সেই রাতে মদ্যপ ছিলেন অভিনেতা বিক্রম!

২৯ এপ্রিল ভোর রাতে পার্টি থেকে ফেরার পর কলকাতার লেকমলে কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েন অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়। দুর্ঘটনায় তিনি সামান্য আহত হলেও প্রাণ যায় মডেল সনিকার। এই ঘটনায় পুলিশ ও সনিকার পরিবার আলাদা আলাদা অভিযোগ দায়ের করেছেন। সে রাতে সনিকা ও বিক্রম একটি পার্টিতে অংশ নিয়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছে পার্টিতে বিক্রম নাকি মদ্যপান করেছিলেন। যদিও দুইদিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বিক্রম দাবি করেছেন সে রাতি তিনি মদ্যপ ছিলেন না।
সে দিনের দুর্ঘটনায় আহত বিক্রম হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় এক হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে আগাম জামিনও পেয়েছেন। সাংবাদিক বৈঠকে সোনিকার জন্য তাঁর চোখের জল দেখেছেন সকলে। এর পরই ঘটনা যেন অন্য দিকে মোড় নিয়েছে।
সোনিকার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তার মা-বাবা সোনিকার মৃত্যুর জন্য অভিযোগের আঙুল তুলছেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের দিকেই। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক আইন না মেনে চলার জেরেই প্রাণ গেল সোনিকার, এমনই মনে করছেন তার বন্ধুরাও। ফেসবুকে তারা ‘জাস্টিস ফর সনিকা’ নামে একটি পেজ খুলেছেন। তাতে একাধিক লেখা এবং ছবি আপলোড করা হচ্ছে। তারা বারবারই অভিযোগ করছেন বিক্রমের বিরুদ্ধে। দাবি জানাচ্ছেন, সে রাতে একাধিক ক্লাবে গিয়ে বিক্রম ও তার বন্ধুরা মদ্যপান করেছিলেন।
‘জাস্টিস ফর সোনিকা’ এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু মানুষ বিক্রমকে টার্গেট করে বিভিন্ন কথা বলছেন। এদের অনেকেই সনিকার ঘনিষ্ঠ বলে নিজেদের দাবি করছেন। অনেকেই টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত।
মডেল সনিকা সিং চৌহানের মৃত্যুকাণ্ডে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, গত ২৮ এপ্রিলের রাতভর চলা পার্টিতে সত্যিই কি বিক্রম নেশাগ্রস্থ ছিলেন? সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বিক্রম নিজে সে অভিযোগ অস্বীকার করলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় অঙ্কিতা বি বন্দ্যোপাধ্যায় নামে জনৈক ব্যক্তির দাবি, দুটি আলাদা জায়গায় বিক্রমকে মদ্যপান করতে দেখেছেন তিনি ও তার বন্ধুরা। তাঁর দাবি, ‘…মনে রেখো তুমি মদ্যপান করেছিল না করোনি, তা কিন্তু অনেকেই দেখেছেন। ফলে তোমার বয়ান মিথ্যে প্রমাণিত হতে পারে। তোমার জন্য লজ্জা হচ্ছে। অন্তত সত্যে থাকতে পারতে। এত মিথ্যে কথা বলাটা নিজের বিবেকের কাছে বোঝা মনে হচ্ছে না?’
গত শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে বিক্রম কেঁদে জানিয়েছিলেন, সনিকার জন্য তার খুব কষ্ট হচ্ছে। সেই কান্নাকেও ‘কুম্ভীরাশ্রু’ বলে ফেসবুকে ব্যখ্যা করেছেন জনৈক ব্যক্তি। তিনি আরও জানান, সনিকার পরিবারের সঙ্গে তিনি দেখা করবেন। ফেসবুকে নভোলীন দাশ নামে জনৈক ব্যক্তির প্রশ্ন, ‘এমন একটা ঘটনার এক সপ্তাহ পর সোনিকার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করার কথা মনে হল বিক্রমের?’
এই ‘জাস্টিস ফর সনিকা’ পেজে আপলোড হওয়া ছবি এবং পোস্টগুলো সনিকার বিশেষ বন্ধু সাহেব ভট্টাচার্য শেয়ার করছেন নিজের ফেসবুক ওয়ালে। সে বিষয়ে যদিও তিনি একেবারেই মুখ খুলতে চাননি। এই প্রোফাইলটি কি তিনিই পরিচালনা করেন? এ নিয়েও কোনও কথা বলতে চাননি সাহেব। সাহেবের আর একটি প্রোফাইলে সনিকার সঙ্গে নিজের ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। তবে সেখানে বিক্রম সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা ‘জাস্টিস ফর সোনিকা’ হ্যাশট্যাগ দেওয়া পোস্টগুলির কোনও শেয়ার হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনিকা-বিক্রমের সঙ্গে ২৮ এপ্রিলের পার্টিতে তাদের যে বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন, তাদের সবাইকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা। এরপরে বিক্রমের বয়ান রেকর্ড করার পরে তাদেরও বয়ান রেকর্ড করা হবে।
এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

ওটিটি প্ল্যাটফর্মে যে সিরিজগুলো ২০২৫ মাতাবে
চব্বিশের বছরজুড়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে রাজত্ব করেছে “হীরামণ্ডি”, “মির্জাপুর সিজন ৩”বিস্তারিত পড়ুন

অবৈধ জুয়ার প্রচারণায় অপু-বুবলী-পরিমনি-ফারিয়াদের নাম
২০২৪ সালের বিভিন্ন সময় জুয়ার অ্যাপের প্রচারণায় যুক্ত হওয়ায় অভিযোগবিস্তারিত পড়ুন

৮ বছরের আইনি লড়াই শেষে বিবাহ বিচ্ছেদ চূড়ান্ত ‘ব্র্যাঞ্জেলিনা’ দম্পতির
দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াই শেষে বিবাহ বিচ্ছেদের আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোবিস্তারিত পড়ুন