ঐশীর “ডাবল” মৃত্যুদণ্ড
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি তাদের মেয়ে ঐশী রহমানকে “ডাবল” মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।আদালত বলেছে, ঐশী রহমান পরিকল্পিতভাবে তার বাবা-মাকে হত্যা করেছে।ঐশী রহমান নাবালিকা ছিলো এবং ঘটনার সময় সে মাদকাসক্ত ছিল বলে আসামি পক্ষের আইনজীবীদের দাবি আদালত খারিজ করে দিয়েছে। আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এগুলো প্রমাণে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা ব্যর্থ হয়েছে। ঐশীর সহযোগী কাজের মেয়ে খাদিজার বিচার কিশোর আদালতে হচ্ছে।
আজ বেলা ১২টা ৩০মিনিটে বাবা এবং মাকে হত্যা করার জন্য ঐশীকে “ডাবল” ফাঁসির রায় দেয়া হয়। আদালত রায়ে বলেছেন, ঐশী দুটি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং এ জন্য তাকে “ডাবল” মৃত্যুদন্ড দেয়া হলো।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঐশীকে আদালতে নেয়া হয়।রায়ে ঐশীর বন্ধু জনিকে খালাস দেয়া হয়েছে।তবে তার অপর বন্ধু রনিকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।জনি জামিনে মুক্ত থাকলেও রনি কারাগারে রয়েছে।
এর আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে প্রথমে আদালতের হাজতখানায় ঢোকানো হয় এবং পরে তাকে বেলা ১২টার দিকে এজলাস কক্ষে নেয়া হয়। বেশ কয়েকজন মহিলা পুলিশ তাকে ঘিরে রাখে এজলাস কক্ষে।সেখানে প্রথমে একটি বেঞ্চের ওপর ঐশীকে বসতে দেয়া হয়। এজলাস কক্ষে ঢোকার সময়ই তাকে বেশ আনমনা এবং চিন্তাযুক্ত দেখা যায়। কারো সঙ্গে কোনো কথাও বলছিল না, পুলিশ সদস্যরা তাকে প্রশ্ন করলে অল্পতেই তার জবাবা দেয়।বিচারক এজলাসে ঢোকার পর তাকে কাঠগড়ায় দাড়াতে হয়।
এর আগে আজ সকালে যখন তাকে আদালতে নেয়া হয় তখনই তার চোখে মুখে ছিল উদ্বেগ আর আতঙ্কের ছাপ।আজ সকালে ঐশীর কোনো স্বজনকে দেখা যায়নি আদালত প্রাঙ্গনে।
রায় উপলক্ষে গোটা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার তিন নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদের আদালতে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করার কথা।
গত ৪ নভেম্বর মামলাটির যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১২ নভেম্বর তারিখ ধার্য করেন বিচারক।
মামলার চার আসামির মধ্যে ঐশী ও তার বন্ধু আসাদুজ্জামান জনি কারাগারে এবং মিজানুর রহমান রনি জামিনে আছেন। অন্য আসামি গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমি নাবালক হওয়ায় তার বিচার চলছে অন্য আদালতে। সেও জামিন আছে।
রায়ের ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (এসপিপি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, “আমি মনে করি রাষ্ট্রপক্ষ পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।” তাই আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করছেন তিনি।
অন্যদিকে আসামি ঐশীর আইনজীবী ফারুক আহমেদ রায়ের ব্যাপারে বলেন, “ঐশী হত্যাই করেনি। কে বা কারা হত্যা করেছে তাও সে জানে না। পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ চাপানো হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। তাই ঐশী খালাস পাবেন।”
এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির আগে ট্রাইব্যুনাল মোট ৪৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৯ জনের সাক্ষ্য নেন।
২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (রাজনৈতিক শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন গৃহকর্মী সুমিকে নিয়ে রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করেন ঐশী। পরে গ্রেপ্তার করা হয় রনি ও জনিকে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঐশী জানায়, তার দুই বন্ধুকে নিয়ে সে তার বাবাকে খুন করেছে।
পরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ঐশী একাই তার বাবা-মাকে খুন করার কথা বলেছে।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই মো. মশিউর রহমান রুবেল থানায় এই হত্যা মামলা করেছিলেন। তবে তিনি মনে করেন, ঐশী তার বাবা-মা’কে খুনে করেনি।
তদন্তের মধ্যে ঐশী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও পরে তা অস্বীকার করে বলেন, ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছিল। বাবা-মা যখন খুন হন তখন তিনি বাসায় ছিলেন না, কারা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাও তিনি জানেন না।
২০১৪ সালের ৬ মে ঐশীসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন মহানগর দায়রা জজ আদালত। পরে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে গত বছরের ৩০ নভেম্বর ঢাকার তিন নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ বি এম সাজেদুর রহমান আবারও অভিযোগ গঠন করেন এবং ঐশীদের বিচার শুরু করেন।
গত ১৩ অক্টোবর মামলার প্রধান আসামি ঐশীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয় আদালত। সে সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন ঐশী। অপর দুই আসামি জনি ও রনিও নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।
এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ
ড. ইউনূসের মন্তব্য দেশের মানুষের জন্য অপমানজনক : আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কর ফাঁকি দেওয়ার মামলাকে পৃথিবীর বিভিন্নবিস্তারিত পড়ুন
ময়মনসিংহে ওসি-এসপি’র বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর
সরকারি দায়-দায়িত্ব ও কর্মকান্ডে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি, সম্পদের যথাযথবিস্তারিত পড়ুন
ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় জনগণের সাথে রায়েছে বিচার বিভাগ
দেশের মানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিচার বিভাগ জনগণের সঙ্গে আছেবিস্তারিত পড়ুন