ঘরে ফিরতে বিড়ম্বনায় হাজিরা

দেহমনে পাক-সাফ হয়ে হজ শেষে বাড়ি ফিরতে চান হাজিরা। কিন্তু হজযাত্রায় সীমাহীন বিড়ম্বনায় পড়তে হয় বাংলাদেশের হাজিদের। নানা বাধা পেরিয়ে হজ করার পর দেশে আসতেও বঞ্চনার শিকার হন তারা। এর শুরু হয় সৌদি আরব থেকেই।
ঢাকায় আসার একদিন পরও বাড়ি ফিরতে পারছে না রংপুরের ৪০২ জন হাজী। আরও অনেক হাজি লাগেজ ফিরে পাচ্ছেন না। কবে নাগাদ লাগেজ পাওয়া যাবে, সেই তথ্য পর্যন্ত দিতে পারছেন না বিমানের কর্মকর্তারা।
ভোগান্তির জন্যে বাংলাদেশ বিমানের অব্যবস্থাপনার দিকটি তুলে ধরছেন হাজিরা। আবার এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙ্গুল তুলছেন কেউ কেউ।
আজ সোমবার গিয়ে দেখা গেছে, দেশে পৌঁছানোর পর নিজ বাড়ি যাওয়ার বাসের জন্যেও ঘন্টার পর ঘন্টা বিমানবন্দর সড়কে বসে থাকতে হচ্ছে হাজিদের।
চলতি বছর সৌদি সরকারের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ থেকে এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন করতে গিয়েছিলেন। এবার প্রায় ৫০ হাজার হাজি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে, বাকিরা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উড়োজাহাজে বাংলাদেশে ফিরছেন। আগামী কয়েকদিন আসবে হজের এই ফিরতি ফ্লাইট।
এদিকে হজের ফিরতি ফ্লাইটের সিডিউল বিপর্যয় এখনো কাটেনি। সব ফ্লাইটই আসছে নির্ধারিত সময়ের তিন থেকে চার ঘণ্টা পরে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজিদের।
গত দুই বছর ধরে ‘সিটি চেকিং’ নামে লাগেজ পরিবহনের ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্স। লাগেজ পৌঁছে দেয়ার এই সিস্টেম ব্যবস্থাপনার জন্য একটি এজন্সী নিয়োগ করে কর্তৃপক্ষ। প্রথম বছর এই সিস্টেম হাজীদের কল্যাণে কিছুটা কাজে আসলেও এবার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ঢাকার হাজীদের কিছু লাগেজ এলেও রংপুর. কুমিল্লা, নেয়াখালী ও রাজশাহীসহ অন্যান্য এলাকার হাজিরা এখনো লাগেজ পাননি।
জানা যায়, এবার সিটি চেকিংয়ের আওতায় মক্কায় দুটি বুথ এবং মদীনায় একটি বুথ খুলেছে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত এজেন্সি।
বাংলাদেশ বিমানের সব হজযাত্রী আসার ফিরতি ফ্লাইট ধরার ২৪ ঘন্টা আগে সিটি চেকিংয়ে লাগেজ বা তাদের সঙ্গে আনা মালামাল দিয়ে আসেন। সেক্ষেত্রে হয়রত শাহাজালাল বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গে তাদের লাগেজ পেয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু হাজিরা তাদের লাগেজ পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে হজ করে আসা যাত্রী রাজশাহীর বাঘমারার আবু তাহের পাঠান জানান, তারা বিমানকে সব ধরনের চার্জ দেয়ার পরও কাংখিত সেবা পাচ্ছেন না। প্রতিবছর একটা না একটা সমস্যা হচ্ছেই। এভাবে চলতে থাকলে একসময় সরকারি বিমান কোনো যাত্রী পাবে না।
আরেক হাজী মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্টে বাংলাদেশে পৌঁছেছি। সৌদিতে যাওয়ার পরে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। নতুন গাইডের কারণে আরো বেশি সমস্যায় ছিলাম। কারণ সে নিজেই কিছু চেনে না।
তিনি আরো বলেন, বেসরকারিভাবে যেসব হাজিরা সৌদি আরবে গিয়েছেন, থাকা-খাওয়া-ঘোরার ক্ষেত্রে তারা অনেক ভালো ছিলেন। আর সরকারি ব্যবস্থাপনায় অনেক কষ্টে পড়তে হয় হাজিদের।
এ বিষয়ে রংপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গাইড শামীমুর ইসলাম বলেন, ‘আমি আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো কথা বলতে পারবো না।’
বিমানে দেরীর পর বাসের অপেক্ষায় ৪০২ জন হাজি
রংপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় সরকারিভাবে এবার ৪০২ জন হজ করতে যান। তাদের একজন হাজি ড. রুহুল মতিন অভিযোগ করেন, ‘যাওয়ার আগে নানা সহায়তার কথা বলা হলেও সৌদি আরবে গিয়ে কেউ আমাদের পাশে ছিলো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘হজ করতে যাওয়ার সময় এসআর পরিবহনকে একেকজন ৫ হাজার টাকা করে দিয়েছি। কথা ছিলো, হজে যাওয়ার সময় তারা আমাদের বিমানবন্দরে নামিয়ে দিবে, আর হজ থেকে ফেরত আসার পর আবার রংপুর নিয়ে যাবে। কিন্তু গতকাল (রবিবার) রাত থেকে এসআর পরিবহন হাজীদের নিতে আসেনি। এসেছে আজ সকালে। তাও একটি বাস। এক বাসে ২০ জন হাজি যাবে। বাকিরা বাসের জন্যে বসে আছি।’
বিমানে দেরী হওয়ায় তারা আজ সকাল সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশে এসেছেন। কিন্তু সকাল ১১টার পর আর আসেনি এসআর পরিবহনের কোনো বাস।
এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

মিরপুরে ঝগড়ার জেরে ‘সাততলা থেকে ফেলে’ যুবককে হত্যার অভিযোগ
রাজধানী ঢাকার মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় এক যুবককে বাসা থেকে ডেকেবিস্তারিত পড়ুন

‘হলে থাকতেন-টিউশনি করতেন, এখন পাঁচ-ছয় কোটি টাকার গাড়িতে চড়েন’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু বলেছেন, “কিছু উপদেষ্টা আছেন যারাবিস্তারিত পড়ুন

শুক্রবার বৈঠকে বসছেন ইউনূস-মোদি
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশেরবিস্তারিত পড়ুন