শুক্রবার, জুন ৫, ২০২৬

আমাদের কণ্ঠস্বর

প্রধান ম্যেনু

ন্যাশনাল ক্রাইম নিউজ পোর্টাল

বাড়িতে প্রতি বেলায় ৫০ জনের রান্না হতো : চঞ্চল

আমার গ্রামের বাড়ি পাবনার সুজানগরের কামারহাটে। আমাদের গ্রামে চার-পাঁচটি মণ্ডপ করা হতো, এখনো হয়। একটা মণ্ডপ থেকে আরেকটা মণ্ডপে যেতে পাঁচ মিনিটের মতো সময় লাগে। মানে- একটা থেকে আরেকটার দূরত্ব খুব বেশি নয়। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, দুর্গাপূজা এলে পুরো গ্রামটাই সেজে ওঠে। পূজা এলে ঘর-বাড়ি-উঠান সাজানোর একটা রীতি আছে। পূজা শুরু হওয়ার এক মাস আগে থেকেই মায়ের ব্যস্ততা বেড়ে যেত।

আমার মা খুব, খুব ভালো আলপনা আঁকতে পারেন। ঘরের দরজা, ঘরের বারান্দা এই সব মায়ের হাতের ছোঁয়ায় একেবারে নতুন করে সেজে উঠত।

মায়ের সঙ্গে বোনেরাও আলপনার কাজ করত। সাধারণত মেয়েরাই এই কাজ করে। তবে আমিও মায়ের সঙ্গে আলপনার কাজ করতাম। অথবা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মায়ের কাজ করা দেখতাম। আমাদের বাড়িটা এমনিতেই ছিল উৎসবমুখর।

আমরা আট ভাইবোন। সব ভাইবোনকে পূজায় সাজিয়ে দেওয়ার জন্য নতুন জামাকাপড় কিনে দিতেন। পূজার আগে নতুন জামা-প্যান্ট কাউকে দেখাতাম না। নতুন জামা পরে বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়তাম।

পূজা এলেই কি যেন হতো। সারা দিন ঘুরতাম। এই মণ্ডপ থেকে ওই মণ্ডপে। এটা-সেটা খেতাম কিন্তু ক্লান্ত হয়েছি কি না, মনে করতে পারতাম না। আসলে মনে করার চেষ্টা করতাম না। সে কী আনন্দ। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে পূজা দেখা, ভোগ খাওয়া।

ছোট সময় সারা রাত পূজার মণ্ডপে থেকেছি এমন স্মৃতিও নেই। রাত এগারোটার মধ্যে ঘুরাঘুরি শেষ হয়ে যেত, লক্ষ্মী ছেলের মতো বাড়ি চলে আসতাম।

আমরা আট ভাইবোন তো আছিই। এরপরে আত্মীয়-স্বজন মিলে বাড়িতে যে লোকসমাগম হতো তাতে প্রতি বেলায় কমপক্ষে পঞ্চাশজনের খাবার রান্না করতে হতো। পূজার কটা দিন মা আর বোনেরা মিলে রান্নার কাজ করতেন।
পূজা-পার্বণ ছিল আমাদের গ্রামে সামাজিক উৎসব। কোনো ভেদাভেদ থাকে না। দশমীতে পদ্মায় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার সময় হলে, পুরো গ্রামের মানুষ এসে জড়ো হতো। আশপাশের গ্রাম থেকেও আসত অনেকে। সেই দৃশ্য আমাকে টানে।

এখনো পূজা এলেই গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করি। গ্রামে আমার বাবা-মা থাকেন। থাকেন পরিচিতজনেরাও। আছে পরিচিত নদী। নতুন সাজে আসে সর্বজনীন পূজা উৎসব। শেকড়ের টান অনুভব করি। মাটির কাছে যাওয়ার টান। মানুষের কাছে যাওয়ার টান। আমি দেখিনি পূজাকে কেন্দ্র করে আমাদের গ্রামে কোনো সমস্যা তৈরি হতে। ঢাকের তাল-বোল ছড়িয়ে পড়ত সারা গ্রামে। মন নেচে উঠত। এখনো ওঠে। তবে কারণ বদলেছে।

নিজে নতুন জামার জন্য বায়না ধরি না। দুর্গাপূজা এলে সবার জন্যই পোশাক কেনা হয়। এই কেনাকাটার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পাই। গ্রামে গিয়ে নিজের সন্তান বা ভাইবোনের সন্তানদের যখন আনন্দে মেতে উঠতে দেখি, তখন সব পাওয়া হয়ে যায়। গ্রামের অন্য ছেলেমেয়েরাও আমাদের বাড়িতে আসে আবার আমরা অনেকের বাড়িতে যাই। পরিচিত মানুষের সঙ্গে ভালো-মন্দ কথা হয়। অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়। সব মিলে দুর্গাপূজা একটা উপলক্ষ হয়ে আসে, শেকড়ে যাওয়ার উপলক্ষ। পুরোনোকে নতুন করে দেখার উপলক্ষ। শুধু ধর্মীয় না সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক মেলবন্ধনের সুযোগ হয় দুর্গাপূজায়। পূজা ফিরে ফিরে আসে, ফিরে আসে স্মৃতি, সেও এক অনিন্দ্য সুন্দর।

অনুলিখন : স্বরলিপি

এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ

‘বাজি’ দিয়ে ফিরলো কোক স্টুডিও বাংলা

“বাজি” গান দিয়ে এক বছরেরও বেশি সময়ের বিরতি কাটিয়ে অবশেষেবিস্তারিত পড়ুন

বর্ষার পর এবার সিনেমা ছাড়ার সিদ্ধান্ত অনন্ত জলিলের, কারণ জানালেন নিজেই

ব্যবসায়ী থেকে একসময় সিনেমায় অভিনয় করা শুরু করেন অনন্ত জলিল।বিস্তারিত পড়ুন

শাহরুখ-দীপিকার বিরুদ্ধে থানায় এজাহার

প্রতারণার অভিযোগে বলিউড কিং শাহরুখ খান ও অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনেরবিস্তারিত পড়ুন

  • থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে মামলা
  • এবার হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি রিয়াজ-চঞ্চল-মামুনুর রশীদসহ ১৪ শিল্পী
  • ওটিটি প্ল্যাটফর্মে যে সিরিজগুলো ২০২৫ মাতাবে
  • অবৈধ জুয়ার প্রচারণায় অপু-বুবলী-পরিমনি-ফারিয়াদের নাম
  • ৮ বছরের আইনি লড়াই শেষে বিবাহ বিচ্ছেদ চূড়ান্ত ‘ব্র্যাঞ্জেলিনা’ দম্পতির
  • বিয়ে করলেন তাহসান!
  • সমুদ্র পাড়ে দুর্গারূপে নওশাবা
  • শুল্কমুক্ত গাড়ি খালাস করেছেন সাকিব-ফেরদৌস, পারেননি সুমনসহ অনেকে
  • আলোচিত নায়িকা পরীমনির পরিবার সম্পর্কে এই তথ্যগুলো জানতেন?
  • বাবা দিবসে কাজলের মেয়ে শৈশবের ছবি পোস্ট করলেন
  • চলে গেলেন অভিনেত্রী সীমানা
  • শাকিবের সঙ্গে আমার বিয়ের সম্ভাবনা থাকতেই পারে: মিষ্টি জান্নাত