গুলশান-শোলাকিয়া হামলার অস্ত্র-টাকা এসেছে বিদেশ থেকে

গুলশানের হলি আর্টিজান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা চালাতে বিদেশ থেকে টাকা এসেছে। এর মধ্যে হুন্ডির মাধ্যমে এসেছে অন্তত ১৪ লাখ টাকা। আর এসব হামলায় যেসব অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলোও দেশের বাইরে থেকে এসেছে।
পুলিশের জঙ্গিবিরোধী বিশেষ শাখা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে এই টাকা কে গ্রহণ করেছিল তাও জানতে পেরেছেন তারা। তবে অর্থদাতা হিসেবে কাউকে তারা শনাক্ত করা যায়নি।
সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের কার্যালয়ে পুলিশের জঙ্গি দমন অভিযানের অগ্রগতির তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে এ কথা জানান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই টাকা যিনি গ্রহণ করেছেন তাকে এখনও ধরা যায়নি। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।
মনিরুল বলেন, ‘একটা সূত্র থেকে পেয়েছি, প্রায় ১৪ লাখ টাকা এসেছে একটা হুন্ডির মাধ্যমে। সেটি সংগ্রহ করে তারা অস্ত্র, বাসাভাড়া- ইত্যাদি কাজে লাগিয়েছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি ।’ কোন দেশ থেকে এই টাকা এসেছে সেটা না জানালেও মনিরুল বলেন, এই তথ্যও পেয়ে গেছেন তারা। তিনি বলেন, ‘যেসব দেশ হুন্ডির হাব হিসেবে পরিচিত, তেমনই একটি দেশ থেকে এসেছে।’
মনিরুল বলেন, টাকার পাশাপাশি অস্ত্রও সীমান্ত পেরিয়ে এসেছে। কিন্তু প্রস্তুতকারক দেশের নাম এখানে লেখা নেই। তবে এটি ভারতের ভেতর দিয়ে এসেছে। কারা এই অস্ত্র এনেছে তাও জানা গেছে বলে দাবি করেন মনিরুল।
গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। জঙ্গিদের মুক্ত করতে যাওয়া দুই পুলিশ কর্মকর্তাকেও হত্যা করে তারা। পরদিন সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয় পাঁচ হামলাকারী। জিম্মি অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩ জনকে।
এই হামলার এক সপ্তাহের মাথায় ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরে কিশোরগঞ্জে দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত শোলাকিয়া মাঠে ঢুকতে না পেরে পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে হামলা করে জঙ্গিরা। তাদের হামলা ঠেকাতে গিয়ে প্রাণ হারান দুই পুলিশ সদস্য। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন হামলাকারীদের একজন।
শোলাকিয়া হামলার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেছিলেন, গুলশান ও কিশোরগঞ্জ হামলা একই গোষ্ঠীর কাজ।
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গুলশানের হলি আর্টিজানের ঘটনার তদন্ত ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তারা তদন্ত করছে। কিছু লোককে আমরা শনাক্ত করেছি। তার বাইরেও যারা আছে তাদের অনেককেই আমরা চিহ্নিত করেছি। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আমরা অভিযান চালিয়েছি। অভিযানে কেউ কেউ নিহত হয়েছে কেউ কেউ ধরা পড়েছেন।’
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ‘এসব ঘটনায় রাজিব গান্ধী নামের আরো একজনের নাম পাওয়া গেছে সেও গুলশান ও শোলাকিয়ায় তিনজন সন্ত্রাসী সরবরাহ করেছে। অস্ত্র যোগানদাতা ও আরো অনেকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাজিব গান্ধী বা সুভাষ গান্ধী উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। রাজিব গান্ধী দেশের মধ্যেই রয়েছে বলে আমাদের ধারণা।’
এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

মিরপুরে ঝগড়ার জেরে ‘সাততলা থেকে ফেলে’ যুবককে হত্যার অভিযোগ
রাজধানী ঢাকার মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় এক যুবককে বাসা থেকে ডেকেবিস্তারিত পড়ুন

‘হলে থাকতেন-টিউশনি করতেন, এখন পাঁচ-ছয় কোটি টাকার গাড়িতে চড়েন’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু বলেছেন, “কিছু উপদেষ্টা আছেন যারাবিস্তারিত পড়ুন

শুক্রবার বৈঠকে বসছেন ইউনূস-মোদি
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশেরবিস্তারিত পড়ুন