শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫

আমাদের কণ্ঠস্বর

প্রধান ম্যেনু

ন্যাশনাল ক্রাইম নিউজ পোর্টাল

এবার ভারত গেলেন ১৩১ বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী

বিলুপ্ত ছিটমহল থেকে ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণকারীরা ৩০ পরিবারের ১৩১ জন নারী-পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশ থেকে চলে গেছেন।

সোমবার দুপুরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী জিরো পয়েন্ট চেকপোস্ট দিয়ে ভারত চলে যান।

সোমবার সকালে পাটগ্রাম উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা নুর কুতুবুল আলম তাদের মিষ্টি মুখ ও রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বিদায় জানান। দুপুরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর হয়ে ভারতে পা রাখলেন ছিটবাসী। এ সময় তাদের সাথে ভারতে প্রবেশ করেন বিলুপ্ত ছিটমহল বিনিময় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের নেতারা। উভয় দেশে বিলুপ্ত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির নেতারা বুড়িমারী বন্দরে মিষ্টি বিনিময় করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই কমিটির ভারত ইউনিটের সভাপতি দ্বীপ্তিমান গুপ্ত, বাংলাদেশ ইউনিটের সভাপতি মঈনুল হক, সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, লালমনিরহাট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম।

পাটগ্রামের সরকারের হাট থেকে ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের মালপত্র বোঝাই ট্রাক ও তাদের বহনকারী বাসগুলো যখন বুড়িমারী স্থলবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে শুরু করে, ঠিক তখন কান্নার শব্দ আরও বেড়ে যায়। বাসের ভেতরে থাকা সকলেই একদিকে যেমন সমস্বরে কাঁদতে থাকেন, তেমনি বাসের বাইরে থাকা শত শত মানুষও নিজেদের চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারেন না। তবুও এরই মাঝে নিজেদের দেশের পথে রওনা হন জেলার পাটগ্রাম উপজেলার ভেতরে থাকা সদ্যবিলুপ্ত ১১২, ১১৫ ও ১১৯ বাশঁকাটা এবং ১১৫ খড়খড়িয়া ছিটমহলের ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণকারীরা।

সদ্যবিলুপ্ত ১১৯ বাশঁকাটার উকিল বর্মন জানান, ধরলা নদীতে চারবার বাড়ি ভাঙনের কারণে আজ নিঃস্ব হয়ে ভারতে চলে যাচ্ছি। এ দেশে জায়গা জমি না থাকায় সপরিবারে নতুন ঠিকানায় যাচ্ছি। জন্মভূমি ছেড়ে যেতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

বিউটি রানী জানান, এক বছর হলো আমার বিয়ে হয়েছে। বাবা, মা, ভাই-বোনকে ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে ভারতে যেতে হচ্ছে। পুরো গ্রামের মানুষ নিজেদের কাজ ফেলে জড়ো হতে থাকেন প্রতিবেশীর বাড়িতে। যারা ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ফেলে চলে যাচ্ছেন নিজেদের দেশে। তাই যারা ভারতে যাচ্ছেন তাদের বাড়ি ছাড়াও পুরো গ্রামটিতে পড়েছে কান্নার রোল। তাদের কান্নার শব্দে গোটা এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। এরপরও যেহেতু তারা কাঁটাতারের ওপারে থাকা নিজেদের মূল ভূখন্ডে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাই কষ্টের মাঝেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় আসা গাড়ি ধরতে হয় সকাল সকাল। ফলে নিজের পোশাক-আশাক, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতেই ছেড়ে যান নিজের জন্মভিটা। এ সময় একজন আরেকজনকে উপহারও তুলে দেন। কেউ কেউ আবার সঙ্গে নিয়ে বের হন নিজের পোষা গরু বা ছাগলের মতো গবাদি পশুও।

