রবিবার, এপ্রিল ২১, ২০২৪

আমাদের কণ্ঠস্বর

প্রধান ম্যেনু

তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম

“ওকে খুলে বলতে পারিনা যে আমিই সেই কুমারী মা…

“ভীষণ হতাশার মাঝে দিন রাত কাটাচ্ছি আমি। একজনের সাথে দীর্ঘ ৫ বছর আমার সম্পর্ক ছিলো। এর মাঝে অনেকবার সম্পর্ক ভেঙ্গেও গিয়েছিলো। সে নিজেই বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ব্রেকআপ করতো। আমি ওকে ভীষণ ভালোবাসতাম। ব্রেকআপ হলে মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়তাম। পরে, ৩/৪ মাস পর যখন সব ভুলে হাসিখুশি সাধারণ জীবনে ফিরে গিয়ে জীবনটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইতাম তখনই ও আবার ফিরে আসতো। যতবার ফিরে এসেছে, এমন ভাব করেছে যেন আমাকে ও খুব মিস করেছিলো আর আমাকে অনেক ভালোবাসে।

সম্পর্কের দুই বছরের পর থেকে আমরা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতাম। সমস্যাটা হল তখন, যখন আমি প্রেগন্যান্ট হয়ে যাই। ও আমার সাথে সে সময় যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমাকে দূরে থাকতে বলে। আমি ওকে জানাই যে আমি প্রেগন্যান্ট। ও বলে আমি নাকি ওকে আটকানোর জন্য মিথ্যে বলছি। আমি সম্পুর্ন গর্ভপাতের বিরুদ্ধে ছিলাম। নিজের বাচ্চাকে আমি কি করে হত্যা করতে পারি।

যাই হোক, ৩ মাস পর আমি আবার ও কে জানাই যে আল্ট্রাসাউন্ড করে দেখো, আমি আসলেই মা হতে যাচ্ছি, কিন্তু ও কোন সাড়া দেয়নি। আমার আব্বু নেই। তিনি ৩ বছর আগে মারা গেছেন। ৫/৬ মাস পর আম্মু আমার শারীরিক পরিবর্তন দেখে বুঝলে আমি সব খুলে বলি। আম্মু আমাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলে। আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই। পরিচিত এক মাতৃসনদ ক্লিনিকে আশ্রয় নেই। ৬ মাস থেকে আমার সন্তান জন্মদান পর্যন্ত ওখানেই থাকি। কত যে কষ্টের সম্মুখীন আমাকে হতে হয়েছিলো তা কেবল আমিই জানি!

সাত মাসের সময় ও আমাকে এক জায়গায় দেখে, পরে যোগাযোগ করে যে ও আমাকে আর আমার সন্তানকে চায়। আর কষ্ট দিবেনা বলে ফিরে আসে। বাচ্চা জন্ম নেয়ার কদিন আগে আবার বদলে যায়। যেদিন আমার সন্তান হল ও আসেনি। ৩ দিন পর দেখতে আসে। এরপর বলে এটাই শেষ দেখা, শেষ কথা। আসলেই আজ পর্যন্ত সে ফিরে আসেনি। এর মাঝে একজন আমাকে খুব ভালোবাসে।

আমাকে হাসায়, আমার দুঃখ, কষ্টে আমাকে ভরসা দেয়। আমারো তাকে ভালো লাগে এখন। আমি আমার সন্তানের কথা ভেবে প্রেমিকের দাদীকে কল করে জানাই যে তাঁদের ছেলের সন্তান আছে আমার সাথে। উনি আমাকে মিথ্যাবাদী ভেবে বিশ্বাস করেন না। আমার কাছে সন্তান জনিত সব প্রমান আছে। ওর সাথে কথোপকথনের প্রমানও আছে। ডাক্তার রাও জানে। আমার এখন কী করা উচিত?

ওর এখন অন্য আরেকটি মেয়ের সাথে সম্পর্ক চলছে। আমার সাথে যে যে সময় ব্রেকআপ হয়েছিলো সেই সময়ে ঐ মেয়ের সাথে ওর সম্পর্ক ছিলো, সেটা ও নিজেই স্বীকার করেছে। অন্যদিকে যে ছেলেটা আমাকে ভালোবাসে সে আমাকে নিয়ে সিরিয়াস। সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। আমার সন্তান কেও অনেক আদর করে। আমি খুলে বলতে পারিনা যে এটা আমার সন্তান। আমিই কুমারী মা। ও অনেকের থেকে শুনেছিলো। আমাকে বলে যে, ” মনে হয় এটা তোমার সন্তান, কিন্তু কী করবো । তোমাকে ভালোবাসি তো তাই অন্য কথা চিন্তা করতে চাইনা।”

এই ছেলেটার ব্যাকগ্রাউন্ড অনেক শক্তিশালী আর সে নিজের জীবনেও সফল। অন্যদিকে আমার প্রেমিক যে ছিলো তার বাবার অনেক টাকা কিন্তু ও কিছুই করেনা। আমার কী করা উচিত? কী করলে আমার জীবনটা একটু সুন্দর হবে? কী করলে আমি সাধারণ একটা জীবন পাবো?”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

পরামর্শ:

