দানবীয় বেগে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে অতিকায় গ্রহাণু

পৃথিবীতে একসময় রাজত্ব করে বেড়াতো দানবীয় সরীসৃপ প্রজাতির প্রাণী ডাইনোসার। কী এমন ঘটনা ঘটেছিল যে ডাইনোসারের মতো অতিকায় জন্তুর বংশ একেবারেই ধ্বংস হয়ে গেল। গবেষকদের অনেকের ধারণা, প্রায় আড়াই কোটি বছর আগে পৃথিবীতে আঘাত হানা দানবীয় এক গ্রহাণু। পৃথিবীর সঙ্গে ওই গ্রহাণুর সংঘর্ষে ঘটে ভয়ানক বিস্ফোরণ, আর এতেই বিলুপ্ত হয়ে যায় ডাইনোসারে। ফের এমনই এক ঘটনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আমাদের পৃথিবী নামক এই সবুজ গ্রহটি।
বিশাল আকৃতির এক গ্রহাণু এখন দুর্বার গতিতে ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে। এটি কী পদার্থে গড়া তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। তবে গ্রহাণুটির ছুটে আসার গতি বিশ্লেষণ করে তারা জানিয়েছেন, আসছে ১৩ নভেম্বর সকালে পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে এই মহাজাগতিক বস্তু।
ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইএসএ) বিজ্ঞানীরা অজ্ঞাত পদার্থে গড়া ৭ ফুট দীর্ঘ এই গ্রহাণুর নাম দিয়েছেন ডাব্লিওটিএফ১১৯০এফ। সংক্ষেপে একে ডাব্লিওটিএফ বলা হচ্ছে। দিনরাত সারাক্ষণ মহাকাশ গবেষকরা এ গ্রহাণুর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছেন ।
ইএসএ’র বিজ্ঞানীরা বলছেন, বস্তুখণ্ডটি কী, তা এখনও স্পষ্ট না হলেও এটি কোনো ধুমকেতুর বিচ্ছিন্ন অংশ হতে পারে। আবার মানবসৃষ্ট কোনো কিছু হওয়ারও সম্ভাবনা আছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি চন্দ্র অভিযানে যুক্ত অ্যাপোলো মিশনের কোনো জঞ্জাল। কারো ধারণা কৃত্রিম কোনো উপগ্রহের অবশিষ্টাংশ এটি।
আড়াই কোটি বছর আগের গ্রহানুটি যেভাবে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে ডাইনোসারকে নির্বংশ করে দিয়েছিল, সেরকম কোনো মহাজাগতিক ঘটনার অাশংকা এবার বিজ্ঞানীরা করছেন না। তাদের কাছে ধেয়ে আসা ডাব্লিওটিএফকে বিপজ্জনক মনে হচ্ছে না। কারণ গ্রহাণুটিকে গ্রহাণুটিকে দেখতে অতিকায় মনে হলেও এর উপরের অংশ ধূলোবালির মতো হালকা পদার্থের পাতলা আবরণে গড়া, আর ভেতরের অংশ বায়বীয়। দানবীয় গতিতে এগিয়ে আসার কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর পরই তীব্র ঘর্ষণে এর আকৃতি ক্ষুদ থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে আসবে।
ভূ-পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার আগেই এটি ছাইয়ে রূপান্তরিত হবে। কাজে গ্রহাণুটির পতনের ফলে বিরূপ কোনো পরিস্থিতি তৈরি হবে না অনেকটাই নিশ্চিত গবেষকরা।
ডাব্লিওটিএফ নামের এই গ্রহাণুটি সম্পর্কে ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজের হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের গবেষক জোনাথন ম্যাকডাওয়েল ডেইলি মেইলকে বলেন, মহাকাশ-ইতিহাসের হারানো একটি অংশ সম্ভবত ফিরে আসছে। যেটি আমাদের তাড়িয়ে বেড়াবে।
এ বিষয়ে জ্যোতির্বিদ বিল গ্রে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচারকে’ বলেন, পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণের ফলেই ডাব্লিওটিএফের গতি ক্রমশই বাড়ছে। যতোই পৃথিবীর কাছে আসবে ততোই এটির গতিবেগ বাড়বে।
তিনি আরো জানান, এই প্রচণ্ড গতিই বিশ্ববাসীকে দেবে সুরক্ষা। কারণ বায়ুমণ্ডলে পৌছেই বাতাসের ঘর্ষণে কয়েকমিনিটের মধ্যে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে এই গ্রহাণু। এর গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণে বোঝা যায়, এর মধ্যের অংশটি পুরোপুরিই ফাঁকা।
ধেয়ে আসছে গ্রহাণুআড়াই কোটি বছর আগের ঘটনার হুবহু পুনরাবৃত্তি না হলেও দানবীয় গতিতে ভূ-পৃষ্ঠে গ্রহাণুটির পতন কীভাবে ঘটে, তা দেখার অপেক্ষায় আছে গবেষকসহ পৃথিবীর বিপুল সংখ্যক উৎসাহী মানুষ।
এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

আজকের যত আয়োজন ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছেবিস্তারিত পড়ুন

মোবাইল নম্বর ঠিক রেখেই অপারেটর পরিবর্তন করা যাবে: প্রক্রিয়া শুরু
মোবাইল ফোনের নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তন (মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি-এমএনপি)বিস্তারিত পড়ুন

স্মার্টফোন কিনে লাখপতি হলেন পারভেজ
নির্দিষ্ট মডেলের ওয়ালটন স্মার্টফোন কিনে পণ্য নিবন্ধন করলেই মিলছে সর্বোচ্চবিস্তারিত পড়ুন