‘হোল্ড অন’ শুনে ক্ষেপে যাওয়া সেই ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে ঠিকাদারকে চড় মারার অভিযোগ


এ বছরের মার্চ মাসের ঘটনা। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় বয়োজ্যেষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর মুখে “হোল্ড অন” শুনে ক্ষেপে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত। সে সময় তাদের দুজনের কথোপকথনের ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়। ঝড় ওঠে আলোচনা-সমালোচনার।
সেই প্রতীক দত্ত এখন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত। সেখানেই এবার তার বিরুদ্ধে বয়োজ্যেষ্ঠ এক ঠিকাদারকে প্রকাশ্যে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের জামিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন।
বুধবার সকালে এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই এসিল্যান্ডের শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেছেন বলেও জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রের বরাত দিয়ে বাংলা ট্রিবিউন জানিয়েছে, মাঝবাড়ি-রাধাগঞ্জ সড়কের জামিলা নামক স্থানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি ব্রিজের নির্মাণকাজ চলছে। ওই কাজের ঠিকাদার আব্দুস সামাদকে খাল থেকে মাটি তোলা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে চড় মারেন কোটালীপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল আজম, উপসহকারী প্রকৌশলী মনজুরুল হক ও নির্মাণশ্রমিকসহ অর্ধশতাধিক লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়লে প্রতীক দত্ত দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
সেখানে কাজ করা শ্রমিক আবুল বাশার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা ব্রিজ নির্মাণের সময় রাস্তার মাটি কেটে খালের কিনারায় রাখি। এখন ব্রিজের কাজ শেষ হওয়ায় ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়কের জন্য সেই মাটি ভেকু মেশিন দিয়ে খাল থেকে উত্তোলন করছিলাম। এ সময় এসিল্যান্ড স্যার আসেন। তিনি ঠিকাদার সামাদকে খাল থেকে মাটি উত্তোলন নিয়ে বকাঝকা করে কাজের সাইড থেকে চলে যেতে বলেন। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে এসিল্যান্ড স্যার উত্তেজিত হয়ে ঠিকাদারের গালে চড় মারেন। ঠিকাদার পড়ে যান। এতে তার পায়ের আঙুল কেটে যায়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।”
বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদার আব্দুস সামাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এসিল্যান্ড স্যার আমার সঙ্গে যা করেছেন বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ওপর মহল থেকে আমার শ্বশুর ইউনুস শরিফের সঙ্গে মীমাংসার দিকে গেছে। আমাকে কিছু বলতে বইলেন না। ওপর মহল থেকে ঝামেলায় আছি।”
তার শ্বশুর ইউনুস শরিফ বলেন, “আমার জামাইকে চড় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এসিল্যান্ড মঙ্গলবার রাতে আমার কাছে ভুল স্বীকার করেছেন। বিষয়টির মীমাংসা হয়ে গেছে।”
তবে চড় মারার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত। তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে ঠিকাদার আব্দুস সামাদের কথা-কাটাকাটি হয়েছে। ঠিকাদারকে চড় মারার কোনো ঘটনা ঘটেনি। যে ঘটনা ঘটেছে তা মীমাংসা হয়ে গেছে।”
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীনুর আক্তার বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। কোনো অভিযোগও পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবো।”
এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ


গুলশান-ধানমন্ডি-নিকেতন লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমন্ডি লেকের দূষণ রোধবিস্তারিত পড়ুন


বাকস্বাধীনতা-সম্মানহানি বিবেচনায় সাইবার আইন সংশোধন: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতের পাশাপাশি ব্যক্তির সম্মানহানি যেনবিস্তারিত পড়ুন


‘পেটের দায়ে এই জানমারা গরমেও রিকশা নিয়ে বাহির হতে হয়’
রাজশাহী মহানগরীর এক রিকশাচালক জীবিকার প্রয়োজনে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও রিকশাবিস্তারিত পড়ুন