আপুরে, আপনাকে সান্ত্বনা দিব নাকি একটু বকে দিব, আমি আসলে বুঝতে পারছি না। ভালোবাসা অন্ধ হয় জানি, কিন্তু এতটাও অন্ধ যে নিজের জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলেছেন? ভুল মানুষের সাথে প্রেমের সম্পর্কে অনেকেই জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সেই ভুল প্রেমিকের সন্তান গর্ভে ধারণ করা এবং সেই অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তানকে কুমারী মা হিসাবে জন্ম দেয়াটা কোনভাবেই উচিত হয়নি। না আপু, গর্ভপাত না করিয়ে আপনি কোন বাহবার কাজ করেন নি। বরং কুমারী মা হিসাবে শিশুটিকে দুনিয়ায় এনে আপনি তাঁকে ভয়াব একটি পরিস্থিতির মাঝে ফেলে দিয়েছেন। এই সমাজ কোনদিনও তাঁকে গ্রহণ করবে না, পদে পদে তাঁকে অসম্মান আর কষ্টের মুখোমুখিই হতে হবে। পিতার কাছে তো সে জীবনেও ভালোবাসা পাবে না, এবং কোন একদিন আপনার জীবনে অন্য কেউ আসলে দেখা যাবে সবচাইতে বেশী নির্যাতিত হচ্ছে এই শিশুটি। গর্ভপাত সমর্থন যোগ্য নয় জানি, কিন্তু আমার মনে হয় এই শিশুটিকে পৃথিবীতে না আনলেই আপনি ভালো করতেন।
আপু, আমি আপনার স্থানে হলে প্রেমিকের কাছে পিতৃত্ব দাবী করতে যেতাম না। আপনি যদি চান যে আপনার সন্তান আপনার কাছেই থাকুক, তাহলে সেটা উচিতও হবে না। সেই পরিবার হয় তাঁদের সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে আপনার জীবনকে আরও নরকের মত করে তুলবে। নাহলে বাচ্চাটির পিতৃত্ব দাবী করে আপনার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবে। দুদিকেই আপনার লস, বাচ্চাকে হারাবেন আপনি। আর বাচ্চাতাও ওদের কাছে মোটেও সুখে থাকবে না। আর আপনি যদি মনে করেন প্রেমিকের পরিবারকে উচিত শিক্ষা দেবেন বা হরেক রকম অশান্তি মোকাবেলা করতে পারবেন, তাহলে আইনি লড়াইয়ে নেমে পড়েন।
আপনি জানতে চেয়েছেন কী করলে জীবনটা একটু স্বাভাবিক হবে। সত্যি কথা বলি, আপনার জীবন কখনোই ১০০ ভাগ স্বাভাবিক হবে না। তবে চেষ্টা করতে দোষ নেই। যে মানুষটি আপনাকে ভালোবাসেন, তাঁকে সব খুলে বলুন। সমস্ত সত্য। কেননা ভালোবাসায় মিথ্যার কোন স্থান নেই। তিনি যদি সব জেনে আপনাকে ও আপনার সন্তানকে মেনে নেন, তাহলে খুব ভালো। কিন্তু মিথ্যা বলে কোন প্রকারের সম্পর্ক করতে যাবেন না। এই মানুষটিকে ভালো মানুষ বলেই মনে হচ্ছে। হয়তো তিনি সব জেনে আপনাকে গ্রহণ করবেন, আপনার বাচ্চাকে নিজের নাম দেবেন… তাতে আপনি ও সন্তান দুজনেই ভালো থাকবেন। তবে হ্যাঁ আপু, ওই প্রেমিককে ভুলেও আর নিজের জীবনে প্রবেশ করতে দিয়েন না।

প্রিয়.কম

এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

এটিএম থেকে টাকার পরিবর্তে কী বের হচ্ছে?

এটিএম বুথের মেশিন থেকে টাকাই তো বের হওয়ার কথা। কিন্তুবিস্তারিত পড়ুন

৩৩ বছরে ছুটি নিয়েছেন মাত্র একদিন

১৯৪০-এ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নার্সিংয়ে হাতেখড়ি। দু’টি বিশ্বযুদ্ধ, ২৪ বার প্রধানমন্ত্রীবিস্তারিত পড়ুন

লজ্জায় লাল হয়ে যায় পাখিও

লজ্জা পেলে শুধু মানুষের মুখই লাল হয়ে যায় তা কিন্তুবিস্তারিত পড়ুন

  • দুই হাতের হৃদয়রেখা মিলে গেলে কি হয় জানেন?
  • ৩২১ থেকে ওজন কমিয়ে ৮৫!
  • রং নম্বরে প্রেম, বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি ঝলসে যাওয়া মুখ
  • পানিতে ভেসে উঠলো অলৌকিক হাত!
  • ১৫ বছরে একবার ফোটে ‘মৃত্যুর ফুল’
  • চা বিক্রেতা এখন ৩৯৯ কোটি টাকার মালিক
  • একটি মাছের বিষে মারা যেতে পারে ৩০ জন
  • মোবাইল কিনতে ছয় সপ্তাহের শিশুকে বিক্রি
  • পরকীয়ায় জড়াচ্ছে নারীরা প্রধান যে তিনটি কারণ নেপথ্যে
  • ২৪০০ কেজি খিচুড়ি রান্না হয় যেখানে দৈনিক !
  • পরীক্ষায় ফেল করলেই বিবাহ বিচ্ছেদ
  • কান্না থামছিল না তাঁরঃ ‘বাবা আমি আসছি’ বলে লাশ হলেন তরুণী