নোয়াখালি-স্মৃতি আঁকড়ে তসলিমাকে ফেরাবে বাঙালি!
আরও এক বাংলাদেশ হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ! আশঙ্কা, এমনই৷ আর, ওই আশঙ্কার জেরেই, মুক্ত অস্তিত্বের ভাবনায় মজে থাকার ডাক৷ এবং, ওই মুক্ত অস্তিত্বের ভাবনায় মজে থাকার ডাক দেওয়া হল আবার নোয়াখালি গণহত্যার ক্ষত-যন্ত্রণার স্মৃতি আঁকড়ে৷ একই সঙ্গে দাবি, এপার বাংলায় ফিরিয়ে আনা হোক ওপার বাংলার তসলিমা নাসরিনকে৷
কোনও কোনও ক্ষেত্রে স্মৃতি এখন ঝাপসা৷ কোনও কোনও ক্ষেত্রে তা আবার বিস্মৃত৷ তবে, নোয়াখালির ওই গণহত্যার ক্ষত আর যন্ত্রণার স্মৃতি এখনও বহু বাঙালির বিস্মৃত নয়৷ তেমন সম্ভবও নয়৷ বরং, কোনও কোনও ক্ষেত্রে ওই ক্ষত-যন্ত্রণা ক্রমে আরও বেড়ে চলেছে৷ কেননা, কোথাও না কোথাও তো অবসান ঘটবে এমন ক্ষত-যন্ত্রণার! কেননা, কোথাও না কোথাও থামবে ওই ক্ষত-স্মৃতির যন্ত্রণায় ফের খোঁচা দেওয়ার প্রক্রিয়া! অথচ, তেমন আর হচ্ছে কোথায়৷ নোয়াখালির গণহত্যা শুরু হয়েছিল ১৯৪৬-এর ১০ অক্টোবর, কো

গণহত্যার ওই ক্ষত-যন্ত্রণার স্মৃতি বহন করে চলতে হয়েছে এবং হচ্ছে বহু বাঙালিকে৷ কারও কম, কারও আবার অনেক বেশি৷ কিন্তু, শুধুমাত্র নোয়াখালির ওই গণহত্যার ক্ষত-যন্ত্রণার স্মৃতিও নয়৷ তার পরে রয়েছে দেশভাগের যন্ত্রণা-স্মৃতি৷ তারও পরে রয়েছে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের জন্ম এবং ওই অধ্যায়েরও অবর্ণনীয় বিভিন্ন ক্ষত আর যন্ত্রণার স্মৃতি৷ তবে, তার পরে এবং আগেও রয়েছে আরও নানা ক্ষত-যন্ত্রণার স্মৃতি৷ শেষ বলে কিছু আর নেই! তেমনই, শুধুমাত্র আবার বাঙালি-ই যে এমন বিভিন্ন অবর্ণনীয় নারকীয় ক্ষত-যন্ত্রণার সাক্ষী হয়ে রয়েছে অথবা স্মৃতি বহন করে চলেছে, তাও নয়৷ ১৯৪৭-এর ১৪ অগস্ট মধ্য রাতের পর থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত, এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফিরে ফিরে এসে চলেছে ওই ধরনের ক্ষত-যন্ত্রণার স্মৃতি৷ কখনও প্রকাশ্যে আসে সেই ক্ষত-যন্ত্রণার আখ্যান, কখনও আবার থেকে যায় কার্যত আড়ালে৷ তার উপর, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখন আবার বিভিন্ন উপায়ে প্রকাশ পাচ্ছে অসহিষ্ণুতা৷

তেমনই, আরও এক ক্ষত-যন্ত্রণার স্মৃতি বহু বাঙালির কাছে ঝাপসা হয়ে যায়নি এখনও৷ এবং, ওই যন্ত্রণার স্মৃতি, লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে কেন্দ্র করে৷ যন্ত্রণার ওই স্মৃতি, কলকাতা ছেড়ে যাওয়া এবং এই শহরে তাঁর পক্ষে আর ফিরে আসতে না পারার বিষয়কে কেন্দ্র করে৷ এমনই মনে করছে মুক্ত অস্তিত্বের ভাবনার জন্য গঠিত ফোরাম, ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য Reclaiming west Bengal’৷ এবং, যে কারণে, ওই ফোরামের তরফে শনিবার, ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় এক সভার আয়োজন করা হয়েছে কলকাতার রামমোহন লাইব্রেরি মঞ্চে৷ ‘পশ্চিমবঙ্গ একটি স্থান মাত্র নয় পশ্চিমবঙ্গ বাঙালির মুক্ত অস্তিত্বের ভাবনা’, এমনই বিষয়ের উপর বলবেন ওই সভার বক্তারা৷ এবং, ওই সভার আয়োজন করা হয়েছে নোয়াখালি গণহত্যা স্মরণ এবং তসলিমা নাসরিনের প্রত্যাবর্তনের দাবিতে৷ কিন্তু, নোয়াখালির ক্ষত-যন্ত্রণার স্মৃতি আঁকড়ে কেন এমন আয়োজন?
‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য Reclaiming west Bengal’-এর তরফে প্রকাশ দাস বলেন, ‘‘এখনও আমরা বহন করে চলেছি নোয়াখালির গণহত্যার ক্ষত, যন্ত্রণা৷ কিন্তু, কোথাও তো থামবে! কোথাও তো এর শেষ হবে! অথচ, এখনও ওই ক্ষত, যন্ত্রণার শেষ হয়নি৷ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে এই ধরনের ক্ষত, যন্ত্রণায় আমাদের বিদ্ধ হতে হচ্ছে৷ আমরা সকলে মিলে কেন শান্তির পরি

