রবিবার, এপ্রিল ২১, ২০২৪

আমাদের কণ্ঠস্বর

প্রধান ম্যেনু

তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম

কিডনিতে পাথর হলে

কিডনি মানুষের শরীরের পিছন দিকে মেরুদন্ডের কাছে সীমের বিচির আকৃতির দু’টি অঙ্গ। কিডনির সাথে মূত্রথলির সংযোগকারী নালী রয়েছে যাকে ইউরেটার বা কিডনিনালী বলে। এই কিডনিনালী ২৫ সেঃমিঃ-এর মত লম্বা।

এর তিনটি জায়গায় একটু চাপা রয়েছে। প্রথমটি হল কিডনির পেলভিসের সাথে ইউরেটারের সংযোগ স্থল, দ্বিতীয়টি যখন পেলভিক ব্রীজ ক্রস করে এবং তৃতীয়টি যখন মূত্রনালী প্রস্রাবের থলিতে প্রবেশ করে। কিডনি থেকে যখন পাথর কিডনি নালীতে নেমে আসে তখন এই জায়গাগুলোতে পাথর আটকানোর সম্ভবনা থাকে। এখানে উল্লেক্ষ্য যে, মূত্রনালীর পাথর মূত্রনালীতে উত্পন্ন হয় না এটি কিডনিতে উত্পন্ন হয়ে কিডনি নালীর দিকে নেমে আসে।

কিডনি নালীতে নেমে আসার সময় এটি কিডনি নালীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ করে দিতে পারে। এর ফলে কিডনির ভিতর প্রস্রাব জমে কিডনি আকারে বড় হতে পারে যাকে বলা হয় হাইড্রোনেফ্রোসিস। দীর্ঘদিন এই অবস্থা বিরাজমান থাকলে কিডনি ধীরে ধীরে নষ্ট হতে পারে। কিডনির পাথর ইউরেটারে নেমে আসলে দেহের পিছনে বক্ষ খাঁচার নীচে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই ব্যথা ক্রমশ নীচের দিকে যেমন তলপেট বা উরুর দিকে অনুভূত হতে পারে। ব্যথা ক্রমশ তীব্র হতে থাকে এবং আবার কমে আসে, এই ভাবে পুনঃ পৌণিক ভাবে ব্যথা চলতে থাকে। প্রস্রাব করার সময় ব্যথা হতে পারে। প্রস্রাব রক্তবর্ণ, ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত হতে পারে। কখনও কখনও কিছুক্ষণ পর পর প্রস্রাবের বেগ হতে পারে। যদি সংক্রমণ থাকে তবে বমি বমি ভাব, কাঁপুনি দিয়ে তীব্র জ্বর আসতে পারে। ইউরেটারে পাথরের অবস্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে ব্যথার তীব্রতা ও অবস্থান পরিবর্তন হয়।

চিকিত্সার ক্ষেত্রে মূত্রনালীতে পাথরের অবস্থান, আকার ও কি ধরণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে তা বিবেচ্য। সাধারণত ৫ মিঃমিঃ আয়তনের পাথর পানি বেশী খেলে নিজে নিজে প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যেতে পারে। ৭ মিঃমিঃ আয়তন পর্যন্ত পাথরের ক্ষেত্রে কিছু চিকিত্সা দিয়ে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। যদি এর মধ্যে পাথর বেরিয়ে যায় তবে ভাল অন্যথায় শল্য চিকিত্সা প্রয়োজন। শল্য চিকিত্সার ক্ষেত্রে- ক্ষেত্র বিবেচনায় ESWL, URS ও ICPL মেশিন দিয়ে পাথরকে চূর্ণ করা হয়। পরে পাথরের চূর্ণ প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়।

অনেক ক্ষেত্রে পাথরকে কিডনিতে ঠেলে দিয়ে ESWL করা হয়। পাথরের আকৃতি বেশী বড় হলে কেটে বের করে আনা শ্রেয়। এই পাথুরে রোগ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি অর্থাত্ ২ থেকে ২.৫ লিটার পানি পান করা উচিত্। যেসব খাদ্যে অক্সালেট বেশী আছে যেমন বীট, মিষ্টি আলু, বাদাম, চা, চকলেট ইত্যাদি কম খাওয়া প্রয়োজন। যদি কিডনিতে পাথর হতে পারে এমন কোন রোগ শরীরে থাকে তার যথাযথ চিকিত্সা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে যার একবার কিডনি পাথর রোগ হয় তার বার বারই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

ডাঃ মুহাম্মদ হোসেন
সহযোগী অধ্যাপক, ইউরোলজি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
চেম্বার: ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হসপিটাল, ধানমন্ডি, ঢাকা

এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

কত দিন পর পর টুথব্রাশ বদলাবেন?

শেষ কবে টুথব্রাশ পরিবর্তন করেছিলেন? যদি মনে করতে না পারেন,বিস্তারিত পড়ুন

ত্বকের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়

ত্বকে নানা কারণেই দাগ পড়তে পারে। বলা বাহুল্য, এই দাগবিস্তারিত পড়ুন

তরমুজ খেলে কি সত্যিই ওজন কমে?

বাজারে এখন তরমুজে ভরে গেছে। টকটকে লাল রসালো এই ফলবিস্তারিত পড়ুন

  • পরোক্ষ ধূমপান থে‌কে নারী‌দের সুরক্ষা চায় ‘নারী মৈত্রী’
  • বছরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে ৩০০০ শিশু
  • আপনি মানসিক রোগী কিনা বুঝবেন কিভাবে?
  • শীত হোক বা গ্রীষ্ম—সারা বছরেই পায়ে দুর্গন্ধ ?
  • রেফ্রিজারেটর খুললেই নাকে হাত, বাজে গন্ধ ?
  • খালি পেটে না খাওয়া ভালো যেসব খাবার
  • ইতিবাচক জীবনের জন্য শ্বাস নেবেন যেভাবে
  • পুরুষের ক্যানসারের যেসব লক্ষণকে অবহেলা করা কারো উচিত নয়
  • করোনারি হৃদরোগের নীরব ৪টি লক্ষণ, জানা দরকার সকলেরই
  • স্তন ক্যানসারের কারণ ও লক্ষণ জানেন?
  • এলার্জির সমস্যা কমাবে আপনি পাবেন একটুখানী স্বস্তি
  • জানা দরকারঃ ক্যান্সারের শীর্ষ অজানা লক্ষণগুলো
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *