বিকাশ: গ্রাহকের আমানত অরক্ষিত
বিকাশ গ্রাহকের আমানত সুরক্ষা নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক সুত্রে জানা গেছে, দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া বিকাশে ৮০০ কোটি টাকা বা তারও বেশি অর্থ সঞ্চিত থাকছে, যা আমানত হিসেবে গণ্য হয়।
কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির আমানত গ্রহণের অধিকার না থাকায় এ টাকার সুরক্ষা দেয়া যাচ্ছে না। তাই প্রস্তাবিত আমানত সুরক্ষা আইন-২০১৪’র সংশোধনী এনে বিকাশ গ্রাহকদের বিশাল অংকের আমানতের সুরক্ষা দেয়া যায় কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তা পুরোপুরি নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের মানি ইন মোশনের সাথে যৌথ উদ্যোগে ব্র্যাক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিকাশের যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে। মোবাইলে লেনদেন সেবা প্রদানকারীর প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান গ্রাহক প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ।
বিকাশ গ্রাহকরা নিজের একাউন্ট থেকে যখন এজেন্টের কাছে ক্যাশ আউট বা ক্যাশ ইন করে তা ই-মানি ব্যবস্থায় সম্পন্ন হয় । গ্রাহক তার ই-মানি এজেন্ট এর নিকট থেকে তাৎক্ষণিক নগদায়ন করতে ব্যর্থ হয় বা গ্রহণ করে না- এই অর্থই বিকাশের কাছে গ্রাহকের আমানত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রতি মুহূর্তে বিকাশে এই আমানতের ন্যূনতম স্থিতি থাকে ৮০০ কোটি টাকা । এ অর্থ বিকাশ ব্র্যাক ব্যাংকে নিজেদের অ্যাকাউন্টে জমা রাখে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুত্র জানিয়েছে, ব্যাংক লেট মডেলে কার্যরত ডাচ্-বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং, এম ক্যাশ, মোবি ক্যাশে মোবাইল ব্যাংকিং এ হিসেব খোলা হলে গ্রাহকের একই কেওয়াইসির (গ্রাহক পরিচিতি তথ্য) তথ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকেও একটি হিসেব খোলা হয়। তাই টাকা জমা থাকলে তা উল্লিখিত ব্যাংক একাউন্টে চলে যায়। অন্যদিকে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে বিকাশই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যাদের গ্রাহক অ্যাকাউন্টের (হিসেব) সঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের সরাসরি কোন সংযোগ নেই।
অবশ্য বিকাশকে যেভাবে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছে তাতে তার দরকারও নেই। তবে একই কারণে বিকাশ গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষা দেয়া যাচ্ছে না। একইসাথে ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০ বা প্রস্তাবিত আমানত সুরক্ষা আইন, ২০১৪ এর আওতায় বিকাশ আমানত গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করে না। ফলে বিদ্যমান ব্যবস্থায় বিকাশ এর ‘ডিপোজিট ইন্সুরেন্স সিস্টেমে’ অন্তর্ভূক্ত করার কোন সুযোগ নেই। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত বিকাশে গ্রাহকের আমানত অরক্ষিত।
গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে বিকাশের পক্ষ থেকে লিখিত উত্তরে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম নীতি মেনেই বিকাশ ব্যাবসা করছে। বিকাশ একাউন্টে গ্রাহকের রক্ষিত টাকা সুরক্ষিত।
সুত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যালোচনায় দেখা গেছে দেশে আমানত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান, যেমন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কো-অপারেটিভ ব্যাংক, মাইক্রো ক্রেডিট, ইন্সুরেন্স কোম্পানি ইত্যাদির মধ্যে কেবল আর্থিক কোম্পানিকে আমানত গ্রহণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের আমানত সুরক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির কোন আইন বা বিধান নেই। বিকাশ কিংবা অনুরুপ কোন সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান গ্রহকদের আমানতকে প্রস্তাবিত আমানত সুরক্ষা আইন, ২০১৪ তে সন্নিবেশ করতে হলে উপরোক্ত আমানত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আমানত বীমা সিস্টেমে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। আর বিকাশকে আমানত বীমার আওতায় আনতে হলে আরও ৩ ধরনের প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। সেজন্য প্রস্তাবিত আইনের ব্যপক পরিবর্তন ও সংশোধন করতে হবে।
এ ব্যাপারে গভর্নরের মতামত নিয়ে শুধুমাত্র বিকাশের জন্য আইনের পরিবর্তন ও সংশোধন না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিচালনা পর্ষদের সভায় তা পরিবর্তন করা হয়।
সুত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩৬৩ তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিকাশ গ্রাহকের আমানত সুরক্ষিত করতে প্রস্তাবিত আমানত সুরক্ষা আইন ২০১৪’র আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে।
সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, – ব্র্যাক ব্যাংক এর সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বিকাশের গ্রাহকদের আমানত সুবিধার আওতায় আনতে হবে। যেহেতু অন্য সকল মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকরা আমানতে বীমা সুবিধার আওতায় আসছে। বিকাশকে এ সুবিধার আওতায় আনতে প্রস্তাবিত আমানত বীমা আইন-২০১৪ এর যেখানে যেখানে সংশোধনী/পরিবর্তন প্রয়োজন তা করা হবে। এসব বিষয়ের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগামী পর্ষদ সভায় উত্থাপন করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘সকল মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহক যেখানে আমানত বীমা সুবিধার আওতায় আসবে সেখানে বিকাশ বাদ পড়ে ছিল। কিন্তু তার গ্রাহকদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমানত একটি বড় অংক হওয়ায় এটি আমাদের চিন্তা করতে হচ্ছে। এজন্য বোর্ড মিটিং এ সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রস্তাবিত আমানত সুরক্ষা আইন ২০১৪ এর যে সব জায়গায় সংশোধন প্রয়োজন তা করার।
তবে সুত্র জানিয়েছে, বিকাশ গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে কিনা তা পুরোপুরি নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের উপর। কেননা, আইন প্রণয়ন, পরিবর্তন বা সংশোধনের কোন এখতিয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই।
এই সংক্রান্ত আরো সংবাদ


সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ: গোপালগঞ্জে যুবককে বিবস্ত্র করে মারধর
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জে এক সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যের ওপর হামলা, মারধরবিস্তারিত পড়ুন


ঝিনাইদহে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৬৫
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় বিএনপির দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষেবিস্তারিত পড়ুন


‘পেটের দায়ে এই জানমারা গরমেও রিকশা নিয়ে বাহির হতে হয়’
রাজশাহী মহানগরীর এক রিকশাচালক জীবিকার প্রয়োজনে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও রিকশাবিস্তারিত পড়ুন













