’ যুবককে হত্যার অভিযোগ

রাজধানী ঢাকার মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় এক যুবককে বাসা থেকে ডেকেবিস্তারিত পড়ুন

‘হলে থাকতেন-টিউশনি করতেন, এখন পাঁচ-ছয় কোটি টাকার গাড়িতে চড়েন’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু বলেছেন, “কিছু উপদেষ্টা আছেন যারাবিস্তারিত পড়ুন

শুক্রবার বৈঠকে বসছেন ইউনূস-মোদি

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশেরবিস্তারিত পড়ুন

  • এসএসসি পেছানোর দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, যা বলছে শিক্ষা বোর্ড
  • মব-নারীবিদ্বেষ-তৌহিদি জনতা: দেশে চরমপন্থা বিকাশের সুযোগ সত্যি নাকি বিভ্রান্তি?
  • নাহিদ: আওয়ামী দুঃশাসনের ভুক্তভোগীদের কাছে ৫ আগস্ট অবশ্যই দ্বিতীয় স্বাধীনতা
  • দেশে গ্যাস অনুসন্ধানে মস্কোর সহযোগিতা চায় ঢাকা
  • ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে যে আহ্বান জানালো সৌদি আরব
  • ৬ ডলারে নামছে না রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা, কমছে ৫০ সেন্ট
  • আরও একমাস বাড়লো পাঁচটি সংস্কার কমিশনের মেয়াদ
  • নাহিদ ইসলাম: সরকারের উচিত আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা
  • তামিমকে নিয়ে যা বললেন দেশ-বিদেশের ক্রিকেটাররা
  • ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ
  • তামিমের উদ্দেশে সাকিব: তুমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবে
  • নোয়াখালীতে এনসিপির হান্নান মাসউদের ওপর হামলা