সাফাত-পিয়াসার বিয়ের কাবিন মাত্র ১ টাকা!

এ কথা শুনে হয়তো বিশ্বাস করবে না কেউই। না করারই তো কথা। এ রকম বিত্তশালী পরিবারের ছেলে সন্তানের বিয়ের কাবিন মাত্র এক টাকা হয় কী করে? কিন্তু এটাই সত্য। কাগজপত্রও তাই বলে। দেনমোহরের কাগজেও লেখা আছে এক টাকার কথা। কাজেই এটা এখন আর কোনো কানাকানি গল্প নয়, কিংবা ভার্চুয়াল কোনো গুজব নয়। বাস্তব সত্য যে, ধনীর ছেলে সাফাত আর সংবাদ উপস্থাপিকা পিয়াসার বিয়ের কাবিন হয়েছিল মাত্র এক টাকায়। তার আবার কারণও আছে। সেই কারণ সম্পর্কে জানতে গিয়ে পাওয়া গেল ভালোবাসার এপিঠ-ওপিঠের কিছু গল্প। সংশ্লিষ্টদের পারিবারিক সূত্র থেকে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য।
কেন এক টাকার দেনমোহরে সাফাত-পিয়াসার কাবিন হয়েছিল জানতে চাইলে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম খোলামেলা কথা বলেন। তার ভাষায়, ভালোবাসা আর প্রেমের কারণে সাফাতকে পিয়াসা একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে গিয়ে দেনমোহর করেছিল এক টাকা। তিনি বলেন, পিয়াসাকে সেই এক টাকা মোহরনা পরিশোধও করা হয়েছে।
বিয়েতে এক টাকার কাবিন প্রসঙ্গে ফারিহা মাহাবুব পিয়াসা বলেন, মামলা চলছে একটা আর ঘটনা ভিন্নদিকে নেয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, যতদিন সাফাত তার সঙ্গে ছিল সে তো ভালোই ছিল। আর বাসায় মেয়ে নিয়ে আসা তার পুরনো স্বভাব।
পিয়াসা আরো বলেন, ভালোবেসে দু’জনের সম্মতিতে বিয়ে করেছিলাম। আর দেনমোহর এক টাকা করার বিষয়টিও দু’জনের সম্পত্তিতেই হয়। পিয়াসার বক্তব্য হচ্ছে, ‘আমার যদি টাকার লোভ থাকত তাহলে আমি তো অনেক টাকাই কাবিন করতে পারতাম। তারা কী (আপন জুয়েলার্সের মালিক) বলতে পারবে আমি তাদের কাছ থেকে এক লাখ টাকার গয়না নিয়েছি?
ছেলে সাফাতকে ছাড়িয়ে নিতে তার বাবাই ষড়যন্ত্র করেছে জানিয়ে পিয়াসা জানান, বনানীতে যে কাজটি করেছে সেটা ভালো করেছে? ওর বিচার হওয়া প্রয়োজন। সাফাতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি কীভাবে হলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোথায় সমস্যা আমি নিজেও জানি না। এখন আমাকে নিয়ে টানাটানি চলছে।
প্রশ্ন করা হলে দিলদার আহমেদ আরো বলেন, ছেলের কাছে এক টাকা দেনমোহরের কাহিনী শুনতে চেয়েছিলাম। ছেলে বলেছিল, পিয়াসা তাকে নাকি এত ভালোবাসে তাই এক টাকা দেনমোহর করে তা প্রমাণ করতে চায়। কিন্তু বিয়ের পর দিনে দিনে দেখেছি উল্টোটা। মানুষ কত অভিনয় করতে জানে। আমরা ব্যবসা বাণিজ্য করে খাই। আমাদের সঙ্গে শত শত মানুষের রুজি রুটির সম্পর্ক। আপন জুয়েলার্স ঘিরে কত মানুষের চাকরি-বাকরি। সবকিছু এখন বিবেচনার বিষয়। প্রশাসন এসব বিবেচনা করে দেখবে।
এক টাকার কাবিন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে দিলদার আহমেদ সেলিম জানান, ‘আমার সম্পদের দিকে পিয়াসার নজর ছিল। তাই তো পিয়াসা এক টাকা দেন মোহর করে ভালোবাসার সম্পর্কের নামে অভিনয় করেছে। পিয়াসা আমার ছেলেকে বলেছিল, ‘তোমার টাকা চাই না, ভালোবাসা চাই।’ অথচ বিয়ের পর একে একে মুখোশ উন্মোচন হতে থাকে। এক টাকার কাবিননামার নামে যে কৌশল করা হয়েছিল তার নেপথ্যের ঘটনা বের হতে থাকে। দিলদার আহমেদ সেলিমের দাবি, পিয়াসা তার ছেলেকে দিয়ে আপন জুয়েলার্সের সম্পদ লুটের চেষ্টা করেছিল। সেই চেষ্টা ভেস্তে যাওয়ায় সাফাতকে ব্লাকমেইলিং করা হয় বলে দাবি তার।