আর, তসলিমা নাসরিন? তাঁকে কলকাতায় ফেরানোর জন্য আপনারা দাবি করছেন৷ কোথায় কোথায় এই দাবি পেশ করছেন? প্রকাশ দাস বলেন, ‘‘মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বৃদ্ধির মধ্য দিয়েই আমরা তসলিমা নাসরিনকে ফেরানোর দাবি করছি মানুষের-ই কাছে৷ বিশেষ করে বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছি কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, লেখক সহ সমাজের বিভিন্ন অংশের সৃষ্টিশীল মানুষের কাছে৷ যাতে, তাঁদের মাধ্যমে তসলিমা নাসরিনকে কলকাতায় ফেরানোর দাবি আরও জোরদার হয়ে ওঠে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘নিজের মতামত প্রকাশের জন্য তসলিমা নাসরিনকে দেশ ছাড়তে হয়েছে৷ নিজের মতামত প্রকাশের জন্য তাঁকে কলকাতাও ছাড়তে হয়েছে৷ অথচ, এই শহরে তিনি আশ্রয়ের জন্য এসেছিলেন৷ তসলিমা নাসরিনের মতামত পশ্চিমবঙ্গেও প্রকাশ পেয়েছে৷ তবে, শেষ পর্যন্ত তিনি কলকাতায় আশ্রয় পেলেন না৷ এই বিষয়ে বিশিষ্টদের বিভিন্ন অংশের ভূমিকাও সন্দেহ আর প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে৷ তসলিমা নাসরিনের প্রতিবাদের ভাষা অন্য রকম হতেই পারে৷ তাই বলে তিনি কেন কলকাতায় আশ্রয় পাবে

সুনামির মতো বিপর্যয়ের পরেও তো শান্তি ফিরে আসে৷ অথচ, দেশভাগ এবং বাংলাদেশের জন্মের পরেও উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধান হল না৷ এ কথা জানিয়ে প্রকাশ দাস বলেন, ‘‘এখনও কেন জারি থাকবে উদ্বাস্তু সমস্যা? এখনও কেন বাংলাদেশ থেকে এপার বাংলায় উদ্বাস্তু হয়ে চলে আসতে হচ্ছে? বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনায় সরব হচ্ছে কলকাতা, বাঙালি৷ অথচ, কেন এখনও উদ্বাস্তু হয়ে চলে আসতে হচ্ছে, সেই বিষয়ে নীরব এই শহর৷ কবে নীরবতা ভাঙবে কলকাতার? কবে নীরবতা ভাঙবেন এখানকার বুদ্ধিজীবীরা? ’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এখনও যেভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশ জারি রয়েছে এবং বিশিষ্টদের লেখায় যে সব তথ্য পাচ্ছি, তাতে আমরা আশঙ্কায় রয়েছি, আরও এক বাংলাদেশ হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ৷ এই ধরনের পরিস্থিতির অবসান তো হবে! কোথাও তো থামবে এ সব! অথচ, বাঙালির অস্তিত্বে রয়েছে মুক্ত ভাবনা৷ বাঙালির সংস্কৃতির ওই মুক্ত ভাবনার বিকাশেই আমাদের অনুষ্ঠান৷’’ তিনি জানিয়েছেন, রাজনীতি অথবা রাজনৈতিক কোনও মঞ্চের সঙ্গে তাঁদের ফোরামের কোনও যোগাযোগ নেই৷ তবে, তাঁদের প্রয়াস জারি থাকবে৷ কেননা, তাঁরা মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গ শুধুমাত্র একটি স্থান নয়৷ পশ্চিমবঙ্গ, বাঙালির মুক্ত অস্তিত্বের ভাবনা৷
এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ


নোয়াখালীতে অস্ত্র ঠেকিয়ে কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগ
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে সতের বছর বয়সী এক কিশোরীকেবিস্তারিত পড়ুন


ভিক্ষুকে সয়লাভ নোয়াখালীর শহর
নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী এখন ভিক্ষুকের শহরে পরিণত হয়েছে। যদিওবিস্তারিত পড়ুন


নোয়াখালীতে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ
পেট্রলবোমা হামলার মামলায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাবিস্তারিত পড়ুন













