‘মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে’

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকার সবধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
মাদরাসা পাঠ্যবইয়ের ডিজিটাল সংস্করণ প্রকাশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন সহজেই বইগুলো পড়ার সুযোগ পাবে।
সাধারণ পাঠ্যক্রমের আরো ১৬টি বইয়ের ডিজিটাল ভার্সন তৈরি করা হয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান।
আজ মাদরাসা শিক্ষা ধারার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ইসলামি ও আরবি বিষয়সমূহের ইন্টার-অ্যাকটিভ ডিজিটাল মাদরাসা টেক্সটবুক (আইডিএমটি)-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ৪টি টেক্সট বই- কুরআন মজিদ, আকাইদ ও ফিকাহ এবং আরবি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের ডিজিটাল ভার্সন আজ প্রকাশ করা হয়েছে। এ চারটি বই এখন অনলাইন বা অফলাইন সুবিধা নিয়ে ইলেকট্রনিক বিভিন্ন মাধ্যমে, যেমন- কম্পিউটার, ট্যাব বা মোবাইল ফোনে পড়া যাবে।
তিনি বলেন, আইডিএমটিতে শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় শব্দের অর্থ, বাস্তব উদাহরণ এবং ছবি ও ভিডিও সংযোজন করা হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে দাখিল ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই ই-লার্নিং সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে বই বা কনটেন্ট বিনামূল্যে ডাউনলোড করে পড়তে পারবে বলেও তিনি জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাদরাসা শিক্ষার্থীরা ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তি আয়ত্ত ও ব্যবহার করতে সক্ষম হবে।
মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে এ সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩৪২টি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, আরো ৫০৯টি ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ৩১টি মাদরাসায় অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। আরো ২১টি মাদরাসায় অনার্স কোর্স চালু করা হবে।
তিনি বলেন, এ সরকারই ইসলামি শ্ক্ষিা ও গবেষণার উন্নয়নে আরবি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও জানুয়ারির ১ তারিখে প্রি-প্রাইমারি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেয়া হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা পুরো সেট বই হাতে পাবে, যা বিশ্বে একটি উদাহরণ। তিনি বলেন, আমাদের নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে। আমরা প্রযুক্তি শুধু আমদানি করব না, আমাদের প্রযুক্তি ও জ্ঞান রপ্তানিও করব।
নাহিদ জানান, নোট বই, গাইড বই এবং কোচিং বাণিজ্য চলবে না। তবে, পশ্চাৎপদ শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। সকলের মতামতের ভিত্তিতেই শিক্ষা আইন প্রণয়ন করা হবে।
অনুষ্টানে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ কে এম ছায়েফ উল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বুয়েটের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম কায়কোবাদ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম জাকির হোসেন ভূঞা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বিল্লাল হোসেন এবং বুয়েটের সিএসই বিভাগের প্রফেসর ড. সোহেল রহমান বক্তৃতা করেন।
এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

শেকৃবির ১২ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) “আওয়ামীপন্থি” ১২ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তবিস্তারিত পড়ুন

২৭তম বিসিএসে বঞ্চিত ১,১৩৭ জনের চাকরি ফেরত দিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ
১৭ বছর আগে ২৭তম বিসিএসে নিয়োগবঞ্চিত ১,১৩৭ জনের চাকরি ফেরতবিস্তারিত পড়ুন

এইচএসসির ফল প্রকাশ মঙ্গলবার, জানা যাবে যেভাবে
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করাবিস্তারিত পড়ুন