সম্প্রতি বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার সাফাত আহমেদের বাবা দিলদার আহমেদ সেলিম ও আপন জুয়েলার্স আলোচনা-সমালোচনায় আসে। ছেলের বিষয়ে দিলদার বলেন, সাফাত দোষী হলে তার বিচার হোক। আদালতের যে কোনো রায় মাথা পেতে নেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার পক্ষে ও বিপক্ষে নয়, তদন্ত সঠিকভাবে হলেই তিনি সুবিচার পাবেন।’
এদিকে সাফাত আহমেদ ও ফারিহা মাহাবুব পিয়াসার নিকাহনামাটি সংগ্রহ করা হয়েছে। নিকাহনামার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের পহেলা জানুযারি মহাখালীর আমতলি এলাকার একটি কাজী অফিসে প্রয়োজনীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিবাহ সম্পন্ন হয়। নিকাহনামায় লেখা আছে, সাফাতের জম্ম তারিখ ২৮-৩-১৯৯২। ঠিকানা গুলশান-২ এর ৬২ নম্বর সড়কের ২ নম্বর বাড়ি। বাবার নাম দিলদার আহমেদ সেলিম, মাতার নাম নিলুফা বেগম জেসমিন। অপরদিকে কনের নাম ফারিহা মাহাবুব পিয়াসার বাবার নাম মাহাবুব আলম, মাতার নাম রকি মাহাবুব। ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে ৩ আর কে মিশন লেন, আসকর দিঘী, পশ্চিমপাশে চট্টগ্রাম। পিয়াসার জম্ম তারিখ ১০-১১-১৯৮৯। পিয়াসা বয়সেও সাফাতের চেয়ে একটু সিনিয়র ছিলেন। কন্যাপক্ষে উকিল ছিলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাজির হাট এলাকার মরহুম আব্দুল জলিলের পুত্র আব্দুল মোতালেব। বিয়েতে সাক্ষী হিসেবে ছিলেন রাজধানীর বাড্ডা এলাকার কুড়াতলির সিরাজ উদ্দিনের পুত্র ইমরান হাসান ও দক্ষিণ বাড্ডার ব-৩৭ এর মরহুম সুলতান উদ্দিনের পুত্র একলাছ উদ্দিন। নিকাহনামায় ১৩ নম্বর পয়েন্টে দেনমোহরের পরিমাণের স্থানে লেখা আছে, ‘এক টাকা’ এবং ১৫ নম্বর পয়েন্টে উল্লেখ আছে যে, ‘বিবাহের সময় দেন মোহরের কোনো অংশ পরিশোধ করা হয়েছে কী না? যদি হইয়া থাকে তবে উহার পরিমাণ কত? সেখানে উত্তর হিসেবে উল্লেখ করা হয় যে, ‘নগদ পরিশোধ করা হইল’।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বিয়ের পর সাফাত ও পিয়াসার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলে উভয় মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়। গুলশানের একটি কাজী অফিস থেকে চলতি বছরের সালের ৮ মার্চ সাফাতের পক্ষে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়। পিয়াসা একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংবাদ উপস্থাপিকা।
বনানীর দ্য রেইনট্রি রেস্টুরেন্টে সাফাতের ধর্ষণ কেলেঙ্কারির পর পিয়াসার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তার সাবেক শ্বশুর দিলদার আহমেদ সেলিম। এ ঘটনার পর পিয়াসার বিরুদ্ধে তিনি গণমাধ্যমেও কথা বলেন। আর পিয়াসাও কথা বলছেন গণমাধ্যমের সঙ্গে।-মানবকন্ঠ
এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

মিরপুরে ঝগড়ার জেরে ‘সাততলা থেকে ফেলে’ যুবককে হত্যার অভিযোগ
রাজধানী ঢাকার মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় এক যুবককে বাসা থেকে ডেকেবিস্তারিত পড়ুন

‘হলে থাকতেন-টিউশনি করতেন, এখন পাঁচ-ছয় কোটি টাকার গাড়িতে চড়েন’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু বলেছেন, “কিছু উপদেষ্টা আছেন যারাবিস্তারিত পড়ুন

শুক্রবার বৈঠকে বসছেন ইউনূস-মোদি
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশেরবিস্তারিত পড়ুন