বিএফডিসিতে চলচ্চিত্র বিষয়ক জাদুঘর

একসময় চলচ্চিত্রে যে ক্যামেরা, এডিটিং প্যানেল, সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হতো, তা এখন আর করা হচ্ছে না। তাহলে এসব অবশ্যই কোথাও পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। এগুলো দিয়ে একটা জাদুঘর করা হলে সমস্যা কী? জাদুঘর হলে আমরা যারা চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা করছি তারা আগের বিষয়গুলোর সঙ্গে পরিচিত হতে পারব। এতে আমাদের জ্ঞান বাড়বে। তা ছাড়া যারা শুক্রবার এফডিসি দেখতে আসে তারা কিছুই না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। জাদুঘর হলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস সম্পর্কেও তারা জানতে পারবে।’ গতকাল শুক্রবার বিএফডিসিতে ঘুরতে এসে বলছিলেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র মোহম্মদ রফিকুল ইসলাম নাদিম।
নাদিম আরো বলেন, ‘গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি ঠিক করা হচ্ছে। তাহলে এক সময় দেখা যাবে এফডিসিতে প্রশাসনিক কাজ ছাড়া অন্য কাজগুলো তেমন হবে না। তাই দ্রুত একটা ভবনে চলচ্চিত্র বিষয়ক জাদুঘর স্থাপন করা উচিত।’
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন, বিএফডিসিতে প্রতি শুক্রবার থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়, কিন্তু তারা যখন বিএফডিসির বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখে তখন তারা প্রায় সবাই হতাশ হয়। এর কারণ বিএফডিসিতে এখন সেভাবে আর চলচ্চিত্রের শুটিং হয় না। তাই থাকে না তারকাদের উপস্থিতি, লাইট-ক্যামেরা বা কলাকুশলীদের পদচারণা। শুটিং না দেখতে পেরে অনেকেই তাই বিএফডিসির ভেতরে তৈরি করা কৃত্রিম ঝরনার সামনে ছবি তুলেই সন্তুষ্ট থাকে। যেমন সরকারি অফিসের পিওন সাইফুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার। তিনি শুক্রবার বিএফডিসিতে এসেছেন বৌ সালমা ও আড়াই বছরের ছেলেকে নিয়ে। শুটিং বা তারকার দেখা না পেয়ে ছবি তোলেন ঝরনা স্পটে।
সাইফুল বলেন, ‘আমরা ছবিতে যে জায়গাগুলো দেখি সেই জায়গাগুলো সামনা সামনি এসে দেখতে ভালো লাগছে। বিশেষ করে এই ঝরনাটা অনেক পরিচিত। অনেক ছবির গান দেখেছি এখানে। কিন্তু অন্য সব কিছুই দেখি তালা মারা। কোথাও কোন শুটিং নাই। মনে করেছিলাম এখানে নায়ক-নায়িকা দেখতে পাব। কিন্তু কিছুই নাই দেখার মতো।’
এনজিওকর্মী ইমরুল কায়েসও প্রকাশ করলেন হতাশা। বলেন, ‘আমি প্রায় শুক্রবারেই এখানে ঘুরতে আসি। গ্রাম থেকে এলাকার মানুষ আসে। এফডিসি দেখতে চায়। কিন্তু আসার পর কিছু বিল্ডিং ছাড়া আর কিছু দেখাতে পারি না। আমার মতো অনেক লোক আসে এখানে। আমি মনে করি এখানে পুরাতন জিনিসগুলো, তারপর পুরোন ছবির পোস্টার, নায়ক-নায়িকাদের ফটো দেখার কোনো একটা ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো। এখন কোন প্রযুক্তি দিয়ে কী করা হচ্ছে সেগুলোও থাকতে পারে। আমার মনে হয় এই বিষয়ে যাদের ভাবার কথা, তারা কোনো কিছুই ভাবছে না।’
ইমরুল আরো বলেন, ‘আমি চলচ্চিত্র দিবসে এসেছিলাম। তখন এখানে পুরাতন ক্যামেরা ও যন্ত্রপাতি দিয়ে একটা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অনেক মানুষ আগ্রহ নিয়ে দেখেছে। আমার মনে হয় এটা সারা বছর থাকতে পারে। অন্তত প্রতি শুক্রবার এই প্রদর্শনীর ব্যবস্থা থাকতে পারে।
বিএফডিসিতে পুরোনো যন্ত্রপাতি প্রদর্শনী বা জাদুঘর প্রসঙ্গে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, তা জানতে যোগাযোগ করা হয় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কুমার ঘোষের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে এখন যে ভবনগুলো আছে, সেখানে জাদুঘর করার কোনো জায়গা নেই। কারণ বর্তমান ভবনগুলো কোনো না কোনো কাজে ব্যবহার হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। ৩ ও ৪ নম্বর শুটিং ফ্লোর ভেঙ্গে সেখানে বহুতল ভবন তৈরি হবে। সেখানে চলচ্চিত্র জাদুঘর তৈরি করা হবে এবং দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আশা করি তখন দর্শনার্থীরা এফডিসি দেখে আনন্দ পাবে।’
কবে এই প্রকল্প চালু হবে জানতে চাইলে তপন কুমার বলেন, ‘বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। সব কিছুই এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করি আগামী দুই বছরের মধ্যে এই কাজ শুরু হবে।’
এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

ওটিটি প্ল্যাটফর্মে যে সিরিজগুলো ২০২৫ মাতাবে
চব্বিশের বছরজুড়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে রাজত্ব করেছে “হীরামণ্ডি”, “মির্জাপুর সিজন ৩”বিস্তারিত পড়ুন

অবৈধ জুয়ার প্রচারণায় অপু-বুবলী-পরিমনি-ফারিয়াদের নাম
২০২৪ সালের বিভিন্ন সময় জুয়ার অ্যাপের প্রচারণায় যুক্ত হওয়ায় অভিযোগবিস্তারিত পড়ুন

৮ বছরের আইনি লড়াই শেষে বিবাহ বিচ্ছেদ চূড়ান্ত ‘ব্র্যাঞ্জেলিনা’ দম্পতির
দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াই শেষে বিবাহ বিচ্ছেদের আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোবিস্তারিত পড়ুন