মঙ্গলবার, জুন ১৮, ২০২৪

আমাদের কণ্ঠস্বর

প্রধান ম্যেনু

তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম

রাজধানীতে শিশু পঙ্গু করার ‘কারখানা’!

মানুষ যে কতটা নিচে নামতে পারে তা হয়তো এই খবরটি না পড়লে জানতেই পারতেন না। আমাদের রাজধানীতে শিশুদের পঙ্গু করতে অবলম্বন করা হয় একটি নিষ্ঠুর প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া শুরু হয় শিশুর জন্মের আগেই। সিন্ডিকেট প্রথমে টার্গেট করে সম্ভাব্য ‘মা’কে। প্রয়োজনে টাকা দেয়।

জন্মের পর শিশুটিকে একটি হাঁড়িতে রাখা হয়। এভাবে চলে প্রায় ১৫ দিন। খেতে দেয়া হয়। এই খাবার খাওয়ার পর শিশুটি বেড়ে ওঠে। কিন্তু এই বেড়ে ওঠা স্বাভাবিক নয়। হাঁড়িতে থাকে বলে শিশুর কচি হাড় বেঁকে যায়। ঢাকার কয়েকটি জায়গায় এভাবে শিশুদের পঙ্গু করার ‘কারখানা’ চলছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বস্তি ও রেললাইন সংলগ্ন ঝুঁপড়ি ঘরগুলোতে শিশু-পঙ্গুর কাজটি সম্পন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে জন্মের পর ১০-১৫ দিনের জন্য নবজাতককে বড় পাতিল বা হাঁড়ির মধ্যে রেখে দেয়া হয়। সেখানে রেখেই নবজাতককে দেয়া হয় প্রয়োজনীয় খাবার। ফলে সেখানে থাকতে থাকতেই বেঁকে যায় নবজাতকের কচি হাড়, এই বাঁকা হাড় তার সারা জীবনের সঙ্গী হয়। এভাবেই একটি শিশু পরে চিরস্থায়ী ভিক্ষুকে পরিণত হয়। ইচ্ছা করলেও ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে আর ফিরে আসতে পারেন না স্বাভাবিক জীবনে। যে সিন্ডিকেট এই ভিক্ষুক তৈরি করে তারা ভিক্ষুকদের নিয়ন্ত্রণ করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। বিভিন্ন এলাকাভেদে স্থানীয় রাজনীতিক ও সন্ত্রাসী বাহিনী ভিক্ষুকদের নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানা যায়।

নবজাতক শিশুকে স্থায়ী পঙ্গু ভিক্ষুক বানানোর প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করে ভিক্ষুক সিন্ডিকেট। প্রথমে তারা দরিদ্র মা-বাবা কে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে হাত করে নেয়। এক্ষেত্রে ভিক্ষুক মা-বাবা কে লক্ষ্য হিসেবে ঠিক করে তারা। পরে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে গর্ভধারণে তাদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। গর্ভকালীন সময়টাতে ওই দম্পতিকে কিছু টাকা-পয়সাও দেয় তারা। সন্তান প্রসব হওয়ার পর শুরু হয় সিন্ডিকেটের দ্বিতীয় ধাপ। এ পর্যায়ে তারা নবজাতক শিশুকে পঙ্গু বানানোর কাজটি করে থাকে। বয়স দুই সপ্তাহ অতিক্রম হওয়ার পর একটি বড় মাটির পাতিল বা হাঁড়ির মধ্যে রাখা হয়

নবজাতককে। এক্ষত্রে বেছে নেয়া হয় রেললাইনের পাশের বস্তির কোনো ঝুঁপড়ি ঘর। বাঁচিয়ে রাখার জন্য পাতিল বা হাঁড়ির মধ্যেই ফিডারের মাধ্যমে শিশুটিকে সরবরাহ করা হয় দুধ। এভাবে ১০-১৫ দিন রেখে দেয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে বেঁকে যায় শিশুটির কচি হাড়। এরপর নবজাতককে পাতিল/হাঁড়ি থেকে বের করা হয়। এরপর শিশুটির শরীরে যেভাবে বাঁক ধরে সেভাবেই শুইয়ে রাখা হয় বিছানায়।