উল্লেখ্য, লালমনিরহাটের পাটগ্রামের চারটি বিলুপ্ত ছিটমহলের ৩০ পরিবারের ১৩১ জন সোমবার ভারত গেলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই উপজেলার ১১৪ লতামারীর একটি এবং হাতীবান্ধার ১৩৫ ও ১৩৬ নম্বর গোতামারী ছিটমহলের ১৭টি পরিবারের ৬৩ জন বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে নিজ দেশে ফিরেছেন। গত বৃহস্পতিবারের মতো সোমবারও এসব মানুষ নিজেদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে পুরো এলাকায় পড়ে কান্নার রোল। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষে এসব মানুষকে দেশটির কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জের ভোটবাড়িতে তৈরি অস্থায়ী ক্যাম্পে পৌঁছে দেয়া হয়।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটের সঙ্গে মিশে যাওয়া সদ্য বিলুপ্ত ৫৯টি ছিটমহলের মধ্যে পাটগ্র্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলার ৪০ পরিবার ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। ওই পরিবারগুলো পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দর অভিবাসনের (চেকপোস্ট) গত বৃহস্পতিবার থেকে পর্যায়ক্রমে বাস ও ট্রাকযোগে ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ এলাকার আবাসনে আশ্রয় নেবেন।

সূত্র মতে, চলতি বছরের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে দীর্ঘ ৬৮ বছরের বন্দি জীবন থেকে মুক্তি মিলে ভারত-বাংলাদেশের ১৬২টি ছিটমহলের কয়েক হাজার মানুষের। এরপর উভয় দেশে সরকারিভাবে যৌথ জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ জরিপ কাজের মাধ্যমে ছিটবাসী নিজেদের ইচ্ছামতো নাগরিকত্বের আবেদন করেন। এ সময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১১১টি ছিটমহলের মধ্যে ৯৭৯ জন ভারতের নাগরিকত্ব নিতে আবেদন করেন। অপরদিকে, ভারত থেকে কেউ বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিতে আগ্রহ দেখাননি। ভারতে নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের মধ্যে ট্রাভেল পাস ইস্যু করে ভারত সরকার। সে অনুযায়ী ট্রাভেল পাসধারীদের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ভারত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় উভয় দেশের ডিসি-ডিএম পর্যায়ের যৌথ সভায়।

লালমনিরহাট জেলার তিন উপজেলার সদ্যবিলুপ্ত ৫৯টি ছিটমহলের ৩৯টি পরিবারের ১৯৫ জন ভারতের ট্রাভেল পাস পেয়েছেন। তাদের কয়েকটি দলে বিভক্ত করে ভারত পাঠানো হচ্ছে। এর ২য় দলটি সোমবার ভারতের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন।

পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশনের এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, বিলুপ্ত ছিটমহলের ১৩১ জনকে ভারতে পাঠানো হয়েছে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, ট্রাভেল পাসধারীদের মধ্যে ২য় দলে ১৩১ জনকে নির্বিঘ্নে ভারতে পাঠানো হয়েছে।

এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

কুড়িগ্রামে তিন উপজেলার ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলার ও তিস্তার পা‌নি বেড়ে যাওয়ায় জেলার তিনবিস্তারিত পড়ুন

কুড়িগ্রামে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার

কুড়িগ্রামে মটর মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বকসীরবিস্তারিত পড়ুন

স্কুলছাত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, জামায়াত নেতাকে গণধোলাই

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে স্কুলছাত্রীর সঙ্গে পরকীয়া হাতেনাতে ধরা পড়ার পর একবিস্তারিত পড়ুন

  • বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
  • এবার কুড়িগ্রামে ছাত্রাবাস থেকে শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার
  • কুড়িগ্রামে ধরলার ভাঙনে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন
  • কুড়িগ্রামে ছয় ইউনিয়নে ‘প্রথম’ ভোট কাল
  • কুড়িগ্রামে ইজতেমায় দুই মুসল্লির মৃত্যু
  • বিয়ে থেকে পালাতে গিয়ে ট্রাকচাপায় স্কুলছাত্রী নিহত!
  • বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের মা-ছেলে ও পুত্রবধূর মৃত্যু..!!
  • শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
  • মৃত্যুর আগে হলেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চান সফিয়ার
  • বিকেলে খেলতে গেল দুই শিশু, রাতে পুকুরে ভাসল লাশ
  • মামলা না নিয়ে ধর্ষক পরিবারের সঙ্গে মিমাংশা হতে বলছে পুলিশ !
  • কুড়িগ্রামে এক জনকে কুপিয়ে হত্যা