রবিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৮

আমাদের কণ্ঠস্বর

প্রধান ম্যেনু

তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম

মুখ ও গলার ক্যান্সারের কারণ ও প্রতিরোধ

একজন ডাক্তার হিসেবে বলতে পারি আমাদের দেশে ক্যান্সার সম্পর্কে সাধারন মানুষের মধ্যে খুব ভালো একটা ধারণা নেই । বেশিরভাগই জানেন না ক্যান্সার কি, কেন হয়, লক্ষণ কি কি এবং প্রতিকার বা চিকিৎসা কি । সে জন্যই এই লেখা । বাংলাদেশে লিঙ্গ এবং বয়স ভেদে মুখ ও গলার ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশী, তাই আজ মুখ ও গলার ক্যান্সার নিয়েই আলোচনা করবো । এই আলোচনা বিস্তারিত নয়, শুধুমাত্র পয়েন্ট আকারে নাগরিকদের সচেতেনতা বৃ্দ্ধির জন্য।

    মুখ ও গলার ক্যান্সারের স্থান

 মুখ গহ্বর (ওরাল ক্যাভিটি)
 গলবিল (ফ্যারিংস)
 কন্ঠনালী (ল্যারিংস)
 নাক (ন্যাসাল ক্যাভিটি)
 নাকের হাড়ের ভিতর বায়ু গহ্বর (প্যারা নাসাল সাইনাস)
 অন্যান্য – লালা গ্রন্থি, থাইরয়েড গ্রন্থি ইত্যাদি।

    মুখ ও গলার ক্যান্সারের কারণ

 ধূমপান
 এ্যলকোহল সেবন
 পান পাতা চিবন
 অতি-বেগুনী রশ্মি (UV light) এবং পেশাগত ঝুঁকি
 কিছু কিছু ভাইরাস, যেমনঃ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস, ইপ্সটেইনবার ভাইরাস
 অপুষ্টি এবং ভিটামিনের অভাব
 গ্যাস্ট্রিক ইসোফেজিয়াল রিফ্ল্যাক্স ডিজিজ (GERD)
 দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
 মুখের ভিতরে সাদা দাগ বা লিউকোপ্লাকিয়া (Leukoplakia)

    মুখ ও গলার ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ

সাধারণ লক্ষণসমূহ
 যে কোনো গুটি বা ঘা, যা সাধারণ চিকিৎসায় সারছে না
 গলার ভিতরের কোনো ঘা, যা সাধারণ চিকিৎসায় সারছে না
 ঢোক গিলতে অসুবিধা হওয়া
 গলার স্বর ভেঙ্গে যাওয়া বা পরিবর্তন হওয়া

মুখ-গহবর
 মাড়ি, জিহ্বা বা মুখের ভিতরে সাদা বা লাল ক্ষত
 চোয়ালের কোনো ফোলা যা দাঁতকে ঠিক রাখেনা বা অস্বস্তিকর
 মুখ-গহ্বরে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ বা ব্যাথা

গলবিল ও কন্ঠনালী
 গলবিলের উপরের অংশ: কানে ব্যাথা
 গলবিলের সাথে নাকের অংশ : শ্বাসকষ্ট অথবা কথা বলতে অসুবিধা হওয়া, ঘন ঘন মাথা ব্যাথা, কানে ব্যাথা বা বাশিঁর মতো শব্দ শোনা অথবা কম শোনা
 কন্ঠনালী : ঢোক গিলতে ব্যাথা পাওয়া অথবা কানে ব্যাথা

নাক ও নাকের হাড়ের ভিতর বায়ু গহ্বর
 নাকের হাড়ের ভিতর যে সব বায়ু গহ্বর অবরুদ্ধ হয়ে আছে কিন্তু সাধারন চিকিৎসায় সারছে না
 ক্রনিক সাইনাস ইনফেকশন যা এন্টিবায়োটিক দেওয়া সত্তেও সারছে না
 নাক হতে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ
 ঘন ঘন মাথা ব্যাথা
 চোখ ফুলে যাওয়া অথবা চোখের অন্য কোনো সমস্যা
 উপরের মাড়ির দাঁতে ব্যাথা

লালা গ্রন্থি
 থুতনির নিচে বা চোয়ালের হাড়ের আশে পাশে ফুলে যাওয়া
 মুখমন্ডলের মাংশপেশী অবশ বা অসাড় হয়ে যাওয়া
 মুখমন্ডল, থুতনি বা ঘাড়ের ব্যাথা যা সারছে না

    মুখ ও গলার ক্যান্সার নিশ্চিতকরণ

 উপরের যে কোনো লক্ষণ দেখা যাওয়ার পর ২-৩ সপ্তাহ স্থায়ী হলে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে যাতে প্রাথমিক অবস্থাতেই রোগ নির্ণয় করা যায়
 ক্যান্সার চিকিৎসার সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় প্রাথমিক অবস্থাতেই রোগ নির্ণয় করা গেলে
 সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে (Medical history, physical exam, imaging techniques, including X-rays, CT scans, and MRI) ক্যান্সার নিশ্চিত করতে ক্ষতস্থানের টুকরো বা রস সংগ্রহ করে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে (Biopsy) ক্যান্সার নিশ্চিত করা হয়