তৃতীয় ধাপে শুরু হয় পঙ্গু শিশুকে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তির প্রাথমিক কাজ। এ পর্যায়ে মা বাচ্চাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষা প্রার্থনা করেন। সময়ের সাথে সাথে বেড়ে ওঠে পঙ্গু শিশু। এরপর সে চলে যায় সিন্ডিকেটের খপ্পরে। চতুর্থ ধাপে নিজেদের স্বার্থে পঙ্গু শিশুকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় সিন্ডিকেট। মাসিক ৫-৬ হাজার টাকা দেয়ার বিনিময়ে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয় তাকে। পঙ্গু শিশুর মা-বাবাও মাসিক ৫/৬ হাজার টাকা পেয়ে সন্তুষ্ট থাকেন। আর এই পঙ্গু ভিক্ষুককে দিয়ে দৈনিক হাজার হাজার টাকা পকেটে পুরে ভিক্ষুক সিন্ডিকেটের নেতারা।

দেশবরেণ্য শিশু বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান বলেন, জন্মের পর একজন নবজাতকের শরীরের হাড় (বোন) খুবই নমনীয় থাকে। এই সময়টাতে শিশুদের ‘বোন ডেভেলপমেন্ট’ হয়। ফলে নবজাতক শিশুকে যেভাবে রাখা হয় তার শরীরের প্রতিটি হাড় সেভাবেই গড়ে ওঠে।

গুলশান এলাকায় দেখা যায় ভিক্ষারত শিশু কবিরকে (ছদ্মনাম)। বয়স ১২-১৩ বছর। তার দুই পা ও দুই হাত অস্বাভাবিক বাঁকানো। মাটিতে ভর দিয়ে সরীসৃপের মতো এগিয়ে চলে সে। সিগন্যাল পড়লেই দাঁড়ানো গাড়ির জানালার কাছে গিয়ে ভিক্ষা প্রার্থনা করে। সে বলে, ‘অনেকেই কয় ঢাকার ফকিররা ভিক্ষা করে ফ্ল্যাট-গাড়ি কইরা ফ্যালাইছে। রাস্তায় রাস্তায় মানুষের হাতে-পায়ে ধরে ভিক্ষা নেয়। কিন্তু কপালের পরিবর্তন হয় না। বাড়ি-গাড়ি ঠিকই আছে, তা আমাগো না। আমাগো যারা কন্ট্রোল করে তাদের টাকার শেষ নাই।’

সমাজকল্যাণ অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু রাজধানীতেই রয়েছে প্রায় এক লাখ স্থায়ী ভিক্ষুক। এর মধ্যে অনেকেই শিশু। শিশু ভিক্ষুকদের মধ্যে সিংহভাগেরই হাত বা পা নেই, অস্বাভাবিক বড় মাথা, কঙ্কালসার দেহ, অস্বাভাবিক বাঁকানো হাত ও পা। চলাফেরায় একেবারই অক্ষম।

এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

মিরপুরে অজ্ঞান পার্টির কবলে কিশোর, খোয়ালো অটোরিকশা

রাজধানী মিরপুরের দিয়া বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে ব্যাটারি চালিতবিস্তারিত পড়ুন

নয়াপল্টনে র‍্যাবের অভিযানে অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জামাদিসহ আটক ১

রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় ৬৩ নম্বর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিটিআরসিরবিস্তারিত পড়ুন

গার্ডরুমে সহকর্মীর গুলিতে পুলিশ সদস্য নিহত

রাজধানীর গুলশান-বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকায় গুলশান থানার ক্ষেত্রাধিন ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনেরবিস্তারিত পড়ুন

  • বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদকের ৭২ কর্মকর্তার চাকরি ছাড়ায় নানা আলোচনা
  • রাজধানীর শিশু হাসপাতালে আগুন
  • বায়ু দূষণ: শীর্ষস্থানে বাংলাদেশ, দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান
  • ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, তাড়াহুড়োয় ভুল হয়ে গেছে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী
  • রাজধানীতে হাতিরপুলের আগুন নিয়ন্ত্রণে
  • হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া
  • রাস্তায় ইফতার করলেন ডিএমপি কমিশনার
  • অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল অভিশ্রুতি নাকি বৃষ্টি
  • তিন অপহরণকারী আটক, অপহৃত শিশু উদ্ধার !
  • ধর্ষণ করার আগে ছাত্রীটিকে দল বেঁধে মারধর করল
  • কখনো অঝর ধারায়, কখনো বা থেমে থেমে বৃষ্টি, ভোগান্তি সারাদিন
  • অধরা সিদ্দিকুরের দুর্দশায় দায়ী পুলিশরা