অবিশ্বাস্য! জ্যাক দিয়ে উঁচু করা হল আস্ত বাড়ি!
প্রায় পঁচিশ বছরের পুরনো একটা আস্ত বাড়িকে মাটি থেকে ওপরের দিকে তোলা হচ্ছে। গত ছ’দিনে মাটি থেকে প্রায় দু’ফুট তুলে ফেলা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুলস্থূল পড়ে গেছে ব্যান্ডেল গ্রিন পার্ক এলাকায়। কারণ গোটা ঘটনাই রাজ্যে প্রথম।
এই বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে দূর–দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেছে ব্যান্ডেল গ্রিন পার্কে রেলের কর্মচারী অনুপ মাঝির বাড়ির সামনে। মাটির স্তর থেকে বাড়ির মেঝের উচ্চতা কম হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষায় বাড়ির ভেতরে পানি ঢুকে পড়ত।
অনুপবাবু বলেন, বাড়ি ভেঙে আবার নতুন করে বাড়ি করা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। তাই খোঁজ–খবর নিয়ে হরিয়ানার এক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রীতিমতো আইন মাফিক চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরেই তিনি কাজ শুরু করার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, সংস্থার পক্ষ থেকে বাড়ি উঁচু করার কাজ চলার সময় বাড়ির কোনও ক্ষতি হলে সংস্থা তার সম্পূর্ণ দায়ভার নেবে। পাশাপাশি ছোটখাটো ক্ষয়ক্ষতি, যেমন বাড়ির কোনও জানলার কাচ, বেসিন বা অন্য কোনও কিছু ভেঙে গেলে তারও দায়ভার সংস্থার। এভাবেই এক মাসের চুক্তিতে একটা আস্ত বাড়িকে মাটি থেকে তিন ফুট ওপরে তুলে ফেলা হচ্ছে।
কোনও জাদু নয়, সাধারণ প্রযুক্তি ব্যবহার করেই। ইতিমধ্যেই মাত্র ষোলো জন শ্রমিকের চেষ্টায় ছ’দিনে গোটা বাড়িটিকে মাটি থেকে প্রায় দু’ফুট তুলে ফেলা সম্ভব হয়েছে। বাড়ির উচ্চতা প্রায় দু’ফুট বেড়ে গেলেও বিশাল ওই বাড়ির বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয়নি।
এই অসম্ভব কাজকে সম্ভব করে দেখাল হরিয়ানা গান্ধী নগরের শিবচরণ সৈনি বিল্ডার। রাস্তায় চলার সময় আমরা অনেকেই লক্ষ্য করেছি জ্যাকের সাহায্যে গাড়ির চাকা পাল্টাতে। সেই জ্যাকের সাহায্যেই যে আস্ত বাড়িকেও তুলে ধরা সম্ভব, তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করার উপায় নেই। বাড়ির ভেতের ওপরের অংশ থেকে ভেঙে সেখানে লাগানো হয়েছে একাধিক স্টিলের চ্যানেল। সেই চ্যানেলের ঠিক নিচে জ্যাক লাগিয়ে সেটিকে ঘুরিয়ে ধীরে ধীরে বাড়িটিকে ওপরের দিকে তোলার কাজ চলছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে গোটা বাড়িটির উচ্চতা বাড়ানোর জন্য এখনও পর্যন্ত প্রায় দেড়শ’টি জ্যাক ব্যবহার করা হয়েছে।
সংস্থার সুপার ভাইজার সোনু সিং বলেন, এই ধরনের কাজ তাঁরা হামেশাই করে থাকেন। বাড়ির উচ্চতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁরা সম্পূর্ণ বাড়ি স্থানান্তরের কাজও করে থাকেন।
সোনু বলেন, গুজরাটের আমেদাবাদের বাবলা শহরে ষোলো ফুট বাই ষোলো ফুট একটি বিল্ডিংয়ের উচ্চতা বারো ফুট বাড়ানো হয়েছে।
সংস্থার কর্মী জয় ভগবান বলেন, কেরলে একটি আস্ত মন্দির চার কিলোমিটার দূরে অন্য জায়গায় স্থানান্তরের নজির রয়েছে তাঁদের। তাঁর কথায়, এটা একেবারেই বিপজ্জনক নয়, এ ক্ষেত্রে বাড়ির কোনও ক্ষতিও হয় না।
এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ
পৃথিবীর সব প্রাণী ধ্বংস হবে কবে, জানালেন বিজ্ঞানীরা
পৃথিবীতে কোনো প্রাণী বা প্রজাতিই স্থায়ী নয়। একদিন না একদিনবিস্তারিত পড়ুন
এটিএম থেকে টাকার পরিবর্তে কী বের হচ্ছে?
এটিএম বুথের মেশিন থেকে টাকাই তো বের হওয়ার কথা। কিন্তুবিস্তারিত পড়ুন
৩৩ বছরে ছুটি নিয়েছেন মাত্র একদিন
১৯৪০-এ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নার্সিংয়ে হাতেখড়ি। দু’টি বিশ্বযুদ্ধ, ২৪ বার প্রধানমন্ত্রীবিস্তারিত পড়ুন