    চিকিৎসা পদ্ধতি

মুখ ও গলার ক্যান্সারের চিকিৎসায় রয়েছে নানা পদ্ধতি –
 অপারেশন
 রেডিয়েশন
 কেমোথেরাপী
ক্যান্সারের কোন অবস্থায় কোন ধরনের চিকি্ৎসা প্রয়োজন, সেই সিদ্ধান্ত নেন একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

    পূণর্বাসন প্রক্রিয়া (Rehabilitation or support options)

 ফিসিক্যাল থেরাপী
 খাদ্যভাসে পরিবর্তন
 স্পীচ থেরাপী
 ল্যারিংগেকটমির পরে কিভাবে stoma পরিচর্যা করতে হয় তা শেখা

    মুখ ও গলার ক্যান্সারের প্রতিরোধ

 ক্যান্সার হবার ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় গুলো পরিহার করাই ক্যান্সার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ
 নিয়মিত দাঁতের পরীক্ষার মাধ্যমে মুখ গহ্বরের ক্যান্সার-পূর্ব ক্ষত (pre-cancerous lesions) সনাক্ত করা সম্ভব
 প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার সনাক্ত করা গেলে এর চিকিৎসা করা তুলনামূলক ভাবে সহজ হয় এবং বেচেঁ থাকার সম্ভাবনাও অনেকাংশে বেড়ে যায়
 HPV vaccines HPV হতে সৃষ্ট মুখ ও গহ্বরের ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ রাখছে

    মুখ ও গলার ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ৭ টি প্রধান উপদেশ

 ধূমপান অথবা অন্য কোনো তামাক পাতা সেবন করবেন না
 এ্যলকোহল বা মদ্যপান করবেন না
 কখনই একসাথে এ্যলকোহল এবং ধূমপান করবেন না
 চিকিৎসার পর পুনরায় মদ্যপান বা ধূমপান শুরু করবেন না
 দীর্ঘ সময় সূর্যতাপ পরিহার করূন
 মুখ গহ্বর পরিষ্কার রাখুন এবং নিয়মিত ভাবে দাঁতের ডাক্তারকে দেখান
 অনিরাপদ যৌন মিলন পরিহার করুন

    বাড়িতে বসে সহজেই নিজের গলা ও মুখ-গহ্বর পরীক্ষা করার পদ্ধতি

 আপনি কি ধূমপান করেন?
 আপনি কি অতিরিক্ত পরিমানে এ্যলকোহল সেবন করেন?
 আপনার কি ঢোক গিলতে বা কোনো কিছু চিবাতে কোনো অসুবিধা হয়?
 আপনার কি এমন বদভ্যাস আছে যাতে আপনার ঠোট কেটে যায়?
 আপনি কি নকল দাঁত ব্যবহার করেন যা পুরোনো বা ঠিকমতো বসেনি?
 আপনি কি আপনার মুখের যে কোনো জায়গায় কখনো কোনো ফোলা বা পিন্ড লক্ষ্য করেছেন?
 আপনি কি আপনার মুখের ভিতরে কোনো সাদা, লাল বা গাঢ় ক্ষত লক্ষ্য করেছেন?
 আপনি কি কখনো আপনার মুখে বা ঘাড়ে বা মুখমন্ডলের যে কোনো জায়গায় ঝিন ঝিন বা অসাড়তা অনুভব করেছেন?
 আপনি কি আপনার মুখের ভিতরের কোনো জায়গা হতে বার বার রক্তক্ষরণ লক্ষ্য করেছেন?

এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

বছরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে ৩০০০ শিশু

বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩ হাজার শিশু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। এসববিস্তারিত পড়ুন

আপনি মানসিক রোগী কিনা বুঝবেন কিভাবে?

ওসিডি বা অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার একটি স্নায়বিক ও মানসিক রোগ।বিস্তারিত পড়ুন

শীত হোক বা গ্রীষ্ম—সারা বছরেই পায়ে দুর্গন্ধ ?

পায়ে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ হয়? শীত হোক বা গ্রীষ্ম—সারা বছরেই এরবিস্তারিত পড়ুন

  • রেফ্রিজারেটর খুললেই নাকে হাত, বাজে গন্ধ ?
  • খালি পেটে না খাওয়া ভালো যেসব খাবার
  • ইতিবাচক জীবনের জন্য শ্বাস নেবেন যেভাবে
  • পুরুষের ক্যানসারের যেসব লক্ষণকে অবহেলা করা কারো উচিত নয়
  • করোনারি হৃদরোগের নীরব ৪টি লক্ষণ, জানা দরকার সকলেরই
  • স্তন ক্যানসারের কারণ ও লক্ষণ জানেন?
  • এলার্জির সমস্যা কমাবে আপনি পাবেন একটুখানী স্বস্তি
  • জানা দরকারঃ ক্যান্সারের শীর্ষ অজানা লক্ষণগুলো
  • ২ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে
  • ধূমপানের কুফলে শরীরের প্রায় সব অঙ্গই সরাসরি আক্রান্ত হয়, তবে ফুসফুস এবং হৃদযন্ত্রই বেশি আক্রান্ত হয়।
  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দূত হওয়ায় সায়মা ওয়াজেদকে অভিনন্দন
  • পেট ভরে ভাত খাবেন না। কী হতে পারে জানেন?