বাতাসে লাশের গন্ধ


গাজীপুরের টঙ্গীর প্যাকেজিং কারখানা টাম্পাকো ফয়লসের ধসে পড়া দেয়ালের নীচে চাপা পড়া আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ নিয়ে সোমবার উদ্ধার হলো চারজনের মরদেহ। কারখানার ধসে পড়া দেয়াল কেটে সরানোর কাজ চলার সময় ভেতর থেকে মরদেহ পঁচার দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। এ কারণে উদ্ধারকারীরা আশঙ্কা করছেন, ভেতরে হয়ত আরও মরদেহ আছে।
গোটা এলাকাতেই ছড়িয়ে পড়েছে এই দুর্গন্ধ। এই অবস্থায় সংবাদ কর্মী ও উদ্ধার কর্মীরা মুখে মাস্ক বেঁধেছেন। তবে মাস্কের সংকটের কারণে দুর্ভোগে আছেন তারাও।
শনিবার দুর্ঘটনার দিন কারখানার ২৪ শ্রমিক-কর্মকর্তার মৃত্যুর নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন আরও ৫০ জনের বেশি। দ্বিতীয় জন হাসপাতালে একজন মারা যাওয়ার পাশাপাশি বিধ্বস্ত কারখানা থেকে উদ্ধার হয় আরও চারটি মরদেহ।
সোমবার সকালে ভেতর থেকে পাওয়া যায় আরও দুটি মরদেহ। সকাল ১০টার পর কারখানার ধসে পড়া দেয়ালের নিচে পাওয়া যায় আরও একজনের মরদেহ। তার নাম ইসামঈল হোসেন বলে শনাক্ত হয়েছে। তিনি ওই কারখানায় কাজ করতেন। পরে দুপুরে পাওয়া যায় আরও একজনের মরদেহ। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৩ জনে।
শনিবার ভোরে টাম্পাকোয় বিস্ফোরণের পর পর আগুন ধরে যাওয়ার সময় সেখানে রাতের পালার কাজ চলছিল। কেবল এই পালায় যারা কাজ করছিলেন তারা নয়, পরের পালার কাজ শুরু হওয়ার আগে আগেও বেশ কয়েকজন কারখানাটিতে ঢুকেছিলেন। বিস্ফোরণের পর পর কারখানা থেকে কয়েকজন বের হয়ে আসতে পেরেছিলেন। তবে ভেতরে তখন কতজন ছিলেন, সে তথ্য অজানাই রয়ে গেলো।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ দুপুরে ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, গত রবিবার সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে আসার পর থেকে ফায়ার সার্ভিস তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। ভেতর থেকে মরদেহের দুর্গন্ধ বের হলেও এখনও কারখানার ভেতরে অভিযান চালানো যাচ্ছে না বলেও জানান শাকিল নেওয়াজ। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ভেতরে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক এখনও মজুদ আছে। তাই সেখানকার পরিস্থিতি বিপজ্জনক বলে এখনও ঢুকা যাচ্ছে না।’ এক প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা জানান, ঈদের দিনও তাদের উদ্ধার অভিযান চলবে।
দূরে সরিয়ে দেয়া হয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের
দুর্ঘটনার তৃতীয় দিন উদ্ধার অভিযান চলাচালে নিখোঁজদের স্বজন এবং সংবাদকর্মীদেরকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে উদ্ধারকারীরা। কারণ হিসেবে তারা উদ্ধার তৎপরতায় বাধার কথা বলছেন।
টাম্পাকো বিস্ফোরণে নিখোঁজ অনেকের স্বজন এখনও সেখানে ভিড় করে আছেন। তারা ধসে পড়া ভবনের ভেতরে ঢুকতে চাইলেও সেনাবাহিনী তাদেরকে যেতে দেয়নি।
টাম্পাকোর শ্রমিক রাশেজ বাবুর সন্ধানে তার বাবা দিলীপ বাবু ও মা কারখানার সামনে আজাহারি করছিলেন। দেয়ালের নিচ থেকে একটি মরদেহ উদ্ধারের খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে তারা ছুটে যান সেখানে। অনুরোধ করেন মরদেহটি দেখতে দেয়ার। এ সময় দিলীপ বাবু বারবার বলছিলেন, ‘আমাকে একটি বার লাশ দেখাও, আমি দেখতে চাই এটা আমার ছেলে কি না।’
তবে মরদেহটি সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরে তার ভাই নুরুল ইসলাম নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেন। তার নাম ইসমাইল হোসেন। তিনি টাম্পাকোয় অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।
টাম্পাকোর সামনে দুই দিন ধরে অপেক্ষা করে আছেন হারুনুর রশিদ গাজী। তার ভাই আনিসুর রহমান এই কারখানায় কাজ করতেন। কিন্তু তার কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না তিনি।
নিখোঁজের তালিকায় আনিসুরের নাম আছে। তার কী পরিণতি হয়েছে সেটা জানতে চান হারুনুর রশিদ।
এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ


‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি’ মোকাবিলায় প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি’ মোকাবিলার জন্যবিস্তারিত পড়ুন


৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবি গণ অধিকার পরিষদের
জাতীয় পার্টিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ করাসহ তিন দাবি জানিয়েছেবিস্তারিত পড়ুন


নুরুল হকের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন খালেদা জিয়া
গণ অধিকার পরিষদের আহত সভাপতি নুরুল হকের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেনবিস্তারিত পড়ুন













