তাদের বক্তব্যেই আভাস ছিল আমাকে সরিয়ে দেওয়ার
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার নেপথ্যে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোট ছিল বলে সন্দেহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
এ ঘটনায় সম্পর্কে সে সময় সংসদে কোনো কথাই বলতে দেওয়া হয়নি; উল্টো তদন্তের নামে তৎকালীন সরকার ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজায় বলে অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তাদের এমপি, মন্ত্রী, খালেদা জিয়া নিজে প্রধানমন্ত্রী- তাদের যে বক্তব্য ছিল, প্রতিটি বক্তব্যে সবসময়ই আভাস ছিল যে, আমাকে তারা সরিয়ে দেবে চিরতরে।’
‘তাই কোনোদিন আর, যেটা তারা বলেছে, প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা, বিরোধী দলের নেতাও হতে পারব না। বিরোধী দলের নেতা হতে পারব না কেন? যদি হত্যা করে তাহলেই তো হতে পারব না। কাজেই তাঁর (বিএনপি চেয়ারপারসন) বক্তব্যেই তো স্পষ্ট, ষড়যন্ত্রের কথা তিনি নিজেই বলে গেছেন’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
গ্রেনেড হামলার এক যুগ উপলক্ষে আজ রোববার আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের পূর্বনির্ধারিত জনসভা ছিল। দলীয় কার্যালয়ের সমানে ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ গড়ে জনসভার কাজ চলছিল। জনসভায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তব্যের শেষ মুহূর্তে সেখানে মুহুর্মুহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন দলের অনেক নেতাকর্মী। মঞ্চে মানববর্ম তৈরি করে দলীয় প্রধানকে হামলার হাত থেকে প্রাণে বাঁচান দলের নেতারা।
গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী মহিলা লীগের সভানেত্রী আইভি রহমান, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগকর্মী রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগমসহ ২৪ নেতাকর্মী মারা যান।
এ ছাড়া আহত হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আমির হোসেন আমু, প্রয়াত আবদুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ওবায়দুল কাদের, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফ, এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, নজরুল ইসলাম বাবু, আওলাদ হোসেন, সাঈদ খোকন, মাহবুবা পারভীন, নাসিমা ফেরদৌস, রুমা ইসলামসহ শতাধিক নেতাকর্মী।
এই গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মতিঝিল থানায় দুটি মামলা করা হয়। যার বিচারকাজ এখনো চলছে।
আজ বিকেলে গ্রেনেড হামলার স্থল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ আগস্ট নিহতদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে নিহতদের স্বজন ও আহতদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ঘটনার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ৭৫-এর পর যেদিন বাংলাদেশের মাটিতে পা দিয়েছিলেন, সেদিন থেকেই বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করেও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ যখন সুষ্ঠুভাবে চলছে তখন দেশি-বিদেশি চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র ও মদদে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের ঘটনা ঘটছে। এসব ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান তিনি।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘সব দিক থেকে বাংলাদেশ যখন সুস্থভাবে চলছে তখনো দেখা যাচ্ছে দেশের ভেতরের কিছু আর ওই বিদেশি শক্তি, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বিরোধিতা করেছে, যারা বার বার নানা ধরনের চক্রান্ত করেছে, যারা আমাদের সম্পদ অন্যের কাছে বেচতে চেয়েছে, নানা ধরনের চক্রান্ত এখনো চলছে। নইলে এই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দূর করার জন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। আর সেখানেই তাদের মদদ দিয়ে নানা ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের অস্থায়ী বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ঢল নামে আওয়ামী লীগের সহযোগী, সমমনা ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর।
এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ
সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপকবিস্তারিত পড়ুন
দুই দফা কমার পর ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
টানা দুই দফা কমার পর দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দামবিস্তারিত পড়ুন
চট্টগ্রামে দুর্ঘটনার কবলে হাসনাত-সারজিসের বহরের গাড়ি
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের কবর জিয়ারত শেষে ফেরার পথে সড়কবিস্তারিত পড়ুন