রবিবার, জুন ১৬, ২০২৪

আমাদের কণ্ঠস্বর

প্রধান ম্যেনু

তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম

বাল্যবিয়ের প্রতিবাদে মাদ্রাসাছাত্রীর আত্মহত্যা

উচ্ছ্বল কিশোরী নূরজাহান। পড়াশোনা করে অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। বাবা-মা, সহপাঠীদেরও স্বপ্নের কথা জানায় সে।

কিন্তু মা-বাবাই তার স্বপ্ন ভেঙে দেন। পড়াশোনা বাদ দিয়ে স্ত্রী পরিত্যক্ত এক ব্যক্তির সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেয়া হয় তাকে।

ক্ষোভে অভিমানে বুধবার বিষপানে আত্মহত্যা করেছে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মাদ্রাসাছাত্রী নূরজাহান।

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বনচকিপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

নূরজাহান বনচকিপাড়ার নুরুল ইসলামের মেয়ে। সে ওসমানপুর বাহারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী ছিল।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মার্চ অতি গোপনে নূরজাহানকে বিয়ে দেয় পরিবার।

তার স্বামী বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ চান্দুপাড়ার ইসলাম উদ্দিনের ছেলে লাবলু মিয়া (২৭)।

পেশায় দিনমজুর লাবলু এর আগে আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। চার মাস আগে সেই স্ত্রীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

শুরু থেকেই এ বিয়ের বিরুদ্ধে ছিল নূরজাহান। তাই বিয়ের পর স্বামীর বাড়ি না গিয়ে পড়াশোনা করবে বলে কান্নাকাটি করে সে।

সোমবার লাবলু মিয়া নূরজাহানকে নিজের বাড়ি নিয়ে যেতে আসেন। এতে রাজি হয়নি নূরজাহান। এ কারণে তাকে গালমন্দ করেন মা রহিমা বেগম।

বুধবার সকালে লাবলুর সঙ্গে যেতে নূরজাহানকে আবারও জোরাজুরি করে তার মা। এর মাঝেই ঘরে ঢুকে কীটনাশক পান করে নূরজাহান।

দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ থাকায় বাড়ির লোকজনের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। তারা নূরজাহানকে ছটফট করতে দেখে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে নূরজাহান মারা যায়।

প্রতিবেশী আবুল কাসেম বলেন, বিয়েতে মেয়েটার ইচ্ছা ছিল না। এ কারণে অভিমান করে সে বিষপান করে মৃত্যুর পথ বেছে নেয়। আর বিয়ের কথা আমরা কেউ জানতাম না।

ওসমানপুর বাহারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বলেন, নূরজাহান অনেক মেধাবী ছিল। পড়াশোনায়ও সে বেশ মনোযোগী ছিল।

তিনি বলেন, নূরহাজানের বিয়ের কথা আমাদের জানানো হয়নি। বিষপান করে মারা যাওয়ার পর তার সহপাঠীদের কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি।

এদিকে নুরজাহানের স্বামী লাবলু মিয়া বলেন, দুই পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে বিয়ে হয়েছে। বিষপান করে মারা যাওয়ায় আমি কষ্ট পাচ্ছি।

কান্নায় ভেঙে পড়ে নুরজাহানের মা রহিমা বেগম বলেন, ‘মেয়ে বড় হয়েছে সে জন্যেই বিয়া দিছি। জামাই কোনো টাকা পয়সা নেয় নাই। এখন সে যে বিষ খায়া মারা যাবে কে জানতো।’

এদিকে নূরজাহান মারা যাওয়ার পর তার পরিবার দাবি করেছে সে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। এ কারণে সে বিষপান করেছে জানিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মরদেহ নেয়ার আবেদনও করেছে।

বদরগঞ্জ থানার ওসি আখতারুজ্জামান প্রধান বলেন, মেয়েটির পরিবার ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নিতে থানায় লিখিত আবেদন করেছে। বিষয়টি রংপুর কোতয়ালি থানায় জানানো হয়েছে।

এদিকে ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার এসআই ফেরদৌস রহমান বলেন, এখনও লাশ পরিবারের কাছে দেয়া হয়নি। আত্মহত্যার কারণ জানতে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।

এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

আরতদাড়ের সাথে বিরোধ, রহনপুর বাজারে আম বিক্রি বন্ধ

আম চাষিরা আমের মণ সর্বোচ্চ ৪৮ কেজি করার দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জেরবিস্তারিত পড়ুন

মূল্য ৭ কোটি: পঞ্চগড়ে কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) বিকাল পৌনে ৬টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীগঞ্জবিস্তারিত পড়ুন

রংপুরে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু, পালাল চিকিৎসক

রংপুরে ভুল চিকিৎসায় মেধা (২) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগবিস্তারিত পড়ুন

  • ট্রাকচালকের আসনে ছিল হেলপার
  • দুই ঠিকাদারকে পিটিয়ে টাকা ছিনতাই করল আ’লীগ-যুবলীগ
  • রংপুরে ডাকাতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আ.লীগ নেতা গ্রেফতার
  • গৃহবধূ হত্যায় স্বামী ও দেবরের ফাঁসি
  • স্ত্রীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অসহায় স্বামীর মামলা
  • রংপুরে গাছে বাসের ধাক্কা, তিনজন নিহত
  • পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ যুবক নিহত
  • খাদিজাকে বাঁচাতে বিনা পারিশ্রমিকে গাইবেন জনপ্রিয় শিল্পীরা
  • রংপুরে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার
  • রংপুরে ২ গৃহবধূ নিহত, স্বামীরা আটক
  • যে কম্বল দেয় তা দিয়া ঠাণ্ডা কাটে না বাহে